এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আপনি কি এই তথ্যগুলি জানেন?

আপনি কি এই তথ্যগুলি জানেন?
১ভারতীয় উপমহাদেশ ব্যতীত গোটা বিশ্বের মুসলমানরা রমজানকে রামাদান বলে, শুধুমাত্র ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের নকল লুকোতে এরা রমজান বলে, রামাদান সংস্কৃত শব্দ রামজ্ঞান এর অপভ্রংশ!
২। কাবা শরীফ একটি শিবমন্দির ছিল, মুসলমানরা হজ করার সময় হিন্দু রীতি অনুসারে কাবা শরীফকে মন্দিরের মত প্রদক্ষিণ করে, একে সজদা বলে!
৩। মহম্মদের পূর্বে পুরো আরবে হিন্দু সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল ,হজরত মহম্মদের নিজের কাকা Pagan বা, হিন্দু ছিলেন. তিনি শয়ার উল ওকুল নামে একটা বই লিখেছিলেন, পরে তাঁকে হজরত মহম্মদ মেরে ফেলেন !
৪। মুসলিমদের নামাজ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ নমস থেকে যার অর্থ সামনের দিকে ঝুঁকে শ্রদ্ধা জানান বা নীচু হওয়া!
৫।মুসলিমদের দিনে ৫ বার নামাজ পড়া হিন্দুদের বেদের ত্রিসন্ধ্যা আহ্নিক ও পঞ্চ মহাযজ্ঞের নকল!
৬। মুসলমানদের উৎসব শবেবরাত হিন্দুদের শিবরাত্রি উৎসবের অপভ্রংশ, মক্কার বিখ্যাত মক্কেশ্বর মহাদেবের মন্দির ছিল, সেখানে ধুমধাম সহকারে শিবরাত্রি উৎসব পালিত হত, সেইটি বন্ধ করে মহম্মদ শবেবরাত উৎসব চালু করেন!
৭। নামাজের পূর্বে শরীরের ৫ অঙ্গ ধোওয়া হিন্দুদের বেদের সন্ধ্যা আহ্নিকের পূর্বে পঞ্চাঙ্গ শৌচের নকল!
৮। ঈদ উল ফিতর হল হিন্দুদের পিতৃপুরুষদের স্মৃতি চারণ বা শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের নকল!
৯। গ্যারহারি শরীফ হল আমাদের একাদশী ব্রতের নকল, হিন্দুদের পুরাণের নকল হল কুরাণ, হিন্দুদের মল মাস হল মুসলিমদের সফর মাস।Sukumar Sarker Srabon

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে রাধা ও কৃ্ষ্ণের চরিত্রের স্বরূপ : # (পর্ব-২)





শ্রীকৃষ্ণের নাম অধিকাংশ সময়েই রাধা এর সাথে উচ্চারিত হয়।বর্তমান সময়ে রাধা ব্যতীত কৃষ্ণমন্দির খুঁজে পাওয়া বিরল।কৃষ্ণ ভজনে কৃষ্ণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ন উপাদান ই হয়ে গিয়েছেন তিনি!একবার রাধা নাম নেয়াইতো নাকি তিনবার কৃষ্ণ নাম নেয়ার সমতূল্য!
আজকের লেখার মূল উদ্দেশ্য ইহল রাধা চরিত্রটির উপর আলোকপাত করা।কতটুকু সত্য এই চরিত্রটি?এটা সর্বজনসম্মত যে মহাভারত এ রাধা এর উল্লেখ নেই,১৮টি পুরান এর প্রথম সতেরটিতেও নেই,নেই হরিবংশে এমনকি নেই বৈষ্ণবদের মূল উত্‍স বিষ্ণু পুরানেও বা তাদের মূল প্রেরনা ভাগবতামেও।
প্রশ্ন হল এতই যদি গুরুত্ব এই রাধা এর,তবে মহর্ষি ব্যসদেব একবার উচ্চারন পর্যন্ত করলেন না নামটি!আর মহাভারত যুগের পর একের পর এক সৃষ্ট হওয়া ভাগবতাম অব্দি বৈষ্ণব সাহিত্যগুলোতেও চরিত্রটির কোন উল্লেখ নেই।
এর কারন এই যে মূলত ওই সময়ে রাধা নামক কারো অস্তিত্বই ছিলনা,শ্রীকৃষ্ণের রাধা নাম্নী কোন বান্ধবীও নয়!
তাহলে কোথা থেকে এই রাধার উত্‍পত্তি ঘটল?
বিস্তারিত জানার পূর্বে সংক্ষেপে এটুকু জেনে নেই যেরুপকথা মতে বৃন্দাবনের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত নন্দরাজ এর বন্ধু বৃষভানু ও কৃতিকুমারীর কন্যা শ্রীমতি রাধারানী।বৃষভানু ও কৃতিকুমারী আগের জন্মে ছিলেন সুচেন্দ্র ও কলাবতী যারা ব্রহ্মা কর্তৃক বরপ্রাপ্ত হয়েছিলেন যে পরবর্তী জন্মে শ্রীলক্ষ্মীতাদের ঘরে কন্যা হয়ে জন্মাবেন।এক মেলায় নন্দরাজ সপরিবারে বৃন্দাবনে গেলে নন্দরাজের সাথে তাদের দেখা হয় এবং সেখানেই কৃষ্ণের সাথে রাধার প্রথম সাক্ষাত্‍ হয়।এরপরের ঘটনা সবাই অল্প বেশী বিদিত বটে...এখন দেখি কোথা থেকে এসেছে এই চরিত্রটি।
পুরানসমূহের মধ্যে সর্বশেষলিখিত বা সর্বাপেক্ষা আধুনিক হল ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান।সর্বপ্রথম রাধা চরিত্রটির উপস্থাপন ঘটে এই ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে।এরপর যথাক্রমে কবি জয়দেব এর গীতগোবিন্দ এবং অধুনা লিখিত চৈতন্যচরিতমৃততে তার উল্লেখ হয়েছে।এছাড়া ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান এর ঠিক আগে লেখা ভাগবত পুরানের দশমস্কন্ধে বিশেষ একজন গোপীর কথা থাকলেও রাধা নামটি নেই।
তাহলে এটা পরিস্কার যে প্রথম রাধা চরিত্রের অবতরন ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান এ।দেখেনেয়া যাক এক নজরে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা সম্পর্কে এ পুরানটি কি বলছে-
১)অন্যান্য পুরানের তুলনায় এই পুরানে শ্রীকৃষ্ণের কনসেপ্টটা বেশ ভিন্ন।শ্রীকৃষ্ণ বিষ্ণুর অবতার হলেও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে তিনি তা নন বরং তিনিই ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও শিবএর স্রষ্টা।
২)এই পুরানে গোলকধাম যা শ্রীকৃষ্ণের বাসভূমি তার মর্যাদা বিষ্ণুর বৈকুন্ঠেরচেয়েও বেশী!এখানেই আমরা প্রথম রাধাকে দেখতে পাই যিনি গোলকধামে অন্যান্য দেবীদের সাথে সেখানে প্রতিষ্ঠিত।
৩)এই পুরানে আরেকটি চরিত্র আছে যার নাম বৃজ,যিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলাভের ক্ষেত্রে রাধার প্রতিদ্বন্দী।একদিন যখন শ্রীকৃষ্ণ চুপি চুপি বিরাজের গৃহে যাচ্ছিলেন তখন রাধা এই খবরটি পেয়ে যানএবং তার পিছু নেন।রাধা বৃজের ঘরে পৌঁছলে দ্বাররক্ষী শ্রীদাম তাকে বাঁধা দেন।এদিকে বিরাজ রাধার আগমন সংবাদ শুনে এতই ভয় পান যে তিনি গলে নদী হয়ে যান।কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অলৌকিক ক্ষমতাবলে তাকে আবার পূর্বরুপ ফিরিয়ে দেন।তাদের দুজনের গভীর প্রেমলীলার(সংগম) ফলস্বরুপ তাদের একে একে সাতটি সন্তানএর জন্ম হয়।বৃজ এর অভিশাপে এই সাতটি সন্তান সাতটি নদী হয়ে যায় কেননা শিশুসন্তানগুলো সংগমের সময়নাকি তাদের বিরক্ত করেছিল!অপরদিকে রাধা তাদের এ প্রেমলীলার কারনে এতই রাগান্বিত হন যে তিনি শ্রীকৃষ্ণকে অভিশাপ দেন যেন তাকে আবার পৃথিবীতে জন্ম নিতে হয়।এতে আবার দ্বাররক্ষী শ্রীদাম রাধাকেতিরস্কার করেন ফলশ্রুতিতে রাধা অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে তাকেও অভিশাপ দেন যে শ্রীদাম পরবর্তীতে অসুর হয়ে জন্মাবে।শ্রীদামও রাধাকে অভিশাপ দেন এই বলে যে পরজন্মে রাধা একজন খারাপচরিত্রের মহিলা হয়ে জন্মাবেন।তখন শ্রীদাম ও রাধা উভয়েই পরস্পরকে দেয়া অভিশাপ কাটানোর জন্য শ্রীকৃষ্ণের কাছে যান।তখন শ্রীকৃষ্ণ শ্রীদাম কে বর দেন যে পরজন্মে তিনি অসুর শ্রেষ্ঠ হবেন।অপরদিকে রাধাকে স্বান্তনা দেন এই বলে যে রাধা যখন পৃথিবীতে আসবেন তখন তিনিও তার সাথে আসবেন।
(শ্রীকৃষ্ণ জন্ম খন্ড,অধ্যয়২৩)
শ্রীকৃষ্ণকে রাধার অভিশাপ
হে কৃষ্ণ বৃজকান্ত!গচ্ছ মহৎপুরতী হরে।
কথং দূতীষিমানং লীলং রতি চোর অতি লম্পট।।
মো জগোতো অসি ভদ্র তে গচ্ছ মীমাশ্রামান।।
শশ্বতে মনুষযানং চ ব্যবহারস্য লম্পট।
লভতাং মানুষী যোনি গোলোকাদ ব্রজ ভরতম।।
হে সুশীলে,হে শশিকলে, হে পদ্মাবতি মাধবী।
নিবার্য তাচ্চ্বধূর্ত য কিমস্রত্র প্রযোজতম।।
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান,শ্রীকৃষ্ণ জন্মখন্ড,অধ্যায় ৩,শ্লোক ৫৯,৬০,৬১,৬২)
অনুবাদ-হে কৃষ্ণ,বৃজের প্রিয়তম,তুমি লম্পট,দুশ্চরিত্র।এখন­ তোমাকে আমি চিনেছি,এখান থেকে বেরিয়ে যাও।তুমি যৌনতাড়নায় তাড়িত দুশ্চরিত্র,তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি যে তোমাকে পুনরায় জন্ম নিতে হবে।হে শুশীল,হে শশীকল,হে পদ্মাবতী মাধবী,কৃষ্ণ ধূর্ত,তাকে এখান থেকে তুলে নাও,তার এখানে কিছু করার নেই।
সুপ্রিয় পাঠকগন চিন্তা করুন! আমরা কি বিনা কারনে পুরানকে বর্জনের কথা বলি?কি অপুরনীয় ক্ষতি করেছে এই পুরানগুলো আমাদের!যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে একজন দুশ্চরিত্র বানিয়েছে এই বানোয়াট পুরানগুলোই। পুরানলেখকগন যারা মূলত কামসূত্র বিশেষজ্ঞ তাদের কথামতে অবৈধ যৌন সংসর্গের অপরাধে শ্রীকৃষ্ণের ধরনীতে আসার গল্পে আর যেই বিশ্বাস করুক না কেন আর্যরা করবেনা কেননা তারাই শ্রীকৃষ্ণকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।
(চলবে...)

একটি ঘটনা

আমি পাকিস্তানী হিন্দু মেয়ে
আমি ভয় আর আতংকের মাঝে বড় হয়েছি। আমার চারপাশে যে মুখগুলো দেখি তা ভয়ের প্রতিচ্ছবি ছাড়া আমার কাছে আর কিছু মনে হয় না। আমি নিশ্চিত আমার জন্মের পর পিতা মাতার মুখেও ভয়ের ছাপ দেখা দিয়েছিল কারণ আমি একজন পাকিস্তানি হিন্দু ঘরে মেয়ে হিসেবে জন্ম নিয়েছি। কেন আমি আমার বাবা মার জীবনে ভয় এনেছিলাম? আমি বড় হচ্ছিলাম এবং চিন্তা করতাম। কিন্তু আমি কোন সমাধান খুজে পেতাম না। আমি কি বোকা ছিলাম!
বুঝতে না বুঝতেই স্কুলে ভর্তি হলাম। স্কুলের জীবন ছিল আরামদায়ক। কিন্তু মাঝে মাঝে আমাকে অনাহুত বলে হত। ধর্মীয় সংখ্যাগুরুরা আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাত। আমার ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত দিত। কিন্তু তাদের বিশ্বাস রক্ষার জন্য রয়েছে ব্লাসফেমি আইন। যখন তারা আমার সাথে কোন কিছু খেতে বা কোন কিছু পান করতে অস্বীকৃতি জানাত তখন বুঝতাম আমি পাকিস্তানি হয়ে উঠতে পারি নাই।
বাড়ির অবস্থাও ভিন্ন ছিল না। মা আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন স্কুলজীবন সম্পর্কে। হয়ত তিনি আমার মুখে এমন কিছু শুনতে চাইতেন যা তাকে তার অজানা ভয় থেকে মুক্তি দিবে। কিন্তু তা হত না। বুঝতে পারলাম জীবনের শুরুতেই আমার মা আমার বন্ধু হতে পারছেন না।

বেড়ে উঠা সহজ ছিল না।এবং একদিন তা ঘটলো। যে ভয় আমার মা পেতেন, যে ভয় সকল পাকিস্তানী হিন্দু মা বাবা পান তা একদিন সত্য হয়ে এল আমার জীবনে। কান্ধকোটের একটি বড় বাজার থেকে আমাকে অপহরণ করা হল। অপহরণকারী আর কেউ ছিল না। আমাদের মন্দিরের প্রহরী।

সে আমাকে এমন এক জায়গাতে নিয়ে গেল যে জায়গা আমি আগে দেখিনি। আমি ভয়ে চিৎকার দিলাম। কিন্তু সে আমাকে জোরে ধমক দিল এবং চুপ থাকার হুমকি দিল। ঘটনার আকস্মিকতা বুঝতে না বুঝতেই সে একটা নির্জন বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামাল।


আমরা একটি বড় ঘরে প্রবেশ করলাম। সেই ঘরে কোন ফার্নিচার ছিল না। ছিল শুধু একটি কার্পেট। আমাকে সেই কার্পেটের উপর বসতে বাধ্য করা হল।

আমি জানতাম না আমার ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে। আমার মনের পাতায় ভেসে উঠল সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা। হিন্দু মেইয়েদের অপহরণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তর। আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। আমার চোখের সামনে বায়স্কোপের মত ভেসে উঠল আমার জীবনের ইতিহাস। মায়ের চোখের আতংক, বাবার সতর্কবার্তা এবং আমার অসহায় চেষ্টা একজন প্রকৃত বন্ধু খুঁজে পাওয়ার আশা।
আমার জীবনের সবথেকে খারাপ আশংকা সত্য প্রমাণিত হল যখন তুরবান পরিহিত এক লোক ঘরে ঢুকে আমাকে এমন এক ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা দিতে লাগলো যেটার কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। কিন্তু কখনও তা গ্রহণ করার ইচ্ছা জাগে নাই। সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বকবক করতেই থাকল কিন্তু আমি তাতে কান দিলাম না। এটা সে বুঝল এবং এই স্থান ত্যাগ করার আগে আমাকে ‘সত্য ধর্ম’ গ্রহণের হুমকি দিল।

আমার মনে কোন ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠল না। আমি শুধু ভাবতে লাগ্লাম আমার পিতা মাতা কেন এই দেশ ত্যাগ করেন নাই যখন তাদের সামনে সুযোগ ছিল? কেন বছরের পর বছর আতংকের ভিতর কাটাতে হচ্ছে তাদের এমন এক সমাজে যা ভিন্ন ধর্ম্যালম্বিদের মানুষ বলে গণ্য করে না? আমি কি সেই মেয়েদের মত ভাগ্যবরণ যারা এই ‘সত্য ধর্মের ‘ অনুসারীদের হাতে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত হয়েছিল?একটি একটি করে দিন যায় আর নির্যাতন বাড়তে থাকে। প্রতিদিন তারা আমাকে তাদের ধর্ম গ্রহণ করতে বলত। যখন তারা ব্যর্থ হল তারা আমাকে হুমকি দিল।


রুটিন এভাবেই অব্যাহত ছিল। মৃত্যুর হুমকি থেকে বেহেশতের লোভ যা সুনে আমার মত ‘ অবিশ্বাসী ’ শুধু বিস্মিত হতাম এই ভেবে আমরা কি সবাই এক ঈশ্বরেরই উপাসনা করি না? সেই ঈশ্বর যিনি সকল আনন্দ, বেদনা, রং এবং প্রকৃতির মাঝে প্রকাশিত। আথলে কেন কি আমাকে হিন্দু বলে শাস্তি দিবেন?

এরপর আমাকে ভয় দেখানো হল আমার পরিবারকে তারা ক্ষতি করবে। এরপর আমাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করা হল একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবং এক অপরিচিত লোককে বিয়ে করতে বাধ্য করা হল। তারা সেই লোকটিতে বলতে লাগল ত্রাণকর্তা যে আমাকে এক অবিশ্বাস আর পাপের জগত থেকে উদ্ধার করে এনেছে সত্যের পথে।অনুষ্ঠানের পর আমাকে নিয়ে যাওয়া হল স্থানীয় আদালতে যেখানে একজন মুসলিম ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনত ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করলেন এবং আমার বিবাহ লিপিবদ্ধ করলেন।


আমার ধর্মান্তর এবং মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করার খবর দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ল।
আমি ভয় পাচ্ছিলাম আমার বাবা মার সাথে দেখা করার। আমি কখনই চাইনি তাদের দুঃখক্লিষ্ট মুখ দেখতে। আমার মা কে আদালতে দেখলাম এবং তার মুখ আমার যেন মৃত্যু ঘটাল।

আমি তাকে বলতে চাইলাম আমি তাকে ভালোবাসি। আমি ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছি তাদের নিরাপত্তার জন্য।

আমি আমার বাবাকে বলতে চাইলাম আমার বোনদের নিরাপদে রাখতে।

আমি আমার ভাইদের বলতে চাইলাম এই দেশ ত্যাগ করতে।
আমি আরও বলতে চাইলাম আমি কেন একজন মেয়ে হিসেবে না জন্মালাম?

আমি কেন পাকিস্তানে জন্মালাম?

আমার নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার কেন পেলাম না?

আমি কেন এমন ধর্মে দীক্ষিত হলাম যেটা পালন করার কোন ইচ্ছা আমার নাই?

আমি সবাইকে বলতে চাইলাম ঈশ্বর একজনই এবং প্রত্যেকের নিজের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।যে মুখগুলো আমি এতদিন ধরে চিনতাম তাদের দিকে তাকালাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম নিজেকে “আমি কে? “

আমি একজন কিন্তু অনেকের সমন্বিত যন্ত্রণা। আমি রচনা কুমারী, রিঙ্কেল কুমারী, মনীষা কুমারী এবং নাম না জানা আরও অনেক হিন্দু মেয়ে যাদের কে পাকিস্তানে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। আমি তাদের পরিবারের ভয় আতংক এবং যে জ্বালা যন্ত্রণা তারা দিনের দিনের পর দিন বহন করে চলেছে। আমি সেই সব মেয়ের প্রতীক যারা দিনের পর দিন অবর্ণনীয় জ্বালা যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আমি একটি অসহিষ্ণু সমাজে বসবাসকারি একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু।


( পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক দি ডন পত্রিকায় ফাইজা মির্জার লেখাটি ২০১২ সালের ২০ আগস্ট প্রকাশিত হয়।)
(Collected)

কৃষ্ণ ও রাধা নামের গানীতিয় যুক্তি

সনাতনের কিছু ক্যানসার যারা রাধা নামক কাল্পনিক চরিত্রের


ভক্ত তারা মানুষকে প্রায়ই বলেন যে একবার রাধা নাম নিলে ৩ বার কৃষ্ণ  নামের সমান হয়। 
সেই সব ক্যানসারদের গানিতীয় যুক্তি দেব।
 রাধা নামে =  ৩ টা কৃষ্ণ নাম
রাধা = ৩কৃষ্ণ
Radha= 3(krishna)
R word ইংরেজি বর্ণমালার১৮ তম
R×A×D×H×A
18×1×4×8×1
=576
 আবার 
3(krishna)
3( k× R×I×s×H×n×a)
3( 11×18×9×19×8×14×1)
3(3792096)
=11376288
কই মিললো না কোথায় 576 আর কোথায় 11376288
আমি শব্দ গুলিকে নাম্বারে কনভার্ট করছি 😇

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাধা চরিত্রের আবির্ভাব

কে এই রাধা। এই চরিত্রটি সর্বপ্রথম ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে দেখা যায়। শ্রীমদ্ভগবতে যা কৃষ্ণর বৃন্দাবনে সময়কাল নির্দেশ করে সেখানে রাধা বলে কেউ নেই।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে কৃষ্ণের চরিত্রকে
কলঙ্কিত করেছে।
রাধা চরিত্র ছাড়া কৃষ্ণের কোনো মূল্য নেই।
রাধা কে? কৃষ্ণের বৃৃৃন্দাবন ত্যাগের পর রাধার কি হয়েছিল?
বৈষ্ণব কবিদের মতে যা জানা গেছে
১. রাধা কৃষ্ণের মামী।
২.রাধা কৃষ্ণের চেয়ে ১২ বছরের বড়।
অর্থাত কৃষ্ণের জন্মের ১২ বছর আগে রাধার আবির্ভাব ঘটেছে এখন কোন যুগে   ত্রেতা নাকি দ্বাপর বৈষ্ণবরা ও জানেন না।
কৃষ্ণের একটাই মামা  কংস ত রাধা
কি করে কৃৃৃৃষ্ণের মামী হয়?
কৃষ্ণ যখন বৃন্দাবন ত্যাগ করেন তখন তার বয়স ছিল ১১ বছর সেই হিসেবে রাধার বয়স ১১+১২=২৩  বছর অর্থাত রাধা তখন যুবতি।  অর্থাত এভাবে বললে রাধার সাথে কৃষ্ণের কখন  প্রেম হয়
যেহেতু কৃৃৃৃষ্ণের বয়স তখন অল্প। একজন   শিশুর মনে এসব প্রেম বা যৌনতার চিন্তা আসতে পারে না।

কাউন্টার পোষ্ট

#counter_post_from_krishna_sokha
দাবীঃ
Abdullah Al-Amin >
১) সনাতনে ধর্ষনের বিচার কি?
২) নারীরা পিতৃপরিবার থেকে কি পরিমান সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে?
৩) যুদ্দবন্দি নারীদের ইদ্দতের নীতিমালা কি?
৪) মনুসংহিতা ২/২১৩, বলছে ইহলোকে পুরুষের দূষিত করাই নারীদিগের কর্ম।
মনুর বিচারে নারীদের কি অধিকার থাকে?
****পিতৃসম্পত্তির সমবন্টন নিশ্চিতকারী সর্বপ্রথম গ্রন্থ পবিত্র বেদ। অনেক বিধর্মীরা এ ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করলেও একমাত্র বেদই এক্ষেত্রে সাম্য বজায় রেখেছে।
ঋগ্বেদে বলা হয়েছে-
“ন জাময়ে তান্বো রিকথমারৈক্ চকার গর্ভং সনিতুর্নিধানম্। যদী মাতরো জনয়ন্ত বহ্নিমন্যঃ কর্তা সুকৃতোরণ্য ঋন্ধন্।।” ঋগ্বেদ ৩/৩১/২
অর্থাৎ পুত্র কন্যাকে (ভাই তার বোনকে) পিতৃসম্পত্তি থেকে আলাদা করে দেয় না, তা সমানই থাকে। বরং সে তার বোনকে শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলে এবং স্বামীর হাতে তুলে দেয়। পিতা-মাতা পুত্র-কন্যার জন্ম দেন প্রথমজনকে (পুত্রকে) পারিবারিক দায়িত্ব অর্পণের জন্য এবং দ্বিতীয়জনকে (কন্যাকে) পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে।
.
ব্যাখ্যাঃ এই মন্ত্রে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কোন দম্পতির যদি একটি কন্যাসন্তান থাকে তবে পিতৃসম্পত্তির পুরো ভাগটাই সে পাবে, যদি তার ভাই থাকে তবে সম্পত্তি দুজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে, পুত্র কখনোই এককভাবে সম্পত্তি পাবে না। আর ভাইয়ের কর্তব্য হল বোনকে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলা। পুত্রসন্তানের কাজ সংসারের দায়িত্বভার নেয়া আর কন্যাসন্তনকে পিতা-মাতার জন্য পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
@@@@সনাতন ধর্মে ধর্ষণের শাস্তি ---- মনুস্মৃতি--- ৮।৩৭২ পশুমাংসং দাহয়েৎ পাপং শয়নে তপ্ত আয়সে। অভ্যাদধ্যুশ্চ কাষ্ঠানি তত্র দহ্যেত পাপকৃৎ।।
.
★অনুবাদঃ সেই রূপে যে পুরুষ তাহার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া পরস্ত্রী বা বেশ্যাগমন করে বা অন্য স্ত্রীলোককে ধর্ষণ করে,, সেই পাপীকে উতপ্ত লৌহ পালঙ্কে শায়িত করিয়া বহুলোকের সম্মুখে জীবিত অবস্থায় ভস্মীভূত করিবে
★★★★দাসদাসীর প্রতি আচরণবিধি,মনুসংহিতা ও একজন 'নাদিয়া মুরাদ ' এর দুঃখগাথা"
সনাতন ধর্মগ্রন্থ সকলের প্রতি সর্বক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে বলে।এ প্রসঙ্গেবেদের পবিত্র বাণীঃ মনুর্ভবঃ(মানুষ হও)।একজন মানুষ সকলের প্রতিই সমান আচরণ করবে এটাই বিধেয়।সে হোক তার অধীন দাসদাসী বা অন্য কেউ।তাই সনাতন শাস্ত্রে দাস দাসীদের প্রতি অত্যন্ত মানবিক আচরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মনুসংহিতার বিধান নিম্নরূপঃ
भुक्तवत्स्वथ विप्रेषु स्वेषु भृत्येषु चैव हि ।भुञ्जीयातां ततः पश्चादवशिष्टं तु दम्पती ।। (মনুস্মৃতি ৩/১১৬)
অনুবাদঃ
ব্রাহ্মণ আত্মীয় স্বজন ও দাস দাসীদের ভোজনের পর বাকি খাদ্য গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী ভোজন করবে।
मातापितृभ्यां जामीभिर्भ्रात्रा पुत्रेण भार्यया ।दुहित्रा दासवर्गेण विवादं न समाचरेत् ।। (মনুস্মৃতি ৪/১৮০)
অনুবাদঃ পিতামাতা, নারী আত্মীয়া,ভ্রাতা,পত্নী-পুত্র ও দাস-দাসীর সাথে কেউ যেন বিবাদ না করে।
किं चिद् एव तु दास्यः स्यात् संभाषां ताभिर् आचरन् । प्रैष्यासु च-एकभक्तासु रहः प्रव्रजितासु च ।।
(মনুস্মৃতি ৮/৩৬৩)
অনুবাদঃ
এরপরে ও যে তার দাসী বা তপস্বিনীর সাথে গোপনে মিলিত হয়, তার জন্য জরিমানা বিধান রয়েছে।
সিদ্ধান্তঃ
1.দাসদাসীদের খাদ্যসহ সকল মৌলিক অধিকার কর্তা দেবেন।
2.দাসদাসীদের উপর কোনো নির্যাতন ও কলহ করা চলবে না।
3.দাস দাসী ও তপস্বিনী (দেবদাসী)দের সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্কও নিষিদ্ধ।
তবে আমাদের প্রতিবেশী ও তথাকথিত সাম্যের ধর্ম ইসলামে দাসী নারীর প্রতি ব্যবহার দেখে মানুষ কেন,পশুরাও বোধহয় শঙ্কিত হবে।
>>>>মনুসংহিতা ২/২১৩, বলছে ইহলোকে পুরুষের দূষিত করাই নারীদিগের কর্ম।
এইখানে, অধার্মিক নারীকে বুঝানো হয়েছে।
কেননা ধার্মিক, সৎ নারীর হয়,কল্যাণময়ী, গৃহের শোভাবর্দ্ধনকারী, পতি সেবা পরায়ন, শশুরের শক্তিদায়িনী, শাশুড়ীর আনন্দ দায়িনী, গৃহকার্যে নিপুনা হও।
এছাড়াও দেখে নিন
इयमग्ने नारी पतिम्विदेष्ट सोमो हि राजा सुभगा कृणोति । सुवाना पुत्रान्महिषी भवाति गत्वा पति सुभगा वि राजतु ।। অথর্ব বেদ ২/৩৬/৩
অনুবাদঃ হে প্রজাপতি, এই রমণী যেন উপযুক্ত স্বামী পায়। উপযুক্ত সদাচারী স্বামী তাকে সর্বদা খুশি রাখে। এই নারী যেন বংশধারা বহন করে ও তার গৃহের কর্ত্রী হয়ে স্বামীর সঙ্গী হয় ও তাকে উন্নতির পথে পরিচিলিত করে।(বিদ্যানাথ শাস্ত্রী)
भगस्त्वेतो नयतु हस्तगृह्याश्विना त्वा प्र वहतां रथेन । गृहान्नाछ गृहपत्नी यथासो वसिनी त्वं विदथमा वदासि ।। অথর্ব বেদ ১৪/১/২০
অনুবাদঃ
হে নারী,সদাচারী স্বামী যেন তোমার হাত ধরে ঘরে নিয়ে যায়।শ্বশুর শাশুড়ি যেন রথে করে ঘরে নিয়ে গিয়ে সকল আরাম আয়েশ ও নিরাপত্তা প্রদান করে।তোমার নতুন ঘরে নতুন সাথীদের সাথে যাও।সেখানে সংসারের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে সংসারের কর্ত্রী হয়ে সবাইকে সন্মান ও
 #counter_post_from_krishna_sokha
দাবীঃ
Abdullah Al-Amin >
১) সনাতনে ধর্ষনের বিচার কি?
২) নারীরা পিতৃপরিবার থেকে কি পরিমান সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে?
৩) যুদ্দবন্দি নারীদের ইদ্দতের নীতিমালা কি?
৪) মনুসংহিতা ২/২১৩, বলছে ইহলোকে পুরুষের দূষিত করাই নারীদিগের কর্ম।
মনুর বিচারে নারীদের কি অধিকার থাকে?
****পিতৃসম্পত্তির সমবন্টন নিশ্চিতকারী সর্বপ্রথম গ্রন্থ পবিত্র বেদ। অনেক বিধর্মীরা এ ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করলেও একমাত্র বেদই এক্ষেত্রে সাম্য বজায় রেখেছে।
ঋগ্বেদে বলা হয়েছে-
“ন জাময়ে তান্বো রিকথমারৈক্ চকার গর্ভং সনিতুর্নিধানম্। যদী মাতরো জনয়ন্ত বহ্নিমন্যঃ কর্তা সুকৃতোরণ্য ঋন্ধন্।।” ঋগ্বেদ ৩/৩১/২
অর্থাৎ পুত্র কন্যাকে (ভাই তার বোনকে) পিতৃসম্পত্তি থেকে আলাদা করে দেয় না, তা সমানই থাকে। বরং সে তার বোনকে শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলে এবং স্বামীর হাতে তুলে দেয়। পিতা-মাতা পুত্র-কন্যার জন্ম দেন প্রথমজনকে (পুত্রকে) পারিবারিক দায়িত্ব অর্পণের জন্য এবং দ্বিতীয়জনকে (কন্যাকে) পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে।
.
ব্যাখ্যাঃ এই মন্ত্রে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কোন দম্পতির যদি একটি কন্যাসন্তান থাকে তবে পিতৃসম্পত্তির পুরো ভাগটাই সে পাবে, যদি তার ভাই থাকে তবে সম্পত্তি দুজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে, পুত্র কখনোই এককভাবে সম্পত্তি পাবে না। আর ভাইয়ের কর্তব্য হল বোনকে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলা। পুত্রসন্তানের কাজ সংসারের দায়িত্বভার নেয়া আর কন্যাসন্তনকে পিতা-মাতার জন্য পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
@@@@সনাতন ধর্মে ধর্ষণের শাস্তি ---- মনুস্মৃতি--- ৮।৩৭২ পশুমাংসং দাহয়েৎ পাপং শয়নে তপ্ত আয়সে। অভ্যাদধ্যুশ্চ কাষ্ঠানি তত্র দহ্যেত পাপকৃৎ।।
.
★অনুবাদঃ সেই রূপে যে পুরুষ তাহার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া পরস্ত্রী বা বেশ্যাগমন করে বা অন্য স্ত্রীলোককে ধর্ষণ করে,, সেই পাপীকে উতপ্ত লৌহ পালঙ্কে শায়িত করিয়া বহুলোকের সম্মুখে জীবিত অবস্থায় ভস্মীভূত করিবে
★★★★দাসদাসীর প্রতি আচরণবিধি,মনুসংহিতা ও একজন 'নাদিয়া মুরাদ ' এর দুঃখগাথা"
সনাতন ধর্মগ্রন্থ সকলের প্রতি সর্বক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে বলে।এ প্রসঙ্গেবেদের পবিত্র বাণীঃ মনুর্ভবঃ(মানুষ হও)।একজন মানুষ সকলের প্রতিই সমান আচরণ করবে এটাই বিধেয়।সে হোক তার অধীন দাসদাসী বা অন্য কেউ।তাই সনাতন শাস্ত্রে দাস দাসীদের প্রতি অত্যন্ত মানবিক আচরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মনুসংহিতার বিধান নিম্নরূপঃ
भुक्तवत्स्वथ विप्रेषु स्वेषु भृत्येषु चैव हि ।भुञ्जीयातां ततः पश्चादवशिष्टं तु दम्पती ।। (মনুস্মৃতি ৩/১১৬)
অনুবাদঃ
ব্রাহ্মণ আত্মীয় স্বজন ও দাস দাসীদের ভোজনের পর বাকি খাদ্য গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী ভোজন করবে।
मातापितृभ्यां जामीभिर्भ्रात्रा पुत्रेण भार्यया ।दुहित्रा दासवर्गेण विवादं न समाचरेत् ।। (মনুস্মৃতি ৪/১৮০)
অনুবাদঃ পিতামাতা, নারী আত্মীয়া,ভ্রাতা,পত্নী-পুত্র ও দাস-দাসীর সাথে কেউ যেন বিবাদ না করে।
किं चिद् एव तु दास्यः स्यात् संभाषां ताभिर् आचरन् । प्रैष्यासु च-एकभक्तासु रहः प्रव्रजितासु च ।।
(মনুস্মৃতি ৮/৩৬৩)
অনুবাদঃ
এরপরে ও যে তার দাসী বা তপস্বিনীর সাথে গোপনে মিলিত হয়, তার জন্য জরিমানা বিধান রয়েছে।
সিদ্ধান্তঃ
1.দাসদাসীদের খাদ্যসহ সকল মৌলিক অধিকার কর্তা দেবেন।
2.দাসদাসীদের উপর কোনো নির্যাতন ও কলহ করা চলবে না।
3.দাস দাসী ও তপস্বিনী (দেবদাসী)দের সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্কও নিষিদ্ধ।
তবে আমাদের প্রতিবেশী ও তথাকথিত সাম্যের ধর্ম ইসলামে দাসী নারীর প্রতি ব্যবহার দেখে মানুষ কেন,পশুরাও বোধহয় শঙ্কিত হবে।
>>>>মনুসংহিতা ২/২১৩, বলছে ইহলোকে পুরুষের দূষিত করাই নারীদিগের কর্ম।
এইখানে, অধার্মিক নারীকে বুঝানো হয়েছে।
কেননা ধার্মিক, সৎ নারীর হয়,কল্যাণময়ী, গৃহের শোভাবর্দ্ধনকারী, পতি সেবা পরায়ন, শশুরের শক্তিদায়িনী, শাশুড়ীর আনন্দ দায়িনী, গৃহকার্যে নিপুনা হও।
এছাড়াও দেখে নিন
इयमग्ने नारी पतिम्विदेष्ट सोमो हि राजा सुभगा कृणोति । सुवाना पुत्रान्महिषी भवाति गत्वा पति सुभगा वि राजतु ।। অথর্ব বেদ ২/৩৬/৩
অনুবাদঃ হে প্রজাপতি, এই রমণী যেন উপযুক্ত স্বামী পায়। উপযুক্ত সদাচারী স্বামী তাকে সর্বদা খুশি রাখে। এই নারী যেন বংশধারা বহন করে ও তার গৃহের কর্ত্রী হয়ে স্বামীর সঙ্গী হয় ও তাকে উন্নতির পথে পরিচিলিত করে।(বিদ্যানাথ শাস্ত্রী)
भगस्त्वेतो नयतु हस्तगृह्याश्विना त्वा प्र वहतां रथेन । गृहान्नाछ गृहपत्नी यथासो वसिनी त्वं विदथमा वदासि ।। অথর্ব বেদ ১৪/১/২০
অনুবাদঃ
হে নারী,সদাচারী স্বামী যেন তোমার হাত ধরে ঘরে নিয়ে যায়।শ্বশুর শাশুড়ি যেন রথে করে ঘরে নিয়ে গিয়ে সকল আরাম আয়েশ ও নিরাপত্তা প্রদান করে।তোমার নতুন ঘরে নতুন সাথীদের সাথে যাও।সেখানে সংসারের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে সংসারের কর্ত্রী হয়ে সবাইকে সন্মান ও স্নেহের সাথে পরিচালনা করো। (তুলসী শর্মা)
गृह्णामि ते सौभगत्वाय हस्तं मया पत्या जरदष्टिर्यभासः । भगो अर्यमा सविता पुरधिर्मह्य त्वादुर्गार्हपत्वाय देवाः ।।
অথর্ব বেদ ১৪/১/৫০
অনুবাদঃ হে নারী,আমি,তোমার স্বামী তোমার হাত ধরলাম যেন আমাদের পরিবারে সৌভাগ্য আসে ও তুমি সুখী জীবনযাপন করতে পার।ভগ,অর্যমা,সবিতা,পুরন্ধী ও অন্য সকল প্রাকৃতিক সত্তা তোমাকে আমার কাছে উত্তম গার্হস্থ্য জীবনের জন্য পাঠিয়েছে। (তুলসী শর্মা)
सुकिंशुकं वहतुं विश्वरुपं हिरण्यवर्णं सुबृत सुचक्रम् । आरोह सुर्ये अमृतस्य लोकं स्योनं पतिभ्यो बहतुं कृणु त्वम् ।।
অথর্ব বেদ ১৪/১/৬১
অনুবাদঃ
হে বধূ উত্তমরূপে সাজানো পুষ্পশোভিত গার্হস্থ্য জীবনের চূড়ায় ওঠো এবং সদাচারী হয়ে এগিয়ে যাও।তুমি এই নতুন গৃহে নতুন ভোরের সূর্য।গার্হস্থ্য জীবনের মাধ্যমে মুক্তি ও অমরত্বের নতুন দিগন্তে যাও।তোমার পতি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবন মঙ্গলময় করে তোল ও পৃথিবীতে এক টুকরো স্বর্গ রচনা কর। (তুলসী শর্মা)
ঔঁ শান্তি

অর্থবেদ ৬/১১/১-২ নিয়ে কটুক্তির জবাব

শমীমশ্বথ আরুধস্তত্র পুংসবনম কৃতম।
তদ্বৈ পুত্রস্য বেদানাং তস্তত্রীস্ব ভরামসি"।।
"পুংসি বৈ রেতো ভবতি তত্স্ত্রীয়ামনু সিচ্যতে।
তদ্বৈ পুত্রস্য বেদানাং তৎপ্রজাপতিরব্রবীত"।।
(অথর্ববেদ ৬.১১.১-২)
অথর্ববেদ এর এই মন্ত্র দুটি নিয়ে দেখলাম গ্রুপ বেশকয়েকদিন ধরে বেশ সরগরম।
বেদ এমন ই এক সর্বোচ্চ অথোরিটি যে বেদ সম্বন্ধে হাজার হাজার মোল্লা চুনোপুঁটি,যাদের কিনা এক লাইনে কয়েকটা করে বানান ভুল থাকে,যাদের ইংরেজি জ্ঞান দেখলে আজই ব্রিটিশদের স্বাধীনতাসূর্যের অস্ত ঘটে যাবে।।
#পুংসবন কি তা কে না জানে!সাধারণ কাউকে জিজ্ঞেস করলেও সে আপনাকে বলে দেবে!গর্ভবতী মা যেন সুস্থভাবে সুস্বাস্থ্যের সাথে বাচ্চা জন্ম দিতে পারে এজন্য যে অনুষ্ঠান এবং কার্যাবলী তাই হল পুংসবন।
এখানে তিনি অশ্বথ গাছের কথা বলছেন,সেটা তুলসী রাম এর ইংরেজি অনুবাদ থেকে নেয়া,কিছুটা এরকম
-শমী বৃক্ষের উপর রোপিত এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত চারা পুংসবন এর ওষুধ।শমী বৃক্ষ হয়তো চিনতে পেরেছেন।। বিরাটপর্বে পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাসের সময় ছদ্দবেশ নিতে গিয়ে নিজেদের অস্ত্রগুলো যে বৃক্ষের কোটরে লুকিয়ে রেখেছিল সেই গাছটির নাম ছিল “শমীবৃক্ষ”।
মূলত এই বৃক্ষটি মরু অঞ্চলে জন্মায়,এটি ভারতের রাজস্থানের খুব পরিচিত একটি গাছ।তবে এই উদ্ভিদের আলোচনায় একটু পরে আসছি।
কথা হল শমী বৃক্ষের উপর কিভাবে অশ্বথ গাছ রোপণ করা সম্ভব!একটা গাছের উপর কি আরেকটি গাছ রোপণ করা সম্ভব!একটি গাছের উপর আরেকটি গাছই বা কি করে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়!
আবার পুত্র শব্দের অর্থ সন্তান সে ছেলেই হোক বা মেয়ে ঠিক যেমনি বেদে পুরুষ শব্দের অর্থ মানুষ,তা যেকোন লিঙ্গের ই হোক না কেন।
শমী বৃক্ষের সাথে যখন অশ্বথ নিকটে/কাছে/সাথে থাকে তখন পুংসবন কৃত হয়।এটা স্ত্রীর(অনাগত সন্তানের মা) জন্য প্রদত্ত জ্ঞান।১
পুংসি বৈ রেতো ভবতি
পুরুষ এ রেত(যেকোন সৃষ্টির কারন,এখানে সন্তানের বীজ) থাকে
তত্স্ত্রীয়ামনু ষিচ্যতে
তা স্ত্রীতে স্থাপিত হয়।
তদ্বৈ পুত্রস্য
তাতেই পুত্র হয়
তৎপ্রজাপতিরব্রবীত
এই হল প্রজাপতি কর্তৃক প্রদত্ত জ্ঞান।প্রথমে ধরে নেই এখানে পুত্র অর্থ হল ছেলে সন্তান,তাও যদি হয় এই মন্ত্রে কোথাও শমী বা অশ্বথ কোন বৃক্ষের কথা ই বলা হয়নি!কোথাও বলা হয়নি অশ্বথ বা শমী বৃক্ষের কিছু খেলে পুত্র সন্তান জন্মাবে!বরং যদি পুত্র অর্থ ছেলে সন্তান ই হয় তাহলে তো বলতে হয় এই মন্ত্রটি আধুনিক বিজ্ঞানের এক অনবদ্য আবিস্কারের কথাই বলেছে কেননা সেক্ষেত্রে এই মন্ত্রের অর্থ দাঁড়াচ্ছে পুরুষ এর প্রদত্ত বীজ এর কারনেই পুত্র সন্তান জন্মায় যা আধুনিক বিজ্ঞান আবিস্কার করেছে যে একমাত্র পুরুষ এর শুক্রানুতে থাকা Y ক্রোমসোম এর কারনেই ছেলে সন্তান হতে পারে!
এখন প্রথম মন্ত্রটি খুব চমকপ্রদ!শমী বৃক্ষ যার বৈজ্ঞানিক নাম
 Prosopis cineraria
এটি ভারতে মূলত খেজরি গাছ হিসেবে পরিচিত।এই গাছটির আয়ুর্বেদ গুণ এক কথায় চমকপ্রদ কেননা এর এমন কোন অংশ নেই যা মানুষের কোন না কোন অসুখ সারানোর কাজে লাগেনা যার কারনে একে ‘কল্পতরু’ এবং ‘মরুর রাজা’ বলে অভিহিত করা হয়।১৯৮৮ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ ডে তে ভারতের ডাকবিভাগ এই খেজরি গাছের ছবি সম্বলিত একটা স্ট্যাম্প প্রকাশ করে এর ঔষধি তাৎপর্য এর কথা মাথায় রেখে।
আয়ুর্বেদ এ বলা হয়েছে-
“শমী তিক্ত কটু শীতা কাশায়া রেচ লঘু
কফকাশাভ্রমস্বসাকুষ্ঠরসা ক্রিমিজিত স্মৃতা.....”
অর্থাৎ শমী বৃক্ষ তিক্ত,কটু স্বাদের যা কাশি,কফ,কনসটিপেসন,মাথা ঘোরানো,ক্রিমি,শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগের ঔষধ।
এই বৃক্ষের উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রচুর প্রবন্ধ রচিত হয়েছে,তবে এ নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত একটি গ্রন্থ হল Kenneth G Zysk এর Religious Healing in the Veda : with Translations and Annotations of Medical Hymns from the Ṛgveda and the Atharvaveda and Renderings from the Corresponding Ritual Texts যাতে তিনি এই শমী বৃক্ষসহ বিভিন্ন বৃক্ষের আয়ুর্বেদিক গুণ বর্ণনা করেছেন।
মজার বিষয় কি জানেন?এই গাছের বাকলের গুঁড়ো চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে তা গর্ভবতী মায়ের মিসকেরিয়েজ(সন্তান গর্ভে নষ্ট হওয়া) এর সম্ভাবনা কমে যায় এবং এর পাতা Estrogenic অর্থাৎ এটি মায়ের জরায়ুর গঠন সুসংগঠিত করে বাচ্চা ধারন এবং সঠিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।”
(The treatise on Indian Medicinal plants in India,Vol 11,Page 112,Pakrashi and Chatterje)
অপরদিকে যেহেতু আগেই আমি উল্লেখ করেছি যে শমী বৃক্ষের উপর রোপিত বা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অশ্বথ বৃক্ষ যেহেতু সম্ভব নয় তাহলে এখানে অশ্বথ কোন বৃক্ষ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলেই ধরে নেয়া উচিৎ।আমরা জানি যে বৈদিকভাবে অশ্বথ হল ব্রহ্ম এর একটি নাম(কঠউপনিষদ) এবং পৌরাণিকভাবেও শিব এবং বিষ্ণুর অপর নাম অশ্বথ।নিঘণ্টু অনুযায়ী “অশ্বথ” এর সন্ধি হল শ্ব(আগামীতে) থ(যা থাকবে) অর্থাৎ যা সবসময় ই থাকবে(ঈশ্বর)।
সে হিসেবে প্রথম মন্ত্রের অর্থ দাঁড়ায় এরকম
শমীমশ্বথ আরুধস্তত্র পুংসবনম কৃতম।
তদ্বৈ পুত্রস্য বেদানাং তস্তত্রীস্ব ভরামসি।।
শমীমশ্বথ আরুধ স্তত্র
শমীবৃক্ষ এর ঔষধি গুনের সাথে(উপরে) ঈশ্বর এর আশীর্বাদ(অশ্বথ এর উপস্থিতি) এ পুংসবন(গর্ভে বাচ্চার বৃদ্ধি ও রক্ষা) কৃত হয়।
তদ্বৈ পুত্রস্য
তাতে পুত্র(সন্তান) হয় এই হল
তস্তত্রীস্ব
স্ত্রী(গর্ভধারনকারী মা)
বেদানাং ভরামসি
এর জন্য জ্ঞান(পরামর্শ)