এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

বেদে মন্ত্র

ঋচো অক্ষরে পরমে ব্যোমন্ যস্মিন্দেবা অধিবিশ্বে নিষেদুঃ।
যস্তন্ন বেদ কিমৃচা করিষ্যতি য ইত্তদ্বিদুস্ত ইমে সমাসতে।।
ঋগ্বেদ-- ( ১/১৬৪/৩৯)
বঙ্গানুবাদঃ-- যে বেদ প্রতিপাদিত, নাশ রহিত, সর্বোৎকৃষ্ট, সর্ব ব্যাপক ব্রহ্মে পৃথিবী সূর্যাদি লোক লোকান্তর আধেয় রূপে স্থিত রহিয়াছে সেই পরব্রহ্মকে যিনি জানেন না তিনি চারিবেদ দ্বারা কি করিবেন?
যিনি সেই পরব্রহ্মকে জানেন তিনি ব্রহ্মে স্থিতি লাভ করেন।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

মুসলিমের চুলকানির জবাব

❌জাকের নায়েকের মিথ্যা যুক্তি,,,
বেদে কি মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ?
জাকের নায়েক রেফারেন্স দিল,,👇👇
হিন্দু ধর্মে মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ। রেফারেন্স সহ প্রমান দিলামঃ
====================================
❌১. না তাস্তে প্রাতীমা আস্থি ( রীগ বেদ ৩২ অধ্যায় ৩ নং অনুচ্ছেদ )
অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন প্রতি মূর্তি নেই,ছবি নেই,গ্রাফিকস নেই,ভাস্কর্য নেই,বিগ্রহ নেই
✅জবাব: প্রতিমা এটি সঙ্কাকৃত ভাষা
সংস্কৃতে প্রতিমা শব্দের" প্ৰতিম" 
আ প্রত্যই যোগে নিষ্পন্ন,। প্রতিম শব্দের অর্থ অতুলনীয়,,
প্রতিম শব্দ থেকেই প্রতিমা শব্দটি এসেছে,,
ন তস্য প্রতিমা অস্তি
অর্থ: তার কোনো তুলনা নেই
আরো ভেঙে বললে হয় তার তুল্য কেউ নেই,,,
জাকের নায়েক ওখানে ভুল অর্থ দেখিয়েছে,,
বাংলা বা হিন্দি গ্রামার দেখেন সেখানে পাবেন প্রতিমা সংস্কৃত ভাষা ,,যার বাংলা আভিধানিক অর্থ বুঝায় মূর্তি বা বিগ্রহ,
এখানে বাংলা গ্রামার কি দেখালো সেটা না দেখে সংস্কৃত ভাষায় প্রতিমা কি অর্থে ব্যবহূত হয়েছে সেটাই আমাদের নিতে হবে,,,
যেমন কোটি এটা সংস্কৃত ভাষা ,,এর অর্থ প্রকার
কিন্তু বাংলায় কোটি একটা সংখ্যা জাতীয়
বাংলা আর সংস্কৃত এক নই এখানে,,
✅দেব দেবীদের মূর্তি বলে সম্বোধন করা মূর্খের পরিচয়,,
যুক্তি: 1_ বেদ বলে জিব দেহ আগুন,জল,বাতাস, মাটি দ্বারা তৈরী,
কুরআন ও তাই বলে,,,
বিজ্ঞান দ্বারা ও এখন এটা প্রমাণিত,,
তাহলে মানব দেহ জল,মাটি,বাতাস অগ্নি দ্বারা তৈরি,
তাহলে দেব দেবীর বিগ্রহ কে যদি মূর্তি বলে ডাকা হয়,,
তাহলে মানুষকেও মূর্তি বলে ডাকবেন,,বিজ্ঞান বলছে জিব মাটি দ্বারা তৈরী
মানুষকে জল বলে ডাকবেন,,বিজ্ঞান বলছে জিব জল দ্বারা তৈরি
মানুষকে বাতাস বলে ডাকুন,,,বিজ্ঞান বলছে জিব বাতাস দ্বারা তৈরী,,
✅এখন এখানে যেমন মানুষকে মাটি,জল ,বাতাস নামে সম্বোধন করা বোকামি
ঠিক তেমনি দেব দেবীর মূর্তি কে শুধু মূর্তি বলে সম্বোধন বলে ঢাকা বোকামি,,
শুধু মূর্তি বলতে অনেক কিছুই বুঝায়,,
কিন্তু এখানে যদি দেব দেবীর মূর্তি বলে ঢাকেন ,
তাহলে এখানে আমরা স্পষ্ট যে দেব দেবিকেই সম্বোধন করা হয়েছে,,,,
যুক্তি :2_ How are you?
এখানে how এর 3টা অর্থ,,
কেমন ,কত ,কিভাবে
কিন্তু এখন যদি কোন মূর্খ অর্থাৎ ইংরেজি গ্রামার ই জানে না
তার পক্ষে বলা টা স্বাভাবিক,
How are you= তুমি কত আছ?😦 
ইতিহাস টা এখন বুঝে নিন,,😎
❌২. যারা নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তাঁরাই মূর্তি পূজা করে ( ভগবৎ গীতা অধ্যায় ৭, অনুচ্ছেদ ২০ নম্বর ) ।
রেফারেন্স সহ দিলাম ।
জবাব : মূর্তি কি আর দেব দেবীর মূর্তি কি সেটা তো বললাম ই,,,👈
✅রেফারেন্স দেখি কি বলে
কামৈস্তৈস্তৈর্হৃতজ্ঞানাঃ প্রপদ্যন্তেন্যদেবতাঃ৷
তং তং নিয়মমাস্থায় প্রকৃত্যা নিয়তাঃ স্বয়া৷৷২০
অর্থ: যাদের মন জড়-কামনা বাসনা দ্বারা বিকৃত তারা দেব-দেবীর শরণাগত হয়ে এবং তাদের স্বীয় স্বভাব অনুসারে নিয়ম পালন করে দেবতাদের উপাসনা করে।
গীতা:7/20
মুসলিমদের রেফারেন্স টা দেখেন এখন,,কিভাবে মিথ্যা বলে সাধারণ মানুষদের ব্রেন ওয়াশ করাচ্ছে,,
জোড়,বাসনা,কামনা দ্বারা কি বুঝি আমরা?
আমার মন চায় ব্যবসায় অনেক লাভবান হওয়া,,
তাই আমি গণেশ দেবতার পূজা করবো,,এটাই আমার কামনা ,বাসনা
জ্ঞান ,বিদ্যায় আমি আরো এগিয়ে যেতে চাই,,তাই আমি স্বরস্বতি দেবীর পূজা করবো এটাই আমার জোর,বাসনা কামনা,,✅
তো মুসলিমদের রেফারেন্স টা দেখেন,,আর আমার টা দেখেন কোথায় বলা আছে বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে কথাটা🤔
✅ আমি জড় এবং চেতন জগতের সবকিছুর উৎস। সবকিছু আমার থেকে প্রবর্তিত হয়। সেই তত্ত্ব অবগত হয়ে যারা শুদ্ধ ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন তারাই যথার্থ তত্ত্ব জ্ঞানী।
গীতা:::10/8
❌৩. হিন্দুরা অনেক দেব দেবির পুজা করলেও হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে হিন্দুদের কেবল মাত্র এক জন ইশ্বরের উপাসনা করতে বলা হয়েছে॥
বেদের ‘ব্রহ্ম সুত্র’ তে আছে “একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চন” অর্থাৎ ইশ্বর এক তার মত কেউ নেই কেউ নেই সামান্যও নেই । আরও আছে “সে একজন তারই উপাসনা কর” (ঋকবেদ ২;৪৫;১৬)।
“একম এবম অদ্বৈত্তম” অর্থাৎ সে একজন তাঁর মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১;২;৩) ।
“এক জনেই বিশ্বের প্রভু” (ঋকবেদ ১০;১২১;৩) ।
জবাব: যথার্থ বলেছেন,,আমরা এক ঈশ্বর কেই উপাসনা করি,,
আমরা একেশ্বরবাদী,,,বহু ঈশ্বরবাদী না🙂
নিরাকার রূপে তিনি ঈশ্বর 
সাকার রূপে তিনি দেব দেবী✌️
❌৪. হিন্দু ধর্মে মুর্তি পুজা করতে নিষেধ করা হয়েছে॥
ভগবত গীতা – অধ্যায় ৭ – স্তব ২০ - [ যাদের বোধশক্তি পার্থিব আকাঙক্ষার মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধু তারাই উপদেবতার নিকটে উপাসনা করে। ]
জবাব:: এক রেফারেন্স আর কতবার ,ভিন্ন বাংলা অর্থ দিয়ে বুঝাবেন,,
উপরে যেয়ে দেখুন,,🤟7/20
❌৫. ভগবত গীতা – অধ্যায় ১০ – স্তব ৩ -
[ তারা হচ্ছে বস্তুবাদি লোক ,তারা উপদেবতার উপাসনা করে ,তাই তারা সত্যিকার স্রস্টার উপাসনা করে না।]
জবাব:: উক্ত রেফারেন্স এ গেছি,,কিন্তু যাইয়া দেখি অন্য কিছু,,,,,
যো মামজমনাদিং চবেত্তি লোকমহেশ্বরম্৷ 
অসম্মূঢ়ঃ স মর্ত্যেষু সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে৷৷৩
অর্থ: যিনি আমাকে আদিহীন জন্মরহিত ও সর্বলোকের মহেশ্বর বলে জানেন, মানুষের মধ্যে তিনিই মোহশুন্য হন এবং সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন।
গীতা:10/3
৬. যজুর্বেদ – অধ্যায় ৪০- অনুচ্ছেদ ৯ –
[ অন্ধতম প্রভিশান্তি ইয়ে অশম্ভুতি মুপাস্তে – যারা অশম্ভুতির পুজা করে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তারা অধিকতর অন্ধকারে পতিত হয় শাম মুর্তির পুজা করে । অশম্ভুতি হল – প্রাকৃতিক বস্তু যেমন- বাতাস,পানি,আগুন । শাম মুর্তি হল – মানুষের তৈরী বস্তু যেমন - চেয়ার ,টেবিল ,মূর্তি ইত্যাদি।
জবাব:: হিন্দুরা বাতাস ,,আগুন,পানি কে পূজা করে না,
তবে এখানে আগুন আর পানি পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহূত হয়,,
আগুন,আর পানি কে পূজা করা হয় না,,✌️
আর মানুষের তৈরী চেয়ার ,টেবিল খাট,মূর্তি ,
কিছু বলার আছে🤟??
তো প্রমাণিত: বেদ বলে নাই যে দেব দেবীর পূজা নিষিদ্ধ,,
জাকের নায়েক এর বেশির ভাগ লেকচারের উপরের রেফারেন্স গুলি থাকতো,,তার উদ্দেশ্য অমুসলিমদের 
কোরআনের দিকে ধাবিত করা,,
from:Arya Msd

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

কৃষ্ণ পুজা কি তামসিক?

কাউন্টার
কিছু অার্য নামক অনার্যরা পৌরনিক দের পিছনে লাগতে গিয়ে গীতাকে অমান্য করে আসুন
দেখি তাদের ধারনা কতটুকু

গীতা ৪র্থ অধ্যায়ে আমরা দেখতে
পাই
শ্লোক:1:
শ্রীভগবানুবাচ
ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্ ।
বিবস্বান্মনবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীৎ ।।১।।
অনুবাদ : পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন- আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবশ্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ বলেছিলাম। সূর্য তা মানবজাতির জনক মনুকে বলেছিলেন এবং মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন।

এই শ্লোকের দ্বারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে জ্ঞানের কথা অর্জুন কে বলেছেন তা তিনি বহু আগে সূর্যদেব কে বলেছেন

এখন প্রশ্ন হতে পারে যে কৃষ্ণ কি করে সূর্যদেবকে বহু গোপনীয় জ্ঞান দিলেন। কারন সূর্যদেবের জন্ম  বহু আগে।
এই প্রশ্নই  অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে করেছিলেন
এখন দেখি তার উত্তর
শ্লোক:5:
ভগবান উবাচ
বহূনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন ।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ ।।৫।।
অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পরন্তপ অর্জুন ! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে ৷ আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না।

এখানে শ্রীকৃষ্ণ স্বীকার করেছেন যে তার জন্ম হয়েছে।কিন্তু সাধারন ভাবে না কারন সাধারন মনুষ্যরা কখনো তাদের জন্মের কথা মনে করতে পারেন না।
এখন দেখি কৃষ্ণ কিভাবে দেহ ধারন করেন।
শ্লোক:6:
অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানামীশ্বরোহপি সন্ ।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া

অনুবাদ : যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

অর্থাত শ্রীকৃষ্ণ তার মায়া শক্তি দ্বারা জন্ম ধারন করে অবতীর্ণ হন।
এখন কোনো  সাধারন মনুষ্য কি 
এরুপ মায়া শক্তি ব্যবহার করতে পারে সেই সব আর্য নাম অনার্য কাছে আমার প্রশ্ন রয়ে গেল।
আসুন তার (কৃষ্ণ) অবতরনের 
কারন জেনে নিই

শ্লোকঃ 7-8
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ।।৭।।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।৮//

অনুবাদ : হে ভারত ! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যূত্থান হয়, তখন 
সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
 
এখন বোঝাগেল কৃষ্ণ কোন প্রেত৷ বা পিশাচ নই বা কোনো সাধারন মনুষ্য নই।
আর তাকে পুজা করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণ  কি বলেছেন?  আসুন দেখে নিই

শ্লোকঃ 65
মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদযাজী মাং নমস্কুরু।
মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়োহসি মে।।৬৫।।.
 
অনুবাদঃ তুমি আমাতে চিত্ত অর্পণ কর আমাকে পুজা কর আমাকে নমষ্কার কর। তাহা হলে
তুমি আমাকে প্রাপ্ত হবে। যেহেতু 
তুমি আমার অতন্ত্য প্রিয়।

অতএব কৃষ্ণ পুজা কখনো তামসিক না। 

তাছারা গীতা ৪/১৫ তে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেনপ্রাচীনকালে সমস্ত মুক্ত পুরুষেরা আমার অপ্রাকৃত তত্ত্ব অবগত হয়ে কর্ম করেছেন। অতএব তুমিও সেই প্রাচীন মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোমার কর্তব্য সম্পাদন কর।

অতএব এটা সম্পুর্ণ মিথ্যা যে কৃষ্ণ পুজা তামসিক।

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০

বেদ বাণী

#পবিত্র_বেদ_বাণী :
ওঁ ভূর্ভুব স্বঃ ,
তৎ সবিতুর্বরেণ্যমং ,
ভর্গো দেবস্য ধীমহি ।
ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ ।। ওঁ ।।
অর্থঃ যিনি ত্রিলোক স্রষ্টা সমগ বিশ্ব জগতের প্রসবিতা, সেই সচ্চিদানন্দ পরব্রহ্মের বরণীয় জ্যোতিকে আমরা ধ্যান করি তিনি আমাদের মন ও বুদ্ধিকে শুভ কার্য, প্রেরণা দান করুন ।
ওঁ সংগচ্ছধ্বং সং বদধ্বং সং বো মনাংসি জানতাম্ ।
দেবা ভাগং যথা পূর্বে সঞ্জানানা উপাসতে ।। [ ঋগ্বেদ-১০/১৯১/২ ]
হে মনুষ্য , তোমরা সকলে একসঙ্গে চল , এক সঙ্গে মিলিয়া আলোচনা কর, তোমদের মন –উত্তম সংস্কারযুক্ত হউক । পূর্বকালীন জ্ঞানী পুরুষেরা যেরুপ সম্মিলিত হয়ে কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করিয়াছেন তোমরাও সেরুপ কর ।
ওঁ সমানো মন্ত্রঃ সমিতিঃ সমানী সমানং মনঃ সহ চিত্তমেষাম ।
সমানং মন্ত্রমভিমন্ত্রয়ে বঃ সমানেন বো হবিষা জুহোমি ।। [ ঋগ্বেদ-১০/১৯১/৩ ]
তোমাদের সকলের মত এক হউক, মিলনভূমি এক হউক , মন এক হউক, সকলের চিত্ত সম্মিলিত হউক,তোমাদের সকলকে একই মন্ত্রে সংযুক্ত করিতেছি , তোমাদের সকলেল জন্য অন্ন ও উপভোগ একই প্রকারের প্রদান করিতেছি ।
ওঁ সমানী ব আকৃতিঃ সমানা হৃদয়ানি বঃ ।
সমানমস্তু বো মনো যথা বঃ সুসহাসতি ।। [ ঋগ্বেদ-১০/১৯১/৪ ]
তোমাদের সকলের লক্ষ্য সমান হউক । তোমাদের সকলের হৃদয় সমান হউক । তোমাদের সকলের মন এক হউক , তোমাদের সকলের সুন্দর ঐক্য যাহাতে হয় সেইরূপ হউক । এইভাবে তোমাদের সকলের শক্তি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হউক ।
copy: Niranjun Kumer Niranjun Kumer

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

বেদের বৈজ্ঞানিক সতত্বতা




বেদ এর তথাকথিত বৈজ্ঞানিক ভুলের কাপড় খোলা জবাব :
ফটো হিসেবে এক হুর লোভী বান্দা, মানে মুমিনের যে স্ট্যাটাসটি পোস্ট করেছি, তার জবাব দেওয়াই আমার এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য, তাই কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক-
শুরুতেই সে লিখেছে, "আচ্ছা ঈশ্বর নিশ্চই স্বর্ব জ্ঞানী। তাহলে তো ঈশ্বর কখনো ভুল করতে পারেনা তাইনা ? কিন্তু চারটা বেদ গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ পড়তে গিয়েই বিধিবাম!!বেদে তো দেখছি ভুলের ছড়াছড়ি। বিশ্বাস হচ্ছেনা আমার কথা? তবে দেখুন”
- এর কথা শুনে মনে হচ্ছে, এ বেদ বিষয়ে এক মহাপণ্ডিত, যে চারটা বেদ পড়ে ফেলেছে এবং তাতে ভুলের ছড়াছড়ি দেখতে পেয়েছে ! কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, যে এই স্ট্যাটাসটা পোস্ট করেছে, সে কোনোদিন বেদ চোখে দেখেছে কিনা আমার সন্দেহ; কারণ, এই একই স্ট্যাটাস আমি আরো অনেক জায়গায় অনেকের নামে দেখেছি, তাই যারা বা যে এই স্ট্যাটাসটা পোস্ট করে, তারা জাস্ট কপি পেস্ট করে মাত্র।
এরপর মুমিন লিখেছে, “ সাভাবিক চোখে আকাশকে একটি শক্ত ঢাকনা বা আবরনের মত দেখায় যা আমাদের মাথার উপরে বিরাজ করে। বেদের লেখক এই ভ্রম দিয়েই লিখল অথর্ব্বেদ ১১/৩/১১ এ, “প্রথিবী হচ্ছে চাল সিদ্ধ করার কড়াই আর আকাশ তার ঢাকনা“ এখানে রুপক কিছু বলা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।”
- এখানে রূপক কিছু বলা হয়েছে কি না, তা না জেনেই তুই করতে গেলি বেদ এর সমালোচনা এবং তাতে ভুলের ছড়াছড়ি দেখতে পেলি ? আর নিজের এই অজ্ঞানতা নিয়ে বুঝতে পারলি বেদ এর লেখকদের ভ্রম! আমি তো মাঝে মাঝে অবাক হই এটা ভেবে যে, যারা এক প্যারা বাংলা শুদ্ধভাবে লিখতে পারে না, তারা কোন সাহসে যায় বেদ এর মতো মহান জ্ঞানের সমালোচনা করতে এবং তার মধ্যে ভুলও দেখতে পায়! এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, এই মুমিনের স্ট্যাটাস যেভাবে পেয়েছি, সেভাবেই আমি কপি পেস্ট করে তার সমালোচনা করছি, যার একটি ফটোরূপও আপনারা ফটোপোস্ট হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন, সুতরাং মুমিনের স্ট্যাটাসের ভুল বানান বা ভুল বাক্যের জন্য সম্পূর্ণভাবে মুমিনের মূর্খতা ই দায়ী।
যা হোক, মুমিন এখানে অথর্ববেদের যে মন্ত্রটির কথা উল্লেখ করেছে, সেখানে যা বলা হয়েছে, সেটা তো মুমিনই উল্লেখ করেছে, আমি তা শুধু উপরে কপি পেস্ট করেছি মাত্র, এখন আমি শুধু এটা দেখাচ্ছি যে, আসলেই সেটা রূপক অর্থে বলা হয়েছে কি না ।
মুসলমানরা অথর্ববেদের ১১/৩/১১ নং মন্ত্রে যে ভুল দেখতে পেয়েছে, এই ধরণের ভুল তারা পুরো মন্ত্রেই দেখতে পেতো, যদি তারা বেদ খুলে মন্ত্রটি পড়তো। কিন্তু তারা বেদ পড়তে যাবে কেনো, যারা বাংলায় কোরান হাদিস ই পড়ে না, তারা আবার পড়বে বেদ ! যা হোক, এই মন্ত্রটি যে একটি সিম্বলিক মন্ত্র, সে কথা মন্ত্রের শুরুতেই বলা আছে ড. তুলসীরাম অনুবাদিত বেদে, কিন্তু যে কথা বলা হয় নি হরফ প্রকাশনী অনুদিত বেদে, হরফের বেদে অথর্ববেদের মন্ত্রগুলো সাজানোতেও সমস্যা আছে, ১১/৩/১১ রেফারেন্স ধরে হরফের অথর্ববেদ থেকে কেউ এই মন্ত্রটি বেরই করতে পারবে না, কিন্তু আমি বলে দিচ্ছি হরফের বেদে এই মন্ত্রটি আছে ২৪০/২৪১ পৃষ্ঠায়। এই মন্ত্রটি যে পুরোটাই প্রতীকী এবং সাধারণ দৃষ্টিতে যে এই সূক্তের মন্ত্রগুলো একেবারেই ভুল বলে মনে হবে, সেটা এই সূক্তের মন্ত্রগুলো পড়লেই মনে হয়, দেখুন, আমি তুলে দিচ্ছি কয়েকটি মন্ত্র-
“ঘোড়া হলো শস্য, গাভী হলো ধান বা চাল এবং মশা মাছি হলো তুষ।”-(অথর্ববেদ, ১১/৩/৫)
“কালো লোহা হলো এর মাংস এবং লাল বর্ণের ধাতু বা তামা হলো এর রক্ত।” -(অথর্ববেদ, ১১/৩/৭)
“সীসা হলো এর ছাই, সোনা হলো এর রং এবং পদ্মফুল হলো এর সুগন্ধি” - (অথর্ববেদ, ১১/৩/৮)
এখানে আমি মাত্র তিনটি মন্ত্রের উল্লেখ করলাম, কিন্তু এই সূক্তে মন্ত্র আছে ৩১ টি, যার সবগুলোই প্রতীকী, অর্থাৎ এক কথার আড়ালে প্রকাশ করা হয়েছে অন্য কিছু। এভাবেই ১১/৩/১১ নং মন্ত্রে যে বলা হয়েছে, “This eart is the pan for boiling of rice, and the heaven its cover” বা ‘এই পৃথিবী হচ্ছে চাল সিদ্ধ করার কড়াই এবং আকাশ হচ্ছে তার ঢাকনা, এটাও আসলে প্রতীকী; এর মাধ্যমে বেদে, বিজ্ঞানীদের জন্য ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত ‘ওজোন স্তর’ সম্পর্কে একটি ধারণার। বিষয়টি এমন- কোনো পাত্রে চাল সিদ্ধ বা ভাত রান্না করলে তা উদগিরিত বাষ্প যেমন তার পাত্রের ঢাকনাকে ভেদ করতে পারে না বা পাত্রকে তার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখলেও যেমন উপর থেকে কিছু সেই পাত্রের ভেতর ঢুকতে পারে না, তেমনি পৃথিবীতে জীব ও জড়ের ক্রিয়াকর্মের ফলে ধোয়া রূপ যে ক্লোরোফোরোকার্বন বা CFC উৎপন্ন হয়, সেটাও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের দিকে অবস্থিত ওজোনস্তর ভেদ করতে পারে না বা পাত্রের উপর ঢাকনা স্বরূপ সেই ওজোনস্তর ভেদ করে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি, যা পৃথিবীর প্রাণীকূলের জন্য ক্ষতিকর, তা পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারে না।
এভাবে এই মন্ত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞানের একটি সূত্রকে প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু বলদ মুসলমানরা তা না বুঝে বলছে, এটা বেদের ভুল! আরে মূর্খরা, এটা মনে রাখিস, সারা পৃথিবী যখন পড়াশোনা দূরে থাক অক্ষরই চিনতো না বা অক্ষরই আবিষ্কার করতে পারে নি, তখন হিন্দুরা বেদ লিখেছে, তাই হিন্দুধর্ম নিয়ে চুলকানোর আগে বা হিন্দুদের সাথে জ্ঞান নিয়ে লাগার আগে নিজের পাছার কাপড়টা শক্ত করে বেঁধে, তারপর আসিস; কারণ, হিন্দুধর্ম নিয়ে চুলকালে কোনো মুসলমানের পাছার কাপড় রাখবো না বলে আমি প্রতিজ্ঞা করেছি।
যারা ওজোন স্তরের ব্যাপারটা বোঝেন নি, তাদের জন্য বলছি- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমন্ডলে এই ওজোন স্তর অবস্থিত, এটা ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০ থেকে ৩০ কি.মি উপরে। অক্সিজেনের দুইটা রুপভেদ আছে, যার একটা সাধারণ অক্সিজেন, আরেকটা হল ওজোন। সাধারণ অক্সিজেন দুইটা পরমানু মিলে হলেও ওজোন গঠিত অক্সিজেনের তিনটা পরমাণু মিলে । আমাদের এই পৃথিবীর স্বাভাবিক অস্তিত্বের জন্য এই ওজোন স্তর অপরিহার্য। কারণ, সূর্য থেকে কিছু ক্ষতিকর রশ্মি আসে, যেগুলো এই ওজোন স্তর বিকিরণ করে মহাশুন্যে ফিরিয়ে দেয় এবং প্রয়োজনীয় ও উপকারী আলো ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠায়। যদি ঐসব ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্মি, আমাদের পৃথিবীতে আসতো তাহলে আমরা বিভিন্ন রকমের মারাত্মক রোগে ভুগতাম, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- চোখে ছানি পড়া, ত্বকের ক্যান্সার প্রভৃতি।
এখন কেউ কেউ বলতে পারে, বিজ্ঞানীরা কোনো কিছু আবিষ্কার করার পর মুসলমানরা যেমন দেখতে পায় যে সেটা কোরানে ১৪০০ বছর আগেই লেখা হয়েছিলো, তেমনি আমিও বেদের একটি মন্ত্রের মধ্যে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা একটি থিয়োরির মিল খোঁজার চেষ্টা করছি। যারা এমন ভাবছে, তাদের জন্য বলছি- হিন্দু শাস্ত্রের জ্ঞান পৃথিবীকে যে পথ দেখিয়েছে, মানুষ শুধু সেই পথে এগিয়ে চলেছে; হিন্দু শাস্ত্র তার আয়ুর্বেদ জ্ঞানের মাধ্যমে পৃথিবীকে এটা বলেছিলো যে মানুষের রোগ ব্যাধি হলে চিকিৎসা করে তাকে সুস্থ করা সম্ভব, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কাজ করেছে এবং করছে শুধু সেই পথে; কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ২৩০ কি.মি দূরে থেকে হস্তিনাপুরের প্রাসাদে সরাসরি দেখিয়ে হিন্দু শাস্ত্র এটা বলেছিলো যে, দূর দূরান্ত থেকেও মানুষ এক সময় সরাসরি সব কিছু দেখতে পারবে, বর্তমানের লাইভ টিভি সম্প্রচার, সেটারই বাস্তবায়ন; রামায়নের পুষ্পক রথ, বর্তমানের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থারই ইঙ্গিত; এই ১০০ বছর আগের মানুষও সম্ভবত এটা ভাবতে পারে নি যে, এক অস্ত্রে একই সাথে শত শত বা হাজার হাজার বা লাখ লাখ মানুষ মারা সম্ভব, কিন্তু সেই ইঙ্গিত আমরা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অহরহ দেখতে পাই। এসব ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা মোটামুটি হিন্দুশাস্ত্রীয় জ্ঞানের কাছাকাছি পৌছতে পারলেও, এক জনের মাথা কেটে আরেকজনের মাথায় প্রতিস্থাপন করতে এখনও সফল হয় নি, যেটা গনেশের মাথা কাটার ঘটনার মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া আছে। এছাড়াও একটি মাত্র অস্ত্র, যেটা হিন্দু শাস্ত্রে বলে ব্রহ্মাস্ত্র, সেটা দিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংস করা সম্ভব, যা বলা হয়েছে মহাভারতে তা বিজ্ঞানীরা এখনও আবিষ্কার করতে পারে নি। তাছাড়াও বিজ্ঞানীরা এখনও মাতৃগর্ভের বাইরে কোনো শিশুর বেড়ে উঠা ও জন্ম ঘটাতে পারে নি, যেটা বেদব্যাস করে গেছেন প্রায় ৫২০০ বছর আগে মহাভারতে, তবে বিজ্ঞানীরা বলছে, এটা তারা ২০২৫ সালের আগেই করতে পারবে, এ নিয়ে ২০১৬ থেকে জোর গবেষনা তারা চালাচ্ছে। তাই আমার কথার সমালোচকদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, হিন্দুরা বিজ্ঞানের সাথে নিজেদের ধর্মের মিল খুজে না, বরং বিজ্ঞান হিন্দুধর্মের দেখানো পথে চলে।
উপরে যা বললাম, অনেকেই বলবে, এগুলো না হয় বুঝলাম, কিন্তু অথর্ববেদের এই মন্ত্রে কিভাবে ওজোন স্তর বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া আছে ?
খেয়াল করুন মন্ত্রটা -“This eart is the pan for boiling of rice, and the heaven its cover” বা ‘এই পৃথিবী হচ্ছে চাল সিদ্ধ করার কড়াই এবং আকাশ হচ্ছে তার ঢাকনা।
এরপর ভাবুন, বেদ রচয়িতা মুনি ঋষিদের কি এমন দায় পড়েছিলো যে- পুরো পৃথিবীকে রান্নার একটি কড়াই এবং তার ঢাকনাকে আকাশের সাথে তুলনা করার ? সাধারণ কোনো লোক কি কখনো এটা ভাবতে পারবে ? সাধারণ কোনো লোক কি কখনো পুরো পৃথিবীকে দেখতে পেরেছে, না দেখতে পারবে ? তাহলে এটা এমনি ই ধরে নেওয়া যায় যে মুনি ঋষিরা কড়াইয়ে ভাত রান্নাকে বর্ণনা করার জন্য বেদে এই কথা বলেন নি, এই বলার পেছনে নিশ্চয় তাদের অন্য কোনো ইঙ্গিত বা উদ্দেশ্য আছে। মুনি ঋষিরা এখানে কথা বলেছে পুরো পৃথিবী এবং দৃশ্যমান আকাশ নিয়ে, তাহলে আমাদেরকে সেই রকম বিষয়ই ভাবতে হবে যা পুরো পৃথিবী এবং আকাশ সম্পর্কিত; পুরো পৃথিবী, আকাশ, পৃথিবী থেকে উৎপন্ন ক্ষতিকর গ্যাস, সেই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে না পেরে পৃথিবীরই সর্বনাশ সাধন, ফুটন্ত বাষ্পের চাপ বেশি হলে ঢাকনাকে সরিয়ে বা শক্ত করে আটকানো ঢাকনাকে ছিদ্র করে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়া ( ওজোন স্তরের ছিদ্র) - এই বিষয়গুলোর সাথে পৃথিবী এবং ওজোন স্তরের বিষয়টি কল্পনা করুন, তাহলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন বেদের এই মন্ত্রে কিভাবে ওজোন স্তরের বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া আছে।
যা হোক, এরপর মুমিন তার কমেন্ট বলেছে,
“কোরানেও আকাশকে ছাদ বলা হয়েছে তবে কার্যকারিতার দিক থেকে তা ছাদের সাথেই মিলে যায় যেমন আমাদের বায়ুমন্ডলের স্তর ক্ষতিকারক আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নি সহ আরো অনেক ক্ষতিকর পদার্থ হতে প্রথিবীকে রক্ষা করে ঠিক ছাদের মত, কিন্তু কোরানে কোথাও বলা হয় নি আকাশ শক্ত তবে রিগবেদ মন্ডল ৪ সুক্ত ৪২ মন্ত্র ৩ এ বলা হয়েছে, “ভরুনা আকাশকে বানিয়েছেন শক্ত” অর্থাৎ বেদে ঢাকনা রুপক অর্থে বুঝালেও তা যে শক্ত তা স্পস্ট।একি কথা আছে অথর্ববেদ ৬/৪৪/১ এ”
মুমিন বলেছে, “কোরানে আকাশকে ছাদ হিসেবে বলা হলেও কোথাও বলা হয় নি যে আকাশ শক্ত” ।
-কোরান পড়ে এই কথা বলছিস, না কোরান সম্পর্কে জাকির নায়েকের মিথ্যাচার শুনে এসব শিখেছিস ? আকাশকে ছাদের সাথে তুলনাই বা করা হবে কেনো ? একটা ছাদকে ধরে রাখতে মিনিমাম চারটা খুঁটি লাগে, আকাশের খুঁটি কোথায় ? একটা বাড়ির ছাদের সাথে আকাশকে তুলনা করেছে তোর আল্লা, তোদের প্রাণের কোরানে; আল্লা কত বড় বলদ, সেটা তুই একবার নিজেই বিচার কর, তার কত ক্ষমতা সেটা পড়ে ভাবিস। এখন দেখ কোরানে আকাশ সম্পর্কে কী কী বলা হয়েছে এবং তাতে কোরানের আকাশ শক্ত কি না, সেটাও দেখ-
“আর আকাশ মণ্ডল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, ফলে তা কেবল দুয়ার আর দুয়ার হয়ে দাড়াবে।– (কোরান, ৭৮/১৯)
কোনো কিছু শক্ত না হলে কিভাবে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব, আর শক্ত না হলে কিভাবে কারো সাথে দরজা লাগানো সম্ভব ?
“যখন নভোমণ্ডল দীর্ণ বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং লাল চামড়ার মতো রক্তবর্ণ ধারণ করবে।” -(কোরান, ৫৫/৩৭)
কোরানের আকাশ যদি শক্ত না হয় কিভাবে তা দীর্ণ বিদীর্ণ করা সম্ভব ? জলকে কেটে তুই দীর্ণ বিদীর্ণ করে দেখাস দেখি।
“তোমাদের উপর সাতটি সুদৃঢ় আকাশ মণ্ডল স্থাপন করেছি।”- (কোরান, ৭৮/১২)
-এখানের সুদৃঢ় শব্দ দ্বারা কী বোঝায়; শক্ত, না অন্য কিছু ? আর আকাশ কি সাতটি ? সাতটি আকাশ প্রমান করে দেখা বা গুনে দেখা। এই সাত আকাশ আছে আবার একটির উপরে একটি, যেন সাত তলা বিল্ডিং, দেখ নিচের
আয়াত-
“তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে আল্লাহ কিভাবে সাত আসমান স্তরে স্তরে নির্মান করেছেন ?”- (কোরান, ৭১/১৫)
এই আয়াতটা কে বলেছে, আল্লা, না মুহম্মদ ? যদি আল্লা এই কথা বলে থাকে, তাহলে বাক্যটি এমন কেনো যা তা মুহম্মদের বলা মনে হচ্ছে ? আল্লা বললে, কথাটি তো হতো এমন- “তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে আমি কিভাবে সাত আসমান স্তরে স্তরে নির্মান করেছি ?”
এই কোরানকে তোরা আবার আল্লার বানী হিসেবে মানিস, তোদের মতো মূর্খ এবং বলদা কি পৃথিবীতে আর কেউ আছে ? দেখ, নিচের এই কথাটিও তোদের আল্লা নয়, মুহম্মদই বলেছে-
“আল্লাই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং এদের অনুরূপ পৃথিবীও।”– (কোরান, ৬৫/১২)
- আকাশের অনুরূপ নাকি পৃথিবী!
এই কোরানকে মুসলমানরা আবার ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মানে, এরা কি আর এমনি এমনি মূর্খ হিসেব সারা পৃথিবীতে পরিচিত ?
কোরানের আকাশ যে শক্ত এবং তা বিল্ডিং এর ছাদের মতো একটির উপর আরেকটি অবস্থিত, তা আমার কথাতে নয়, কোরানের উপরের ঐ কয়েকটি আয়াত দ্বারাই প্রমানিত।
কিন্তু এই মুমিন যে বলেছে, ঋগ্বেদের একটি মন্ত্র ৪/৪২/৩ এ বলা হয়েছে আকাশ শক্ত, এবার সেই বিষয়টি দেখা যাক-
ঋগ্বেদের এই মন্ত্রে বলা আছে,
অহমিন্দ্রো বরুণন্তে মহিত্বোর্বী গভীরে রজসী সুমেকে।
ত্বষ্টেব বিশ্বা ভুবনানি বিদ্বান্তসমৈরয়ং রোদসী ধারয়ং চ।।
এর অর্থ - আমি শক্তিমান ও মহান ইন্দ্র, আমি সর্বজ্ঞ এবং সর্বত্র পরিব্যপ্ত বরুন; এই চিরন্তন বিশাল পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করে সুখী এবং গৌরবান্বিত, সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে সংগতি সাধন করি এবং এই মহাবিশ্বকে ধারণ ও পরিচালনা করি।
এর মধ্যে কি কোথাও বলা আছে যে আকাশ শক্ত ? বেদ কি মুহম্মদের মতো কোনো মহামূর্খের রচনা যে তাতে বলা থাকবে আকাশ শক্ত, স্তরে স্তরে সজ্জিত, আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হবে, আকাশ দীর্ণ বিদীর্ণ হবে ?
এই শক্ত আকাশের কথা নাকি আবার বলা আছে অথর্ববেদের ৬/৪৪/১ নং মন্ত্রে, এই মন্ত্রটি পাওয়া যাবে হরফ প্রকাশনীর বেদের ১৫১ পৃষ্ঠায়, এখানে বলা আছে-
"অস্থাদ দৌরস্থাৎ পৃথিব্যস্থাদ বিশ্বমিদং জগৎ। আস্থানে পর্বতা অস্থ স্থাম্ন্যশ্বাঁ অতিষ্ঠিপম"অস্থাদ দৌরস্থাৎ পৃথিব্যস্থাদ বিশ্বমিদং জগৎ। আস্থানে পর্বতা অস্থ স্থাম্ন্যশ্বাঁ অতিষ্ঠিপম।।"
এর অর্থ- পর্বত যেমন তার স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত, অশ্ব যেমন তার রজ্জুর দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত, তেমনি এই মহাবিশ্বও তার অবস্থানে সুনিয়ন্ত্রিত।
এর মধ্যে আকাশ শক্ত, এমন কি কিছু বলা আছে ?
না, নেই।
এরপর সে লিখেছে,
"তবে সেই সাথে এই মন্ত্রে আরো একটি ভুল আছে, তা হচ্ছে আমরা জানি প্রথিবী গতিশীল,ও তা সুর্যের চারদিকে ঘোরে। কিন্তু এই মন্ত্রে বলা হয়েছে, “প্রথিবী স্থির ও নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছে।"
কিন্তু এই মন্ত্রে যে এমন কিছু বলা নেই, এই মন্ত্রে একটি সুনিয়ন্ত্রিত পৃথিবীর কথা বলা আছে, সেটা তো একটু আগেই প্রমান করে দিলাম।
তারপর মুমিন বলেছে,
"এই একবিংশ শতাব্দিতে এসে কেউ যদি বলে প্রথিবী স্থির, তাহলে আর কি বলা?"
-এই মুমিন বোধহয় জানে না যে, এই বেদ, তার কোরানেরও, মিনিমাম সাড়ে ছয় হাজার বছর আগে লেখা, এত প্রাচীন গ্রন্থ হওয়া সত্ত্বেও বেদে কোনো বৈজ্ঞানিক ভুল নেই, বরং বেদে এমন সব কথা লিখা আছে, যা বিজ্ঞানকে পথ দেখিয়েছে, দেখাচ্ছে; কিন্তু মাত্র ১৪০০ বছর আগে লিখা কোরান কিভাবে বলে যে পৃথিবী সমতল ? আর সমতল পৃথিবীই ঘুর্ণায়মান নয়, স্থির পৃথিবীর ধারণা দেয়, অনুধাবন কর নিচের এই আয়াত-
"ভূপৃষ্ঠকে আমিই বিস্তিীর্ণ করে বিছিয়েছি। আর আমি উত্তম সমতল রচনাকারী।"- ( কোরান, ৫১/৪৮)
এরপর মুমিন বলেছে, "
"বৈদিক ঈশরের নিশ্চয়ই ধারনা ছিল না যে অদুর বা সুদুর ভবিস্যাতে বিজ্ঞান কতখানি এগোবে।"
"অদুর বা সুদুর ভবিস্যাতে" বিজ্ঞান কতখানি এগোবে, সেটা হিন্দুশাস্ত্রেই বলে দেওয়া আছে, যেখানে বিজ্ঞান এখনও পৌছতেই পারে নি, বিজ্ঞান কি এখনও পেরেছে মাতৃগর্ভের বাইরে ভ্রুণের বিকাশ ও জন্ম ঘটাতে (মহাভারতে গান্ধারীর শতপুত্র জন্ম রহস্য) ? বিজ্ঞান কি পেরেছে এক মানুষের মাথা কেটে অন্য মানুষের দেহে জুড়ে দিতে (গনেশের মাথা রহস্য)? বিজ্ঞান কি পেরেছে এমন একটি অস্ত্র তৈরি করতে যা মূহুর্তে সমগ্র বিশ্ব ধ্বংস করে দিতে সক্ষম (ব্রহ্মাস্ত্র)? হিন্দুশাস্ত্রে এতখানি এ্যাডভান্স বিজ্ঞানের কথা বলা আছে যে, যে জায়গায় পৌছতে বিজ্ঞানীদের আরও হয়তো কয়েকশত বা কয়েক হাজার বছর লেগে যেতে পারে। কিন্তু ইসলামী বিজ্ঞান তো বলে- কালোজিরা সকল রোগের মহৌষধ, মানুষের জ্বর হয় দোযখের আগুনের তাপ থেকে, মাছির এক ডানায় থাকে জীবানু, অন্য ডানায় প্রতিষেধক, এমন আরো সব হাস্যকর ব্যাপার স্যাপার।
যা হোক, এরপর মুমিন বলেছে,
"একি কথা আবার আছে অথর্ববেদ ১২/১/২৬ এ “প্রথিবী স্থির তার অবস্থান ও তার অক্ষে”
-যখনই বলা হচ্ছে যে, পৃথিবী তার অক্ষে অবস্থিত, তখনই এটা বলা হয়ে যাচ্ছে যে, পৃথিবী সেই অক্ষ ধরে আবর্তন করে, তার মানে পৃথিবী স্থির নয়; কিন্তু মুমিনা বলছে পৃথিবী স্থির এবং তার অবস্থান অক্ষে, ব্যাপারটা বোরকা হিজাব পড়ে বেশ্যাবৃত্তি, মানে একই অঙ্গে দুই রূপ হয়ে গেলো না?
এরপর মুমিন আবার বলেছে, "এখানে তুলসীরাম একটি বাড়তি ‘অক্ষ’ যুক্ত করেছেন, তবে মুল মন্ত্রে অক্ষ শব্দটা নেই,"
-মুমিন নিজেই বলছে, অথর্ববেদের ১২/১/২৬ নং মন্ত্রের অনুবাদ "“প্রথিবী স্থির তার অবস্থান ও তার অক্ষে”, আবার বলছে মূল মন্ত্রে অক্ষ শব্দটা নেই। তাহলে দেখা যাক, মূল মন্ত্রে অক্ষ শব্দটা আছে কি না-
মন্ত্রটা হলো-
"শিলা ভূমিরশ্মা পাংসুঃ সা ভূমিঃ সন্ধৃতা ধৃতা। তস্যৈ হিরন্যবক্ষসে পৃথিব্যা অকরং নমঃ।।"
এখানের "হিরন্যবক্ষসে" মধ্যেই অক্ষ শব্দটা রয়েছে, কারণ এই সংস্কৃত শব্দের উচ্চারণ হলো 'হিরণ্যব+অক্ষ+সে'।
এরপর মুমিন বলেছে, "আর্য সমাজেরই আরেক অনুবাদক দেবীচাঁদ এই মন্ত্রের অনুবাদে লিখেছেন “প্রথিবী দাঁড়িয়ে আছে স্থির তার গুনাবলির কারনে“, আর বেদে যে পৃথিবি স্থির এটা প্রমান হিসেবে বেদাংগেও রয়েছে। বেদাংগ (নিরুক্ত ১০/৩২) সবিতা পৃথিবিকে স্থির করে রেখেছেন খুটি দ্বারা।"
বেদে বর্ণিত পৃথিবী যে স্থির নয়, তার প্রমান অক্ষ শব্দের মধ্যেই রয়েছে; কারণ, যেখানে অক্ষ বা পথের কথা বলা হয়েছে, সেই পথ ধরে পৃথিবী চলে বলেই তা বলা হয়েছে। এখানে মুমিন আরো বলেছে, বেদাঙ্গে নাকি আছে যে, "সবিতা পৃথিবিকে স্থির করে রেখেছেন খুটি দ্বারা", খুটির কথা তখনই আসবে, যখন ছাদের কথা আসবে, আর আকাশ যে ছাদ, সেটা কে বলে, বেদ, না কোরান ?
কেউ যদি ভুল গিয়ে থাকেন, স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি আকাশ সম্পর্কে কোরানের সেই মহান জ্ঞান
"তোমাদের উপর সাতটি সুদৃঢ় আকাশ মণ্ডল স্থাপন করেছি।" (কোরান, ৭৮/১২)
এখানে আকাশই যে ছাদ এবং তা খুটি দ্বারা স্থাপন করে হয়েছে, সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ নেই।
তারপর মুমিন বলেছে, "এবার দেখুন আকাশ ও প্রথিবী সম্পর্কে বেদের সম্পুর্ন কাল্পনিক ধারনা, খালি চোখে প্রথিবীতে বসে মনে হয় আকাশ উপরে আর প্রথিবী নীচে, তাই বেদ বলছে, অথর্ববেদ ৯/৭/২ ” আলোর জগত(সৌরজগত) হচ্ছে উপরের চোয়াল আর প্রথিবী হচ্ছে নীচের চোয়াল।”
-কিন্তু এই মুমিন জানে না বা জানলেও হিন্দুধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন মানসে এটা গোপন করে গেছে যে, অথর্ববেদের ১১/৩/১১ মন্ত্রের মতো এটাও একটি রূপক মন্ত্র, এখানে মহাবিশ্বের সব কিছুকে গরুর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেটা তুলসীরাম, তার অনুবাদে মন্ত্রের শুরুতেই বলে দিয়েছেন, কিন্তু যেটা বলা নেই হরফ প্রকাশনীর বেদে। রুপক হিসেবে না ভাবলে অথর্ববেদের ১১/৩/১১ মন্ত্রের যেমন সবকিছুই ভুল বলে মনে হয়, তেমনি রূপক হিসেবে না ভাবলে এই মন্ত্রকেও ভুল হিসেবে মনে হবে, দেখুন এই সূক্তের কয়েকটি মন্ত্র বা মন্ত্রের কিছু কিছু অংশ-
"ইন্দ্র হলো মাথা, মহাবিশ্বের তাপ অগ্নি হলো কপাল এবং যম বা আইন হলো দেহ ও মস্তিষ্ক্যের সন্ধিস্থল, ঘাড়"- (অথর্ববেদ, ৯/৭/১)
"সোমো রাজা হলো মস্তিষ্ক্য, আলোরজগত হলো উপরের চোয়াল, পৃথিবী হলো নিচের চোয়াল।"- (অথর্ববেদ, ৯/৭/২)
এভাবে এই সূক্তটি রূপক এবং রূপক হিসেবে না ভাবলে দেখুন এই সূক্তের সবগুলো মন্ত্রকে শুধু ভুল নয়, বোগাস হিসেবে মনে হবে। আর আপনি তখনই এই মন্ত্রগুলোকে রূপক হিসেবে না ভেবে বাস্তব হিসেবে ভাববেন, যখন আপনি বেদ রচয়িতা মুনিদের মেধা ও দিব্যদৃষ্টিকে উপলব্ধি করতে না পারবেন, অর্থাৎ আপনি যখন মুসলমানদের মতো নির্বোধ বা বলদা হবেন, যেমন এই কপিপেস্ট মুমিন ফ্রম জোকার নায়েক
সংগৃহীত

বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

বৃহদারণ্যক উপনিষদের ৬।৪।১৮ নিয়ে এ শঙ্কা

বৃহদারণ্যক উপনিষদের ৬।৪।১৮ কন্ডিকা নিয়ে একটা শঙ্কা আমাদের সামনে প্রায়শই উঠে। শঙ্কটা এরূপ যে, বিদ্বান পূত্র লাভের জন্য স্বামী স্ত্রী উভয়ে বৃষের মাংস দ্বারা পাককৃত অন্ন আহার করবে। প্রায় সব অনুবাদক এমনটাই অনুবাদ করেছে। অর্থাৎ ইহা দ্বারা সনাতন ধর্মে গোমাংস খাওয়ার বিধান সিদ্ধ এমনটা দাবী করে অপপ্রচারকারীরা।  মূলত আমাদের ধর্মের মূল স্রোত হলো বেদ। বেদের জ্ঞান দ্বারাই পরবর্তিতে অনেক শাস্ত্র রচিত হয়েছে। সেই বেদে আমরা গোহত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ পাই। গো হত্যা সমন্ধ্যে বেদ বলছে যে, "মা গাম অনাগাম অদিতিম বধিষ্ট" (ঋগবেদ ৮।১০১।১৫) অর্থাৎনিরপরাধ গাভী এবং ভূমিতূল্য গাভীকে কখনো বধ করো না। শুধু তাই নয় গোহত্যাকারীকে দন্ডের বিধান দিয়ে বেদ বলছে যে -যদি আমাদের গাভীকে হিংসা কর যদি অশ্বকে যদি মনুষ্যকে হিংসা কর তবে তোমাকে সীসক দ্বারা বিদ্ধ করিব। (অথর্ববেদ ১।১৬।৪)। বিস্তারিত এখানে পড়ুন - http://back2thevedas.blogspot.in/2016/11/blog-post.html?m=1
উপনিষদ বেদের অংশ হওয়ার হেতু উপনিষদে গোমাংস আহারের নির্দেশ কদাপি থাকতে পারে না। আমাদের স্থুল বিচার বিবেচনার জন্যই মূলত এরূপ শঙ্কার উদ্ভব হয়েছে। আসুন বিষয়টি নিয়ে একটু বিস্তারিত বিশ্লেষন করা যাক -


অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে পন্ডিতো বিজিগীতঃ সমিতিঙ্গমঃ শুশ্রুষিতাং বাচ্য ভাষিতা জায়েত সর্বাণ বেদাননুববীত সর্বমায়ুরিয়াদিতি মাষৌদনং পাচয়িত্বা সর্পিষ্মন্তমশ্নীয়াতামীশ্বরৌ জনয়িতবা ঔক্ষেণ বার্ষভেণ বা।।
(বৃহঃ উপঃ ৬।৪।১৮)
.
শব্দার্থঃ (অথ যঃ ইচ্ছেত্ পুত্রঃ মে) এবং যে এই ইচ্ছা করে যে আমার পুত্র (পন্ডিতঃ) বিদ্বান (বিজিগীথঃ) প্রসিদ্ধ (সমিতিয় গমঃ) সভায় গমন যোগ্য (শুশ্রুষিতাম বাচম্ ভাষিতা) আদরের সহিত শ্রবণ যোগ্য ভাষনকারী (জায়েত) হবে (সর্বাণ বেদাননুববীত সর্বম্ আয়ু ইয়াত্ ইতি) সমস্ত বেদের জ্ঞাতা পূর্নায়ুর উপভোক্তা হবে তো (মাষৌদনম্) [পাঠভেদ - মাংসৌদম্] মাষের [কলাই বিশেষ] সাথে চাউল (পাচয়িত্বা সর্পিষ্মন্তম্ অশ্নীয়াতাম্ ইশ্বরী জনয়িতবৈঃ) পাক করে ঘৃতের সাথে উভয়ে [স্বামী স্ত্রী] আহার করে তো (অপেক্ষেত পুত্র) পুত্র উৎপন্ন করতে সমর্থ হবে (ঔক্ষেণ বা আর্ষভেণ) ঔক্ষ [বিধি] দ্বারা অথবা ঋষভ [বিধি] দ্বারা। 
.
সরলার্থঃ এবং যে এই ইচ্ছা করে যে আমার পুত্র বিদ্বান প্রসিদ্ধ সভায় গমন যোগ্য আদরের সহিত শ্রবণ যোগ্য ভাষনকারী হবে, সমস্ত বেদের জ্ঞাতা পূর্নায়ুর উপভোক্তা হবে তো মাষের [কলাই বিশেষ] সাথে চাউল পাক করে ঘৃতের সাথে উভয়ে [স্বামী স্ত্রী] আহার করে তো পুত্র উৎপন্ন করতে সমর্থ হবে ঔক্ষ [বিধি] দ্বারা অথবা ঋষভ [বিধি] দ্বারা

তাৎপর্যঃ এই কন্ডিকার মধ্যে বর্ণিত পুত্র প্রাপ্তির জন্য বলা হয়েছে যে, মাষের সাথে পাককৃত চাউল বিধির সাথে আহার করা উচিৎ। এই পুত্র এবং পুত্রি উৎপন্ন করার জন্য অপেক্ষিত সাধনের কাজে নেবার শিক্ষাকে সমাপ্ত করে ইহা বলা হয়েছে যে, সব প্রকারে পুত্র কে উৎপন্ন করা আদির কৃত্য ঔক্ষ এবং আর্ষভ বিধি দ্বারা করা উচিৎ।
.
ঔক্ষ বিধিঃ ঔক্ষ শব্দ উক্ষ (সেচনে) ধাতু হতে এসেছে। উক্ষ দ্বারা উক্ষণ এবং উক্ষণের বিশেষন ঔক্ষ। ঔক্ষ বিধি বর্ণনাকারী শাস্ত্রকে ঔক্ষ শাস্ত্র বলে। কোন মিশ্রিত ঔষধি পাক আদি তৈরীতে কোন কোন ঔষধি কি কি মাত্রায় পড়া উচিৎ তাহা বর্ণনাকারী শাস্ত্রের নাম ঔক্ষ শাস্ত্র। অভিপ্রায় এই যে, উপরিউক্ত মাষের অথবা তিলৌদন আদির প্রস্তুতে এই (ঔক্ষ শাস্ত্র) র মর্যাদা কে লক্ষ্য রেখে কাজ করা উচিৎ।
.
আর্ষভ বিধিঃ আর্ষভ - ঋষভ শব্দের বিশেষন। ঋষভ এবং ঋষি শব্দ পর্যায়বাচক। আর্ষভের অর্থ ঋষিকৃত অথবা ঋষিদের বানানো কিছু। ঔক্ষ শাস্ত্রের সাথে এই আর্ষভ শব্দের ভাব এই যে, ঋষিদের বানানো বিধি (পদ্ধতি) র নামই ঔক্ষ শাস্ত্র। অর্থাৎ কোন অনভিজ্ঞর বানানো বিধিকে ঔক্ষ শাস্ত্র বলা হয় না। ঋষিকৃত পদ্ধতিই ঔক্ষ শাস্ত্র।
.
মাষৌদনঃ যা বলা হয়েছিলো মাষৌদনে পাঠ ভেদ রয়েছে, অনেক গ্রন্থে মাংসৌদন। সিবায় মাংস শব্দের এরূপ অর্থ করেছে যে, (মনঃ সীদত্যস্মিন স মাংসঃ) যাহাতে মন প্রসন্ন হয় তাহাই মাংস। নিরুক্তেও মাংস শব্দের অর্থের মনন, সাধক, বুদ্ধিবর্ধক মন কে রুচি দানকারী বস্তুকে বলা হয়েছে। যা ফলের রসালো অংশ, ঘী, মাখন, ক্ষীর আদি পদার্থ (মাংস মাননং বা মানসং বা মনোস্মিনৎসীদতীতি ; নিরুক্ত ৪।৩)। এবং এই দৃষ্টি দ্বারা মাষৌদন কে মাংসৌদন বলা যায়। এই জন্য কোন প্রকরণে গো মাংস অর্থে মাংসের প্রয়োগ যা এই প্রকরনে নেই। এইজন্য যে দশ ঔষধিকে দ্বারা মাষ এবং ঔদন বর্ননার বিধান রয়েছে তাহার নাম স্বয়ং উপনিষদই উল্লেখ করেছে -
(i) ধান্য (ii) যব (iii) তিল (iv) মাষ (v) বাজরা (vi) প্রিয়জু (vii) গোধূম (viii) মসুর (ix) খল্ব (x) থলকুল।
(বৃহঃ উপঃ ৬।৩।১৩)
এখানে একটা বিষয়ে গভীর ভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ যে, এই ঔষধির গণনা করে দেখা যাচ্ছে তিলের পরেই মাষের উল্লেখ রয়েছে। এইজন্য সতেরো কন্ডিকায় তিলৌদন এবং তাহার পরে আঠারো কন্ডিকায় মাষৌদনের উল্লেখ। অন্যথা মাংসের তো এখানে যেমন বলা হলো তার কোন প্রকরনই নেই।

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক
Raj Bhowmick  akash

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

মুসলিমদের ১২টি প্রশ্নের দাত ভাঙ্গা জবাব



কিছু ভন্ড মুসলিম দের কমন ১২ টি প্রশ্ন:-
----------------------------------------
হিন্দু ভাইয়েরা মন খারাপ করবেন না.! :
আমি just জানতে চাই
:
যদি পারেন উত্তর দিবেন.
:
1st- শিব ৬০,০০০ বিবাহ করেছিল সে মারা
যাবার পর তার
লিঙ্গকে পূজা করা হয় কেন?
:
একজন শিষ্টাচার হিন্দু কোন যুক্তিকতায় তার।
:
স্ত্রী_দুধ দিয়ে শিবের গোপন_অঙ্গ ধৌত
করে কেন?
:
এটা কি কোন সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.? : এমন কুরুচি পূর্ন আদেশ সৃষ্টিকর্তা দিতে পারেন.?
-
2nd- শিব তার নিজের ছেলে গনেশকে চিনতে পারেনি
কেন?
চিনতে না পারার জন্য ছেলের গর্দান_কেটে
ফেলেছিলেন.!
:
তাহলে তিনি তার সৃষ্টিকে কি করে চিনবেন.?
:
ভুলে যাওয়া কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.?
_
3rd- দেবদাসীর ও যোগিনীর মত পতিতা
চরিত্রের সাথে
ভগবান ও ব্রাহ্মনগন কি অশ্লীলকর্মে লিপ্ত
হন.?
:
যদি তারা প্রকৃতার্থে ভগবান হয়ে থাকেন?
_
4th- অশ্লীল ভঙ্গিমায় উলঙ্গ_নারী ,,, মুখে
দাতেঁ রক্ত ও
হাতে রক্তাক্ত তলোয়ার.!
কি করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে.? উদাহরন-
দূর্গা।
_
5th- কৃষ্ণা যদি সৃষ্টিকর্তা হয়। তবে সে কেন তার মামীর সাথে অবৈধ_সম্পর্ক
রাখলো...?
:
তবে কি সৃষ্টিকর্তা মানুষের সাথে এমন
অবৈধ কর্মে লিপ্ত
হয় যা তারা নিজেরাই আইনের বর্হিভূত?
_
6th- কিভাবে রাম সৃষ্টিকর্তা হতে পারে.?
কারন,,,
সে প্রয়োজনে খাবার খেয়েছে, ঘুম গেছে,
অনেক বিয়ে করেছে, দৈহিক তারনায়, রাম
নিজের
স্ত্রীকে সন্দেহ করেছে.! এসবকি সৃষ্টিকতার কর্ম?
_
7th- যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন তবে কেন তিনি হনুমানের সাহায্য চাইবেন.?
:
তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি আছে?
:
_
8th- রাম হনুমানের দু’ভাইকে কেন অকারনে
খুন করলেন.?
:
যেখানে রামের সাথে তাদের কোন শত্রুতা ছিল না?
:
সৃষ্টিকর্তা হয়ে অপরাধ করা কি সম্ভব? _
9th- রাবন যদি শয়তান হয়ে একদিনে লঙ্কায়
পৌছাঁতে পারে
তবে রাম সৃষ্টিকর্তা
হয়ে কেন ১২ বছর লাগলো.?
:
তাও আবার হনুমানের সাহায্যে? : শয়তানের শক্তি সৃষ্টির্কতা হতে কি করে
বেশি হওয়া সম্ভব?
_
10th- কৃষ্ণা একজন সৃষ্টিকর্তা হয়ে কি ভাবে নারীদের স্নানরত_দৃশ্য উপভোগ করেন.?
:
ও তাদের পোষাক_ লুকিয়ে রেখে দেন? _
11th- গরু হিন্দুদের মা, গরুর পেট থেকে তো
গরুর_বাচ্চা হয়.!
কিন্তু
মানুষের_বাচ্চা তো হয় না.?
:
তাহলে গরু কি করে মানুষের মা হয়? - 12th- আপনি যাকে বানিয়েছেন সে বড়?
নাকি আপনাকে
যে বানিয়েছে সে বড়? উদাহরনঃ মুর্তি
:
একটু বিবেক দিয়ে চিন্তা করুন কে বড়! যদি
জানা থাকে
জানাবেন কিন্ত... আমি কিন্তু ধর্ম নিয়ে
বাড়াবাড়ি
।

।
।
।
।
।
এই ১২ টি প্রশ্নের দাঁত ভাঙ্গা জবাব,,,,,
।
।
★প্রশ্ন১।শিব ৬০,০০০বিবাহ করেছিল সে মারা যাবার পর তার লিঙ্গকে পূজা করা হয় একজন শিষ্টাচার হিন্দু কোন যুক্তিকতায় তার স্ত্রীকে দিয়ে দুধ দিয়ে শিবের গোপন অঙ্গ ধৌত করে? এটা কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য? এমন কুরুচিপূর্ন আদেশ সৃষ্টিকর্তা দিতে পারেন? উত্তরঃ শিব ৬০০০০ বিয়ে করেছিল এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। এরকম কথা কোথাও পাওয়া যায়নি। এটা ভিত্তিহীন।পারলে প্রমান দেখান।আমরা চিরকাল জেনে এসেছি শিব এর স্ত্রী দুর্গা বা পার্বতী। আর শিবলিংঙ্গ মানে যৌনাঙ্গ যে এই কথাটি লিখেছেন সে সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেন না। শিব সংস্কৃতে शिव, siva যার বাংলা অর্থ শুভ বা মঙ্গল আর লিংঙ্গ অর্থ প্রতিক বা চিন্হ যার সম্পুর্ন অর্থ হচ্ছে সর্বমঙ্গলময় বিশ্ববিধাতার প্রতীক। আবার ব্যাকারনে যেটা পুরুষ বোঝায় তাকে পুঃলিংঙ্গ, যেটা দ্বারা নারী বোঝায় তাকে স্ত্রীলিংঙ্গ,যেটা দ্বারা নারী পুরুষ উভয়ই হতে পারে তাকে উভয় লিংঙ্গ ও যেটা দ্বারা জর বস্তু বোঝায় তাকে ক্লীবলিংঙ্গ বলে, কোন ভাবেই এটা যৌন অঙ্গ’কে বোঝায় না, উধারনস্বরুপ চেয়ার দেখলে বুঝি এটা একটা জর বস্তু তাই এটিকে ক্লীবলিংঙ্গ বলা হয়, তেমনি ভাবে যে কালোপাথরটি (শিবলিংঙ্গ) দ্বারা আমরা শিবকে বুঝি, তাই ওটাকে আমরা শিবলিংঙ্গ বলি, ওটা শিবের প্রতিক, বাংলাদেশের প্রতিকি যেমন বাংলাদেশের পতাকা বহন করে, তেমনি শিবলিংঙ্গ শিবের প্রতিকি বহন করে,পতাকাকে স্যালুট করলে যেমন দেশকে সন্মান করা হয় তেমনি শিব লিংঙ্গের পুজা করলে শিবের পুজা করা হয়, আর একটা ভুল ধারনা আছে যে মেয়েরাই শুধু শিবলিংঙ্গের পুজা করে, এটা ঠিক নয়, ছেলেরাও করে! 
।
★ প্রশ্ন:২/­ : শিব তার নিজের ছেলে গনেশকে চিনতে পারেনি কেন? চিনতে না পারার জন্য ছেলের গর্দান_কেটে ফেলেছিলেন.! তাহলে তিনি তার সৃষ্টিকে কি করে চিনবেন.? ভুলে যাওয়া কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.? উত্তর : সৃষ্টিকর্তা এমন না যে তার সৃষ্টিতে ঘটে যাওয়া বা ঘটবে এরুপ সম্পর্কে তিনি জানেন না। শিব তার ছেলেকে চিনবেন না এরুপ একটা কথা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুইনা। *** চিনতে না পারার জন্য ছেলের গর্দান_কেটে ফেলেছিলেন কেন? এর উওর তো অবশ্যই পাবেন। ------------------------------­--- তবে এর উত্তর জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে শিব ও গজাসুর সম্পর্কটা কি? #প্রথমত: পৌরাণিক কালে হাতির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এক অসুরের অস্তিত্ব ছিল। তার নাম ছিল গজাসুর। সে একবার প্রচণ্ড তপস্যা করেছিল। শিব তার তপস্যার তুষ্ট হয়ে তাকে মনোমত বর দিতে ইচ্ছা করেন। অসুর চাইল, তার শরীর থেকে যেন সব সময় আগুন বেরিয়ে আসতে থাকে, যাতে কেউ তার কাছে ঘেঁষতে সাহস না পায়। শিব তাকে সেই বর দেন। কিন্তু গজাসুর তার তপস্যা চালিয়ে গেল। শিব আরেকবার তার সামনে এসে তাকে বর দিতে চাইলেন। অসুর বলল, “আমি চাই আপনি আমার পাকস্থলীতে বাস করুন।” অল্পে তুষ্ট ! শিব গজাসুরকে মনোমত বর দিয়ে দেন। কিন্তু এই বর অন্য সমস্যার সৃষ্টি করে। পার্বতী তাঁকে ( শিব) খুঁজতে বের হন। শেষে তিনি নিজের আরাধ্য বিষ্ণুর সাহায্যে শিবকে খুঁজে পান। বিষ্ণু তখন শিবের বাহন নন্দীকে এক নৃত্যকারী ষাঁড় বানিয়ে নিজে বাঁশিওয়ালার ছদ্মবেশ নেন। এরপর উভয় আসেন গজাসুরের কাছে বাঁশি বাজাতে। বিষ্ণুর বাঁশি শুনে গজাসুর খুশি হয়ে তাঁকে কিছু দিতে চাইল। বিষ্ণু বললেন, তাঁর গজাসুরের পাকস্থলীতে বন্দী শিবের মুক্তি চাই। সে বিষ্ণুকে চিনতে পেরে তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ল শিব মুক্তি পেলেন। তখন গজাসুর তপস্যার শেষ বরটি চাইল। সে বলল, “আমি চাই, আমি মরে যাবার পরও যেন লোকে আমার মাথাটিকে পূজা করে।” #দ্বিতীয়ত : গণপতির জন্ম হয়ে ছিল দেবী পার্বতীর গায়ে মাখা হলুদ অর্থাৎ ময়লা থেকে। যার কারণে গণেশ ছিলেন জেদি ও অহংকারী। এক দিন দেবী পার্বতী কৈলাসে স্নান করছিলেন। স্নানাগারের বাইরে তিনি নন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, যাতে তাঁর স্নানের সময় কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে। এই সময় শিব এসে ভিতরে প্রবেশ করতে চান। নন্দী শিবের বাহন। তাই প্রভুকে তিনি বাধা দিতে পারলেন না। পার্বতী রেগে গেলেন। তিনি ভাবলেন, নন্দী যেমন শিবের অনুগত, তেমনই তাঁর অনুগত কোনো নেই। তাই তিনি তাঁর প্রসাধনের হলুদমাখা( বলতে পারেন ময়লা) কিছুটা নিয়ে গণেশকে সৃষ্টি করলেন এবং গণেশকে নিজের অনুগত পুত্র রূপে ঘোষণা করলেন। এরপর থেকে পার্বতী স্নানাগারের বাইরে গণেশকে দাঁড় করাতেন। একবার শিব এলেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলেন। কিন্তু গণেশ তাঁকে বাধা দিলেন। শিব রেগে গিয়ে তাঁর ভক্তদের আদেশ দিলেন গণেশকে দাড় থেকে সরার জন্য । কিন্তু গণেশ শিব ভক্তদের উপর অনাক্রমণ করে তাদের পরাজিত করেন। তাই তিনি গণেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এলেন। শিব গণেশের মুণ্ডটি কেটে তাকে হত্যা করলেন। একথা জানতে পেরে পার্বতীও রেগে সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংস করে ফেলতে উদ্যোগী হলেন। তখন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করলেন। তখন পার্বতী দুটি শর্ত দিলেন। প্রথমত, গণেশের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সকল দেবতার পূজার আগে তাঁর পূজার বিধি প্রবর্তন করতে হবে। সর্বোপরি দেবী পার্বতী শর্ত , গজাসুকে দেওয়া কথার মান ও গণেশের অহংবোধ থেকে মুক্তি এবং সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার জন্য গনেশের শিরোচ্ছেদ করা হয়েছিল । আরে শিব তো তার ছেলের গর্দান কেটেছিল সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য । তাই তাকে নিয়ে অনেক, অনেক কিছু বল,তাই না। তোদের নবী ইব্রাহিম(আ) কি করে ছিল? সে কথা সবাই জানে, বড় ছেলে ইসমাঈল(আ)কে কুরবানীর নাম করে ইসহাক(আ)কে কুরবানী করে ছিল। তিনি ও পুত্র হত্যা করেছিলেন। কিন্তু সৃিষ্টির কল্যানের জন্য কি ? না। সিংহাসন লাভের জন্য। হায়রে নবীর বৈশিষ্ট্য slightgrin emoticon থাক ও সব কথা তোদের বেজন্মাদের ধর্ম যে কেমন আমাদের ভলো জানা আছে। আশা করি সকল হিন্দু ভাইয়েরা বুঝলেও ঐ সকল বেজম্মারা বুঝবে কি না সন্দেহ আছে। ধন্যবাদ heart emoticon জয় সনাতন 
।
★প্রশ্ন৩।দেবদাসীর ও যোগিনীর মত পতিতা চরিত্রের সাথে ভগবান ওব্রাহ্মনগন কি করে অশ্লীলকর্মে লিপ্ত হন? যদি তারা প্রকৃতার্থে ভগবান হয়ে থাকেন। উত্তরঃ এই কথাটার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ চাই। গীতা,বেদ,ভাগবত বা উপনিষদ কোথা থেকে পেয়েছেন?? 
।
★প্রশ্ন৪।অশ্লীল ভঙ্গিমায় উলঙ্গ নারী, মুখে ও দাতেঁ রক্ত ও হাতে রক্তাক্ত তলোয়ার কি করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে? উদাহরন- দূর্গা। উত্তরঃ দূর্গা কখন অশ্লীল হলেন সেটাই খুজে পেলাম না । আমরা জানি কোন শক্তিকেই কোন কিছু দ্বারা আবদ্ধ করে রাখা যায় না। আর দুর্গা হচ্ছেন এমনই এক শক্তি। অসুরদের দমন করার জন্য সে ১০ বাহুর রুপ ধারন করেছিলেন। 
।
★ প্রশ্ন ৫।কৃষ্ণা যদি সৃষ্টিকর্তা হয় তবে সে কেন তার মামীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখলো? তবে কি সৃষ্টিকর্তা মানুষের সাথে এমন অবৈধ কর্মে লিপ্ত হয় যা তার নিজেরাই আইনের বর্হিভূত? উত্তরঃ কৃষ্ণ কখনই তার মামীর সাথে অবৈধ্য সম্পর্ক রাখে নি। আপনি মহাভারত থেকে এমন এক শ্লোক দেখান যেখানে রাধার সাথে অবৈধ্য সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
★প্রশ্ন৬।কিভাবে রাম সৃষ্টিকর্তা হতে পারে কারন সে প্রয়োজনে খাবার খেয়েছে, ঘুম গেছে, অনেক বিয়ে করেছে দৈহিকতারনায়, রাম নিজের স্ত্রীকে সন্দেহ করেছে এসবকি সৃষ্টিকতার কর্ম? উত্তরঃ রাম হচ্ছে ঈশ্বরের ৭ম অবতার।তিনি মানুষ রুপে পৃথিবীতে জন্মগ্রহন করেছিলেন। সুতরাং মানুষের মত কাজকর্ম রাম করেছিলেন কারন তিনি মানুষ কিন্তু ঈশ্বরের অবতার। শ্রীমদভগবত গীতার ৯:১১ তে ভগবান বলেছেনঃ আমি যখন মানুষ রুপে অবতীর্ন হই,মুর্খেরা আমাকে অবজ্ঞা করে তারা আমার পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত হন না, এবং তারা আমাকে সর্বভূতের মহেশ্বর বলে জানে না।। অর্থাৎ ভগবান মানুষরুপে পৃথিবীতে অবতীর্ন হতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ তা করতে পারেন না। আর রাম বহুবিবাহ করেননি।
।
।
।
★ প্রশ্ন৭।যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন কেন তিনি হনুমানের সাহায্য চাইবেন? তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি আছে? উত্তরঃরাম মানবরুপে জন্মগ্রহন করেছেন তাই অন্যের সাহায্য চাওয়া একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আর আল্লাহও কিন্তু জিবরাইলের সাহায্যে নবীর কাছে আয়াত পাঠিয়েছেন। তিনি নিজে এসে আয়াত পাঠাতে পারেন নি অথচ তিনি বলেছেন আমি সর্বশক্তিমান এটা হাস্যকর ছারা কিছুই না। 
।
★৮।প্রশ্নঃরাম হনুমানের দু’ভাইকে কেন অকারনে খুন করলেন যেখানে রামের সাথে তাদের কোন শত্রুতা ছিলনা? সৃষ্টিকর্তা হয়ে অপরাধ করা কি সম্ভব? উত্তরঃ রাম হনুমানের ভাইকে হত্যা করেননি। হত্যা করেছেন সুগ্রীবের ভাই বালিকে।কারণ বালি সুগ্রীরের স্ত্রীকে বন্ধি রেখেছিলো। 
।
★প্রশ্ন৯।রাবন যদি শয়তান হয়ে একদিনে লঙ্কায় পৌছাঁতে পারে তবে রামের সৃষ্টিকর্তা হয়ে কেন ১২ বছর লাগলো তাও আবার হনুমানের সাহায্যে? শয়তানের শক্তি সৃষ্টির্কতা হতে কি করে বেশি হওয়া সম্ভব? উত্তরঃরামকে লঙ্কা যেতে ১২ বছর লাগেনি।রাম ১৪ বছরের জন্য বসবাসে গিয়েছিলেন। শেষবর্ষে সীতা মাতার অপহরণ হয় ও শ্রী রাম সীতা’কে উদ্ধার করেন। দূর্গাপূজার ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে বিজয়াতে রাম জয় লাভ করেন। ★ প্রশ্ন আল্লাহর বিশ্ব সৃষ্টি করতে ৬ দিন লাগে,, তাহলে মোহাম্মদের ওপর কোরান নাজিল করতে কেন ২৩ বছর সময় লাগলো? 
.
★প্রশ্ন১০। কৃষ্ণ একজন সৃষ্টিকর্তা হয়ে কিভাবে নারীদের স্নানরত দৃশ্য উপভোগ করেন ও তাদের পোষাক লুকিয়ে রেখে দেন? উত্তরঃআপনার কথার উৎস কি ?মহাভারত নাকি ভাগবত ?? দুই কবির,শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন আর মেঘনাদ বধ কাব্য(যেগুলোতে অনেক কাহিনী বিকৃত করে দেয়া)!! তা আপনি হাজার বছর আগের আসল বই মহাভারত,ভাগবত না পড়ে আপনি কয়েকটা বিকৃত বই পড়ে এই মন্তব্য করাটা কতটা যৌক্তিক?? শ্রীকৃষ্ণ তখন ১০বছরের কম বয়সের ।তখনকার সময় কিছু লোক সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নান করত!যেটা পাপ। তাই শ্রীকৃষ্ণ তখন ওই মেয়েদের কাপড় চুরি করেন। পরবর্তীতে ওই মেয়েদের প্রতিজ্ঞা করান,যে তারা যেন আর সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নান না করে,এটা পাপ। তাছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নগ্ন হয়ে স্নান করায় দুই গাছরূপী (নন্দরাজের বাড়িতে)পাপী পুরুষকে তাদের শাস্তি ভোগার পর মুক্তি দেন।এ নিয়ে কাহিনী হলঃদুই পুরুষ একবার সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নান করে তখন ওই দিক দিয়ে দেবর্ষি নারদ যান।তখন দেবর্ষি নারদ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নানের কারণে ওই পুরুষদেরকে গাছ হওয়ার অভিশাপ দেন।পরবর্তীতে ওই দুই পুরুষ গাছ হয়ে নন্দরাজের বাড়ির উঠানে জন্মেছিল এবং বহুকাল শাস্তি ভোগার পর শ্রীকৃষ্ণ তাদের মুক্তি দেন। এছাড়াও মহাভারতে দূর্যোধনকে মায়ের সামনে নগ্ন হয়ে যেতে নিষেধ করেন। 
।
★প্রশ্ন১১।গরু হিন্দুদের মা,গরুর পেট থেকে তো গরুর বাচ্চা হয় মানুষের বাচ্চা তো হয়না তাহলে গরুকি করে মানুষের মা হয়? উত্তরঃ গরু হিন্দুদের মা নয়। আমরা গরুকে মায়ের চোখে দেখি। আর গরু হিন্দুদের মা এটা কোন গ্রন্থে বলা আছে? প্রমাণ দিন।"" 
।
★প্রশ্ন:১২/- আপনি যাকে বানিয়েছেন সে বড়? নাকি আপনাকে যে বানিয়েছে সে বড়? উদাহরনঃ মুর্তি।। উওর: সৃষ্টিকর্তা বড়,,, আমাকে যে বানিয়েছে,,,,, আমরা ঈশ্বরকে বানাতে পারিনা,, তবে তার বিভিন্ন সকার রূপ এর প্রতিমা তৈরী করে,, ঈশ্বরের প্রতি মননিবেশ করে ঈশ্বকে ডাকি,, হিন্দুরা প্রতিমা পূজা করেনা,, প্রতিমার মাধ্যমে ঈশ্বরের ওপর মননিবেশ করে।
।
।
।
।
পাল্টা প্রশ্ন।---
।
প্রশ্ন : ১/ গনিমতের মাল কি? প্রশ্ন :
।
২/ ৭২ হূর এর কি,,, এটা কেন শুধু পুরুষরাই পাবে? ( সুনানে ইবনে মাজহা // হাদিস নং ৪৩৩৭) 
।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪২৪২) প্রশ্ন :৩/ উটের মুত খাওয়ার উপকারিতা কি? 
।
প্রশ্ন:৪ / কাবা শরিফে,, কালো পাথরকে কিস করার উপকারিতা কি এটা কিস করলে নাকি সকল পাপ নাশ হয়,,? 
।
প্রশ্ন :৫/ শয়তানের ঘরে পাথর মারার উপকারিতা কি? 
।
প্রশ্ন :৬/ আল্লাহর পৃথিবী সৃষ্টি করতে ৬ দিল লাগে আর কোরান নাজিল করতে ২৩ বছর লাগে,, এটা কি হাস্যকর নয়? 
।
প্রশ্ন:৭/ নিজের পুএ বধূকে বিবাহের বৈধতা কতটুকু?( সা:)
।
প্রশ্ন :৮/ ২৫ বছর বয়সে মোহাম্মদ তার মার বয়সি ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করে ,, এর ব্যাখ্যা কি?
।
প্রশ্ন:৯/ ৬ বছরে আয়শাকে বিবাহ করে তাকে ধর্ষন এর,, মনবতা কি? 
।
প্রশ্ন:১০/ নারীর সন্মান কি? (কোরান ২/২২৩ এ বলা আছে নারী শষ্যখেত) 
।
প্রশ্ন:১১/ হিল্লা বিয়ে কি এর উপকারিতা কি? 
।
প্রশ্ন:১২ / ইসলামে,, পুরুষ এবং মহিলাদের অধিকার কেন সমান নয়? মহিলারা কেন মসজিদে নামাজ পড়তে পাড়বেনা,, একেমন ধর্ম,,যেখানে নারী পুরুষকে আলাদা ভাবা হয়?
।
প্রশ্ন:১৩/ আল্লাহ কেন আপনাদের জন্ম থেকে মুসলিম বানায়না তার কি এই ক্ষমতা নেই? তাহলল কেন আগা কাটা লাগে (খাৎতা)?
//
/
ক্ষমতা থাকলে আমার এই ১৩টা প্রশ্নের উওর দিন,,,, তার পর আরো প্রশ্ন করবো।
।
সত্যমেব জয়তে।
।
নমস্কার





" জীব সেবাই পরম ধর্ম''