এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

রাম ইতিহাস নাকি কল্পকাহিনী

 


#রামায়ণ_ইতিহাস_নাকি_কল্পকাহিনী_জেনে_নিন 
রাম সেতু বর্তমান ভারতে আলােচনার কেন্দ্রবিন্দু। ভারত সরকার উচ্চ আদালতে ঘােষণা করেছে যে, রাম নামের কেউ পৃথিবীতে কখনাে ছিল না। যাই হােক অন্য রাজনৈতিক দল এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তীব্র বিরােধিতা ও অন্যদিকে আপিল বিভাগের রামায়ণের সত্যতা স্বীকার করে নেয়া এক সময়ের আলােচিত বিষয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মত হিন্দু সংগঠনগুলাে দাবি করেছে যে, রামের অস্তিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক তা শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রমাণ করা সম্ভব নয়।

রামের অস্তিত্ব লক্ষ লক্ষ লােকের কাছে বিশ্বাসের ব্যাপার। এই কারণে কোনাে সরকারই রামের অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের এই তত্ত্ববিদগণ কট্টরভাবে সরকারকে আক্রমণ করেনি এবং প্রমাণ করেছে যে রামায়ণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তা সত্ত্বেও তারা অপ্রত্যাশিতভাবে কাশ্মীরের ‘হারিয়াত’ কনফারেন্স থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। 'হারিয়াত কনফারেন্স এ দাবি করা হয় যে, শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক এবং ঐতিহাসিক প্রমাণগুলােকে ধর্মের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়কে পরিমাপের মাপকাঠিকে ব্যবহার করা উচিত নয়। এই কারণে রামের অস্তিত্ব ছিল কি ছিল না সেটা শুধুই একপাক্ষিক ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সাপেক্ষে বিচার্য নয়। কারণ এটি যেমন লক্ষ লক্ষ লােকের ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সহম্পর্কিত তেমনি প্রাচীন এই ইতিহাসের অনেক নির্দশন আজ প্রায় বিলুপ্ত। সেকারণে এব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ অপ্রত্যাশিত। ইতােমধ্যে কিছু বিজ্ঞানী জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে দাবি করেছে যে, ৫০৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রামের অস্তিত্ব পৃথিবীতে ছিল। এই রকম একটি হতবম্ভকর অবস্থায় সাধারণ লােকের পক্ষে রামের অস্তিত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া কঠিন কাজ। এই কারণে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে রাম এবং মহাকাব্য রামায়ণ নিয়ে আমাদের বিশ্লেষণ করা প্রয়ােজন।

#কে_এই_রাম

মহাঋষি বাল্মীকি এমন একটি ঐতিহাসিক মহাকাব্য লিখতে চেয়েছিলেন যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথপ্রদর্শকের, নীতি নির্ধারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। এই বিষয়ে লিখতে গিয়ে তাঁকে গভীর বেগ পেতে হয়েছিল। যখন তিন নারদ মুনির সাথে পরামর্শ করেছিলেন, নারদ মুনি রঘুবংশে জন্মগ্রহণকারী দশরথের পুত্র রামকে নিয়ে মহাকাব্য রচনার পরামর্শ দেন। এখানে একটি বিষয় মনেরাখা দরকার যে, বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছিলেন রামের জন্মের বহু পরে। এটা বিদ্যমান কিংবদন্তীর তথা বর্তমান প্রচলিত ধারণা রামের জন্মের পূর্বে রামায়ণের রচনা তার সাথে সাংঘর্ষিক। এই বিষয়ে বাল্মীকি রামায়ণে যথাযথ বর্ণনা করা হয়েছে। একইভাবে মহাকবি কালিদাস লিখেছেন রঘুবংশ। এই পুস্তকে রঘুবংশ পরম্পরার উপর আলােকপাত করা হয়েছে। যারা রামের পরে দেশ শাসন করেছেন। এখন তর্কের বিষয় হতে পারে যে রাম যদি কল্পকাহিনীর চরিত্র হয় বাল্মীকি কিভাবে রামের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস আলােচনা করেছেন। সেখানে রঘুবংশে কালিদাস রামের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং উত্তর পুরুষদের বর্ণনা করেছেন যারা পরবর্তীকালে দেশ শাসন করেছেন। বর্তমান সময়ে রামের গল্প নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই ভারতে ও সমস্ত বিশ্বে বিদ্যমান।

#রাম_কখন_জন্ম_গ্রহণ_করেছিলেন?

এই বিষয়ে আলােচনা করার আগে আমাদের প্রথমত জানতে হবে যে, আমাদের মুনিঋষিরা মন্বন্তর তত্ত্বে পদ্ধতিগতভাবে সৃষ্টির সময়কাল নিয়ে আলােচনা করেছেন। প্রত্যেকটা মন্বন্তরকে আবার চারটি যুগে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক চতুর্যুগ সত্য, ক্রেতা, দ্বাপর ও কলি দ্বারা গঠিত। বর্তমান মন্বন্তরের নাম বৈবশ্বত্য। ইতােমধ্যে এই মন্বন্তরে ২৭টি চতুর্যুগ বিগত হয়েছে। বর্তমান চতুর্যুগটি ২৮ তম এবং এবং প্রথম দিকের সময় চলমান। এটা সর্বজন বিদিত যে, ত্রেতাযুগের শেষভাগে এসে রাম জন্ম গ্রহণ করেন। একারণে এটা যদি ধারণা করা হয় যে রাম বর্তমান চতুর্যুগের সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাহলে এটা বােঝায় যে তিনি ১০ লক্ষ বছর আগে জন্মেছিলেন। তাঁর জন্মের এই সময় আরাে পিছিয়ে যেতে পারে। যাই হােক বায়ুপুরাণে রামায়ণের ঘটনাপঞ্জির সঠিক সময় দেয়া আছে। একটি প্রমাণ দ্বারা ঘটনার সত্যতাকে বিচার করা যায় যখন হনুমান সীতার খোঁজে লঙ্কায় গিয়েছিল তখন সে চার দাঁতওয়ালা হাতি দেখতে পায়। একারণে প্রত্নতত্ত্ববিদ ও জীববিজ্ঞানীদের কাছেই প্রশ্ন যে কত বছর পূর্বে চার দাঁতওয়ালা হাতি বর্তমান ছিল।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাল্মীকি রামায়ণে উল্লেখ করা হয়েছে তা হলাে ভরত এবং শত্রুদ্নের পিতৃভূমিতে এমন যানবাহন ব্যবহার করা হতাে যেটি কুকুর বা হরিণ চালিত ছিল। যখন দুই ভাই মামাবাড়ি থেকে অযােধ্যায় ফিরে আসে পথিমধ্যে তারা অনেক পথ অতিক্রম করেছিলেন যেগুলাে বরফে ঢাকা ছিল এবং শীত থেকে রক্ষা পেতে উলের গরম কাপড় ব্যবহার করেছিলেন। এখানে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে তা বিবেচ্য বিষয়। আমাদের যুক্তিতে এই জায়গাটি 'রাশিয়া কারণ 'রাশিয়া' শব্দটি 'ঋষি শব্দ থেকে এসেছে। উল্লিখিত বিষয়টি বলে দেয় যে রাম কোন সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

সুতরাং যারা রামকে কল্পকহিনীর চরিত্র হিসেবে দাঁড় করাতে চায় তাদেরকে আমরা এমন কিছু প্রমাণ দিতে পারবাে যা প্রমাণিত করবে খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্মের অনেক আগে রাম সমস্ত বিশ্বে একজন অপরিসীম শ্রদ্ধার ধর্মীয় ব্যক্তি ছিলেন।

#বিশ্বের_বিভিন্ন_প্রান্তে_রামায়ণের_কিংবদন্তী

১) রাশিয়া এবং মঙ্গোলিয়াতে রামায়ণ— ১৯৭২ সালের ১৫ ডিসেম্বর ডেকান হেরাল্ড এর প্রথম পাতায় একটি খবর ছাপা হয়। যেখানে বলা হয় রাশিয়ার কল্মিক এর রাজধানী এলিস্টাতে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত ছিল যেগুলাে রামায়ণ থেকে নেয়া। ঐ সংবাদে আরও বলা হয় রামায়ণের বিভিন্ন কিংবদন্তী কল্মকের লােকজনের মধ্যে এখনাে জনপ্রিয়। কল্মিকের গ্রন্থাগারে রামায়ণের অনেক সংস্করণ এখনাে সংরক্ষিত আছে। এই সংবাদ থেকে পরিস্কার যে রামায়ণের কাহিনী সুপ্রাচীনকাল থেকেই রাশিয়ায় জনপ্রিয় ছিল। রাশিয়ার লেখক ডমােডিন সুরেন মঙ্গোলিয়া এবং কলািকের লােকের মধ্যে প্রচলিত এধরনের কিংবদন্তীর সংকলন করেন। অধ্যাপক সি. এফ. গােস্টানকির পাণ্ডুলিপি, 'একাডেমি অব সাইন্স সােভিয়েত ইউনিয়নের সাইবেরিয়ান শাখায় সংরক্ষিত রয়েছে। ওই বইগুলােতে ভােলগা নদীর তীরবর্তী লােকজনের মধ্যে প্রচলিত জনপ্রিয় কিংবদন্তী নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে যা রামায়ণ সংশ্লিষ্ট। এই পাণ্ডুলিপিটি কলিক ভাষায় রচিত। লেনিনগ্রাদের রাশিয়ান এবং মঙ্গোলিয়ান ভাষায় লেখা রামায়ণের বিভিন্ন গল্প সংরক্ষিত আছে।

২) চীনে রামায়ণ— চীনে ক্যাং সেং হু কর্তৃক জাতকের গল্পসংগ্রহে রামায়ণের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, যেগুলাে ২৫১ খ্রিস্টাব্দে সংকলিত হয়েছিল। রামকে বনবাসে পাঠানাের আদেশ দেওয়ার পর পিতা দশরথের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে রচিত গ্রন্থ যা ৭৪২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় সেটি এখনাে চীনে প্রচলিত। একইভাবে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে হিজ-ইঈ-চি কপি(বানর) নামে একটি উপন্যাস লেখেন যেটি রামায়ণে বর্ণিত হনুমানের কাহিনী নিয়ে রচিত।

৩) শ্রীলংকায় রামায়ণ— নরেশ কুমার ধাতুসেনা ওরফে কুমারদাসা যিনি ৬১৭ খ্রিস্টাব্দে শ্রীলংকার শাসক ছিলেন তিনি জানকী হরণ নামে একটি গ্রন্থ লেখেন। এটি হচ্ছে শ্রীলংকায় প্রচলিত সংস্কৃত সাহিত্যগুলাের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন। বর্তমান সময়ে সি ডন বােস্তান এবং জন ডি সিলভা রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে গল্প রচনা করেছেন। বর্তমান সময়েও অধিকাংশ লােকই রাম এবং সীতাকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান করে থাকেন।


৪) কম্বােডিয়ায় রামায়ণ— কম্বােডিয়ার খেমার অঞ্চলে ৭০০ খ্রিস্টাব্দের পুরাতন বিভিন্ন পাথর খােদাইয়ের চিত্র পাওয়া যায়। এই পাথর খােদাইয়ের চিত্রগুলাে রামায়ণের গল্পের ওপর ভিত্তি করে চিত্রিত। প্রাচীন খেমার বংশের শাসনামলে সেখানে বিভিন্ন মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল যেগুলাের দেয়ালে রামায়ণের গল্প চিত্রিত হয়েছে। রামায়ণ ও মহাভারতের গল্পের জন্য পৃথিবীর সর্ববৃহৎ হিন্দু মন্দির অ্যাংকার ভাট গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্দিরটির নির্মাণ সময় ৪০০-৭০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। এই ছবিগুলাের মধ্যে একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার লক্ষণীয় হনুমান এবং অন্য বানরগুলাের ছবিতে লেজ ব্যবহৃত হয়নি। যেটি সাধারণ লােকের বিশ্বাসের বিপরীত।

৫) ইন্দোনেশিয়ায় রামায়ণ— ডি ক্যাপ্রিস এর মতানুসারে ইন্দোনেশিয়াতে চান্দিরােলাে জংরং' নামে একটি মন্দির ছিল যার দেয়ালে রামায়ণের গল্পের বিভিন্ন চিত্র আঁকা ছিল। এই মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে নির্মিত। ইন্দোনেশিয়ায় ‘ককাভিন নামে রামায়ণের ভিন্ন সংস্করণ খুবই জনপ্রিয়। প্রামবানানের গল্প থেকে এর কিছুটা পার্থক্য লক্ষ করা যায়। রামায়ণের বিভিন্ন সংকলন ছাড়াও যিশুখ্রিস্টের জন্মের পূর্বে যেসমস্ত গল্প ইন্দোনেশিয়ায় প্রচলিত ছিল সেগুলাে প্রমাণ করে যে ইসলাম আক্রমণের অনেক পূর্বেই ইন্দোনেশিয়ার লােকজনের মধ্যে রামায়ণের গল্পগুলাে জনপ্রিয় ছিল। উল্লেখ যে রামায়ণে বর্ণিত রাজা সুগ্রীবের রাজত্ব ছিল ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে। সেখানে আজও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে রামায়ণের প্রথম আন্তর্জাতিক কনভেনশন ইন্দোনেশিয়াতে অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি ইন্দোনেশিয়ার বিমানের প্রতীক গারুদা অর্থাৎ গরুড় পাখি যা ভগবান বিষ্ণুর বাহন।

৬) লাওসে রামায়ণ— লাওসে স্থানীয় লােকজন যখন লাওস শব্দটি উচ্চারণ করে তখন তা শুনতে রামের ছেলে লবের মতাে শােনায়। এছাড়াও ভ্যাট-সি-ফম ও ভ্যাট-পা-কেভ এর মন্দিরের দেয়ালে রামায়ণের গল্পের চিত্র অঙ্কিত আছে। এই মন্দিরগুলােতে মহাকাব্য রামায়ণ পুস্তকাকারে সংরক্ষিত আছে। ফরাসি পরিব্রাজক 'ল্যাফন্ট, 'পা লাকা-পা লাম' বইটি ফ্রান্সে 'পিওমমাচক নামে অনুবাদ করেন। এই বইয়ে লাওসের সাধারণ লােকজনের মধ্যে প্রচলিত রামায়ণের গল্পের বিষয়ে আলােকপাত করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে রামায়ণে গল্প অত্যধিক প্রচলিত। যিশু খ্রিস্টের ঠিক পরবর্তী সময়ে রাজারা তাদের নামের আদ্য ও অন্তে রাম শব্দটি ব্যবহার করত। যেরকমভাবে আমরা উপমহাদেশে রামায়ণের নাটক মঞ্চস্থ করি, থাইল্যান্ডে আজ পর্যন্ত রামায়ণের নাটকের বিভিন্ন

৭) থাইল্যান্ডে রামায়ণ— সংকলন মঞ্চস্থ হয়। একইভাবে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলাে যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালেয়শিয়া, কম্বোডিয়াতে রামায়ণের নাটক মঞ্চস্থ হয়।

৮) মালেশিয়াতে রামায়ণ— চতুর্দশ শতাব্দীতে লেখা 'হিকায়ায়াদ সেরি রামা'র গল্পের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন নাটক মালেশিয়াতে মঞ্চস্থ হয়। দালাং সমাজ ২০০-৩০০টি রামায়ণ সংশ্লিষ্ট নাটক মঞ্চস্থ করেছে। এই নাটকগুলাে শুরুর আগে লােকজনরা রাম ও সীতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রার্থনার আয়ােজন করে।

৯) বার্মাতে রামায়ণ— রাজা কায়ানযিথা ১০৮৪-১১১২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বার্মা শাসন করেছিলেন যিনি রামের বংশধরের একজন বলে পরিচিত ছিলেন। রামায়ণের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন গল্প যেগুলাে পনেরাে শতাব্দীতে লেখা সেগুলাে বার্মাতে এখনাে পর্যন্ত বর্তমান। বার্মার সাহিত্যে 'কাব্যদাশ', ও সুভাসিত রাতানিধি বই দুইটি রামায়ণের গল্প অবলম্বনে রচিত। তারানাথ কর্তৃক লিখিত 'ঝাং-বুং-পা (রামভাষ্য) বইটি বর্তমানে পাওয়া যায় না। বার্মাতেও রামায়ণের গল্পের ওপর রচিত বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ হয়।

১০) নেপালে রামায়ণ— ১০৭৫ খ্রিস্টাব্দের পুরাতন রামায়ণের সংকলনটি নেপালে অদ্যাবধি বর্তমান।

১১) ফিলিপাইনে রামায়ণ— ফিলিপাইনের সাধারণের মধ্যে রামায়ণের গল্পের প্রভাব তাদের ঐতিহ্য, প্রথা এবং কিংবদন্তীতে লক্ষণীয়। অধ্যাপক জুঅন আর ফ্রান্সিসকো দেখিয়েছেন যে, মেরিনিও মুসলিমদের মধ্যে রামায়ণের কিংবদন্তী খুবই জনপ্রিয়। যেখানে রামকে ঈশ্বরের অবতাররূপে মানা হয়। একইভাবে ম্যাজেন্ডানাও অথবা সুলুফোক মুসলমানদের মধ্যে রামের গল্প জনপ্রিয়।

১২) ইরানে রামায়ণ— অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী হায়দারাবাদে সালারজুং নামের একটি জাদুঘর আছে। সেখানে একটি স্থূলকায় বানরের ছবি আছে। যার একহাতে একটি বড় পাথর। এই চিত্রটি সেই হনুমানের কথা মনে করিয়ে দেয় যে দ্রোণাগিরি ধরে রেখেছিল । একইভাবে মারকো পােলাে তার ভ্রমণ বইয়ের ৩০২ নং পৃষ্ঠার দ্বিতীয় খণ্ডে এমন একটি বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত একটি অসামঞ্জস্য বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন। যেটি আফগানিস্তান থেকে মরক্কো এবং আলজেরিয়া পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। এই মুসলিমরা বিশ্বাস করত যে, ত্রিবজান রাজ্যের রাজকীয় পরিবারের সদস্যদের ছােট লেজ ছিল। আরব ও ইউরােপের দেশগুলােতে প্রচলিত গল্পগুলােকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের অনেক আগে রামায়ণ এবং মহাভারতের কহিনী এই এলাকাগুলােকে প্রচলিত ছিল। এই এলাকার লােকজনের উগ্র বর্বরােচিত কর্মকাণ্ডের ফলে সেই সমস্ত গল্প এবং স্থাপনাগুলাে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে গেছে।

১৩) ইউরােপে রামায়ণ— ইতালিতে 'এস্ট্রোকন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের খননকাজ শুরু হয় তখন সেগুলাের দেয়ালে কিছু অদ্ভুত ধরনের চিত্রকর্ম পাওয়া যায় সেসব চিত্রকর্মের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয় যে সেগুলাে রামায়ণের গল্পের ওপর ভিত্তি করে চিত্রিত। কিছু চিত্র কর্মে দেখা যায় লেজযুক্ত একজন ব্যক্তির পাশে তীরধনুক কাধে দুই ব্যক্তি এবং তাদের পাশে দণ্ডায়মান এক নারী। এই সমস্ত চিত্রকর্ম ৭ম খ্রিস্টপূর্বাব্দের। এটা মনে রাখা উচিত যে এস্ট্রোগণ সভ্যতা ইতালির ৭৫ টি অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল। মার্কোপােলাের লেখা অনুবাদ করতে গিয়ে স্যার হেনরি ইউল দেখিয়েছেন যে মধ্যযুগে ইউরােপীয়দের মধ্যে যেসমস্ত বিশ্বাস প্রচলিত ছিল তার মধ্যে ছােট্ট লেজযুক্ত পূর্বপুরুষদের অস্তিত্বের বিশ্বাস অন্যতম। মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী তার লেখা 'সত্যার্থপ্রকাশ এ এই বিষয়ে আলােকপাত করেছেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন ইউরােপের লােকদের একসময় মানকি বলা হতাে। বর্তমান আলােচনার প্রেক্ষিতে যদি এই উক্তি বিবেচনা করি তাহলে আমরা অষ্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট টিমকে ক্যাঙ্গারু, বাংলাদেশ দলকে টাইগার বলার বিষয়টি কিভাবে বিবেচনা করব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর বর্ণনায় এই ধরনের গুণবাচক শব্দ ব্যবহার করা হতাে। যেমন: ভারতের 'চিতা নামে একটি হেলিকপ্টার আছে। যেহেতু এসমস্ত শব্দগুলাে বিভিন্ন বর্ণের লােকদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় তাই রাক্ষস ও বানর শব্দগুলােও হিন্দু কিংবদন্তীগুলােতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের লােকদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। এই বিষয়গুলাে থেকে বােঝা যায় যে রামায়ণ কোনাে কল্পকাহিনী নয়, তা সমস্ত বিশেই খুব জনপ্রিয় ছিল।

১৪) আফ্রিকায় রামায়ণ— ইথিওপিয়ার লােকজন তাদেরকে 'কুশিথস বংশের বলে দাবি করে। কুশ শব্দটি মূলত রামের ছেলে কুশের নাম থেকে এসেছে। এ বিষয়টি শতপথ ব্রাহ্মণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বেদের মন্ত্রগুলােকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই ব্রাহ্মণটি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেছে। আশ্চার্যজনকভাবে শতপথ ব্রাহ্মণে আমরা দেখি রােডেশিয়ার রাজা ভরতের(কৌরব ও পাণ্ডবদের পূর্বপুরুষ)কথা উল্লেখ আছে। এছাড়াও মহাকাব্য রামায়ণ দ্বারা অনুপ্রাণিত বিভিন্ন অসঙ্গতিমূলক গল্প আফ্রিকার সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত আছে। সেগুলাে বানরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপর রচিত। ইজিপ্ট" শব্দটি মূলত 'আজপাতি' শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। যেটি রামের পূর্বপুরুষদের একজনের নাম। মিশরে বিদ্যমান বিভিন্ন লােকগল্পকে যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে রামের পিতা দশরথের দেখা মিলবে।

১৫) উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় রামায়ণ— কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কারের পূর্বে ইউরােপের লােকজন এসম্পর্কে জানত না। যদিও এ ডি কোয়ান্ট্রিফেজেস তার বই 'দি হিউম্যান স্পেসিস'-এ বলেছেন- চীনের লােকজনেরা আমেরিকা মহাদেশ সম্পর্কে জানত। এবং তাদের সাথে বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিল। চীনারা আমেরিকানদের 'ফাৎ সাং' নামে উল্লেখ করতাে। একইভাবে জাপানিদের কাছে তা ফাৎ সি' নামে পরিচিত ছিল। একইভাবে আমরা যদি রামায়ণ-মহাভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে লক্ষ করি আমরা দেখব যে সেখান আমেরিকা মহাদেশকে পাতাল দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভৌগােলিকভাবে যদি আমরা আমেরিকা মহাদেশকে বিচার করি তাহলে দেখা যাবে আমেরিকা মহাদেশ ঠিক ভারতের নিচে অবস্থিত।


#প্রচলিত_জনপ্রিয়_দুটি_কিংবদন্তী

ক) মেক্সিকোর উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সুন্দরী মেয়েদেরকে এখনাে উলুপী নামে ডাকা হয়। মহাভারতে আমার দেখতে পাই অর্জুন উলুপী নামে একজন মেয়েকে বিবাহ করেন যিনি ছিলেন পাতাল দেশের রাজকন্যা।

খ) ডব্লিউ এইচ প্রেসকট তার বই হিস্ট্রি অব কনকুয়েস্ট অব মেক্সিকো' তে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করেছেন যেটা প্রমাণ করে যে আমেরিকা মহাদেশের প্রাচীন সভ্যতার সাথে ভারতীয় আর্য সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। বর্তমানেও মেক্সিকোর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে 'রামাসীততাভ একটি জনপ্রিয় নাটক। বাইবেলের নিউস্টেটামেন্টেMathewch ২/১৮, তে বলা হয়েছে তাঁর কণ্ঠ রামের কণ্ঠে শোনা যায়। রাম শব্দটিকে সেখানে সর্বনাম পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখন এটা বাইবেলিয় সমাজের দায়িত্ব রাম কে তা বিশ্লেষণ করা এবং কেন তাকে বাইবেলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি রাজা দশরথ এবং অযােধ্যার নামও বাইবেলে আছে।

#ঐতিহাসিকদের_উদ্দেশ্য_কিছু_প্রশ্নঃ—
ক) মুসলিমরা কেন রােজার মাসকে রামাজান > রমজান বলে?
খ) গাজা উপত্যাকা কেন রামাল্লা নামে পরিচিত?
গ) লন্ডনের রামসগেট কেন রামসগেট বলা হয়?
ঘ) কেন ইতালির রাজধানীকে রােম (রাম থেকে উৎপন্ন) বলা হয়?

আরও অনেক উদাহরণ দেয়া যায় যেখানে রাম শব্দটি উপসর্গ বা অনুসর্গ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন স্থান ও ব্যক্তির নামকরণের ক্ষেত্রে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক প্রমাণ সাপেক্ষে সেগুলােকে বিশ্লেষণ করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্টিজনক উত্তর পাওয়া যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি যে, যদি খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের মতাে মতবাদ জনপ্রিয়তা না পেতাে তাহলে উক্ত নামগুলাের বুৎপত্তিগত অর্থ ব্যাখ্যা করতে সহজ হতাে। এই দুটি ধর্মের বহু শাসক ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্ত ও স্থাপনার ওপর নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গ্রন্থাগার ও স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছে যা তাদের মতের বিরােধী। তবুও আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন যে আমরা বিশ্ব ইতিহাসের ঘটনাপঞ্জিগুলোকে অনেকটা সঠিকভাবে পেয়েছি। আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেছিল তা সর্বজন বিদিত। কোনাে রকম ঐতিহাসিক প্রমাণ ছাড়াই আমরা এটি গ্রহণ করি। যা একটি হাস্যকর ব্যাপার। অপরপক্ষে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আমরা রামকে কল্পকাহিনীই বলতে চাই। ঐতিহাসিকেরা রামের অস্তিত্বের বিরােধিতা করতে গিয়ে এমন কিছু হাস্যকর তত্ত্বের উপস্থাপন করেছেন যা পুরাতন বিবর্তনবাদ তত্ত্বের মতই বৈজ্ঞানিক প্রমাণহীন। বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি দেয়া হয়েছিল চার্চের স্বৈরতান্ত্রিক হস্তক্ষেপকে রুখে দেয়ার জন্য। সেসময় চার্চ দাবি করত গড পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন শূন্য থেকে এবং এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের বয়স ১০ হাজার বছরের বেশি হবে না। বিবর্তনবাদ তত্ত্ব দ্বারা চার্চের একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছিল।

এখন পাঠকের দায়িত্ব তারা রামকে কিভাবে বিবেচনা করবেন। আমরা আশাবাদী পাঠকদের চিন্তার জন্য যথেষ্ঠ পথ প্রদর্শিত হয়েছে। যারা অনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট তারা এখনাে রামের অস্তিত্বকে অস্বীকার করবে এবং যারা বিশ্বাস করে যে নিছক একটা পৌরাণিক চরিত্র সমস্ত বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধা পাওয়ার উপযুক্ত হয় না তারা রামকে ব্যাপক ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্তের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিবেচনা করবে। এখানে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলােকে পরিস্কার করতে চাই।

ক) রাম ছিলেন মহানায়ক, এমন এক রাজা ও কিংবদন্তী যিনি অবতারের মর্যাদা পেয়েছেন। যার আদর্শ আজকের পৃথিবীতেও অনুসরণযােগ্য।

খ) রাম সেতু বর্তমানে নাসা বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রমাণিত।

গ) বাল্মীকির রামায়ণ কোনাে কল্পকাহিনী নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক প্রমাণ। যারা রামের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে চান না তারা যে সমস্ত যুক্তি দিয়ে রামকে প্রমাণ করতে চান ঠিক সেই সমস্ত যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে তাদের আপন পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় কিনা তা তাদের খতিয়ে দেখা উচিত।

(Lord Rama: Myth or truth, By Dr. Vivek Arya : থেকে অনূদিত)

সবার অপ্রিয় শনি।
(সনাতন ধর্মের প্রচারক)



শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

গোমুত্র অপপ্রচার

গোমূত্র নিয়ে কিছু মুসলিমদের করা কটুক্তির জবাবঃ
কথায় কথায় কিছু মুসলমানরা সবসময় হিন্দুদের কে বলতে থাকে, গোমূত্র কি শুদ্ধ জিনিস? ভালো হিন্দু হতে গেলে নাকি গোমূত্র পান করতে হয়। এইটা তো মানবতার লঙ্ঘন এর শামিল।
কিন্তু তারা গোমূত্রের পান করা নিয়ে কোনো রেফারেন্স দেয় না। আর আমি মনে করি যারা রেফারেন্স না দিয়ে কথা বলে, তারা রাস্তার পাগলা কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করার সমান। আর এরা রেফারেন্স দিবে বা কি করে, থাকলেই তো দিবেই। কারন এরা জানে সনাতন ধর্ম থেকে কাউকে দূরে সড়াতে হলে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
সনাতন ধর্মের প্রামান্য শাস্ত্র বেদ, উপনিষদ, মহাভারত, গীতা কোথাও গোমূত্র খাওয়ার কথা উল্লেখ নেয়। যদিও কেউ গোমূত্র খেয়েও থাকে তার জন্য সনাতন ধর্ম কোনোভাবে দায়ী নয়।
প্রকৃতপক্ষে এমন বিধি আছে ইসলামধর্মে। আরবের মুসলিমদের ভেতর উঠের মূত্র পান খুবই জনপ্রিয়। তার প্রমান হাদিস এ বলা আছে দেখুনঃ
"আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত আছে, উরাইনা হতে কয়েকজন লোক মাদীনায় আসল। এ অঞ্চলের আবহাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের অনুকূল না হওয়ায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সাদকার উটের এলাকায় পাঠিয়ে দেন এবং বলেনঃ তোমরা এ দুধ ও প্রস্রাব পান কর। (সহীহ আত্-তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নাম্বার ১৮৪৫, প্রকাশনায়: হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশনী)
"লায়স আরো বলেছেন যে, ইউনুস (রহ.) ইবনু শিহাব (রহ.) থেকে আমার নিকট বর্ননা করেছেন, তিনি বলেছেন যে, আমি এ হাদিসের বর্ননাকারী (আবূ ইদরীস)-কে জিঙ্গেস করছি যে, গাধীর দুগ্ধ, হিংস্র প্রানীর পিত্তের রস এবং উটের পেশাব পান করা বা তা দিয়ে অযু বৈধ কিনা? তিনি বলেছেনঃ আগেকার মুসলিমগন উটের প্রস্রাবের সাহায্য চিকিৎসার কাজ করতেন এবং এটা তারা কোন পাপ মনে করতেন না।"(সহীহ বুখারী, হাদিস নাম্বার ৫৭৮১, প্রকাশনায়: তাওহীদ পাবলিকেশন্স)
এই দুইটা হাদিস পড়েই আমরা এতক্ষনে বুঝতে পারলাম, ইসলামের উঠের মুত মহা ঔষধ যা ইসলামের নবী মোহাম্মদ নিজে বলে গেছেন।
যাইহোক আমি ভাবলাম উঠের মূত্র আবার কেউ খায় নাকি, কিন্তু সত্যিটা জানতে গিয়ে যা পেলাম সেটা হলো, মুসলিমরা সত্যি সত্যি উঠের মূত্র পান করে। দেখুন ভিডিওতে সৌদি আরবের মুসলিমরা কিভাবে উঠের মূত্র পান করে।
এছাড়াও আরবদেশ গুলোতে পেট্রোলের চেয়ে কয়েকগুন বেশি দামে এই উঠের মূত্র বিক্রি হয়ে থাকে। সম্প্রতি কয়েকটি দোকান সৌদি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে, কারন উঠের মুতের পরিবর্তে নিজ প্রস্রাব বিক্রির দায়ে বন্ধ হয়ে গেলো বেশ কিছু সৌদি উঠের মুতের দোকান। বিস্তারিত লিংক এ গিয়ে দেখুন।
Link:
এরপর একদিন জানতে পারলাম, উঠের মুত না খাওয়ার জন্য মুসলমানদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিস্তারিত জানতে দেখুন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়।
Link:
পরে ভাবলাম মুসলমান ভাইয়েরা হাদিস পড়ে বা মোহাম্মদের কথা শুনে উঠের মুত খাবে তাতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমস্যা কীসের???
শেষে ঘেটে যা পেলাম তা অবিশ্বাস করার মত। মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের ভাইরাস পাওয়া গেছে যা ভয়ানক ধরনের শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত রোগ, এছাড়া জ্বর, সর্দি রোগও সৃষ্টি করছে। সেটি মধ্যপ্রাচ্চে অনেকটা মহামারী আকার ধারন করেছে। এই রোগটির নাম দেয়া হয়েছে Middle East Respiratory Syndrome (MERS). রোগটি শুধুমাত্র মুসলমানদের হচ্ছে এবং সেটি উঠের মুত পান করার জন্য তা নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বের এই সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সংস্থা। তাই তারা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে উঠের মুত না খাওয়ার জন্য। এই রোগে এই পর্যন্ত অনেকজন প্রান হারিয়েছেন এবং এটি ধীরে ধীরে সৌদিদের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি এবং এ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ
Link:
উপরোক্ত আলোচনা থেকে সেইসব মুসলিমদের আমি বলতে চায় আপনারা যারা গোমূত্র নিয়ে শুদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছেন, এখন বলেন তো উঠের মুত কী শুদ্ধতা?
উঠের মুত খাওয়ার ফলে অনেকের মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খুলে ঢুলে পড়ছে, যা এ পর্যন্তই অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। আপনাদের যখন মনে হয় হিন্দুরা গোমূত্রে খেলে মানবতার লঙ্ঘন হয়ে যায়। যদিও সনাতনধর্মে গোমূত্র খাওয়ার বিধান নেই। তো সেইসব মুসলিমদের আমি বলতে চাই, উপরোক্ত উল্লেখিত থেকে কি প্রমান হয়না যে, উঠের মুত খাওয়ার ফলে মানবতার লঙ্ঘন শামিল হচ্ছে?
তাছাড়া সেইসব মুসলিমদের আরেকটা দাবি হলো ভালো হিন্দু হতে গেলে নাকি গোমূত্র পান করতে হবেই। তাহলে আমি সেসব মুসলিমদের বলতে চাই, আপনাদের ভালো মুসলিম হতে গেলে তো অবশ্যই আপনাকে উঠের মুত পান করতে হবেই। তবে শেষ পরিনিতি কি হবে, উঠের মুত পান করার ফলে আপনার ভাইরাসজনিত মৃত্যু। তাহলে উঠের মুতের চেয়ে গোমূত্র খাওয়া আপনার জন্য মঙ্গলজনক নয় কী? তাহলে তো অনন্ত প্রানে বেঁচে যাবেন।
আশা করি গোমূত্র নিয়ে অপপ্রচারের জবাব দিতে পেরেছি, ভবিষ্যতে যাতে গোমূত্র প্রসঙ্গ নিয়ে সনাতনধর্মকে কটুক্তি করার আগে একবার হলেও ভেবে নিবেন। নয়তো গর্তে পড়লে সেখান থেকে আর বের হয়ে আসতে পারবেন না।
❤জয় শ্রীরাম জয় শ্রীকৃষ্ণ❤ জয় হোক সত্য সনাতনের🙏
suvongkar deb shuvo

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

কৃষ্ণ ও তাকে নিয়ে অপপ্রচার

অনেকের দাবি হলোঃ



শ্রীকৃষ্ণ তার নিজ আপন মামী রাধার সাথে প্রেম করেছে, এমনকি ১৬১০৮টি মেয়েকে বিবাহ করেন, এই কেমন ঈশ্বর যে পরকিয়া লিপ্ত থাকে। আবার অনেকেই বলে, লক্ষ্মীদেবীর অংশ হলো রাধা, এই সূত্র তারা রাধাকৃষ্ণের প্রেম সত্য বলে ধরে নেই, অনেকে আবার হয়তো রাধাকে, শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী বলে ধরেও নেই।
এই প্রশ্নগুলো সচারচর মুসলমানরা সাধারন সনাতনী ব্যাক্তিদের করে থাকে, কিন্তু তারা এই প্রশ্নের গুলোর সম্মুখীন হলেও তাদেরকে সদুত্তর দিতে পারেনা, অনেক সময় এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সাধারন সনাতনীরা হীনমন্যতা ভোগে এবং তারা নিজের ধর্মকে তখন ভ্রান্ত বলে মনে করতে থাকে। আজকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।
এখন দেখা যাক রাধা কৃষ্ণের মামী কিনা?
আপনারা জানেন মামীর স্বামী হলো মামা, আর সেই মামা হলো মায়ের ভাই। মুমিনরা বলছে যে, রাধা কৃষ্ণের মামী। তাহলে রাধার স্বামীকে হতে হবে কৃষ্ণের মায়ের কোনো ভাই। এখন দেখা যাক রাধার স্বামী বলে যাকে বলা হয় সেই আয়ান ঘোষ, প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণের মায়ের ভাই কিনা।
কৃষ্ণের মা ছিলো দুইজন। জন্মদাত্রী দেবকী, আর পালক যশোদা। দেবকীর ভাই কংস, কংসের যেহেতু অন্য কোনো ভাই ছিলো না সেহেতু এই দিক থেকে কৃষ্ণের অন্য কোনো মামা থাকা সম্ভব নয়। বাকী রইলো যশোদা; কথিত রাধার কথিত স্বামী আয়ান ঘোষ যে যশোদার ভাই সেই ব্যাপারে শ্রীমদ্ভাগবত, যেটা শ্রীকৃষ্ণের প্রামান্য জীবনী এবং মহাভারত, যাতে কৃষ্ণের জীবনের অনেক কাহিনী আছে, এই দুটো গ্রন্থে কোনো তথ্য নেই। এছাড়া আয়ান ঘোষও যে একটা কাল্পনিক চরিত্র তার প্রমান তার ঘোষ পদবী দিয়ে।কারন কৃষ্ণের সময় ঘোষ পদবী বলে কিছু ছিলো না। এই ঘোষ পদবি মধ্যযুগের উৎপত্তি। সংস্কৃত ভাগবত এবং মূল মহাভারতে রাধা কৃষ্ণের প্রেমের কোনো কথা উল্লেখ নেই।
তারপর দেখা যাক রাধা, লক্ষ্মীদেবীর অংশ কিনা?
হরিদাস সিদ্ধান্ত বাগীশ অনুবাদকৃত মহাভারতে বলা আছে,
"লক্ষ্মীদেবীর অংশ, শ্রীকৃষ্ণেরই প্রীতির জন্য পৃথিবীতে আসিয়া ভীষ্মকরাজার কন্যারূপে রুক্মিণী নামে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন।।
(মহাভারতঃ আদিপর্ব, দ্বিষষ্টিতমোধ্যায় (৬২ অধ্যায়), শ্লোক ১৫৭)
সুতরাং, আমরা দেখতেই পাচ্ছি, রাধা কোনো লক্ষ্মীর অংশ নয়। একমাত্র লক্ষ্মীর অংশ হলো রুক্মিণী। তার মানে শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী হওয়ার যোগ্য রাখে শুধুমাত্র লক্ষ্মীদেবীর অংশ স্বয়ং রুক্মিণী ই। কারন যিনি রুক্মিণী তিনিই হলেন লক্ষ্মী এবং যিনি শ্রীকৃষ্ণ তিনিই হলেন নারায়ন। শ্রীকৃষ্ণই যে স্বয়ং নারায়ন, এই প্রসঙ্গে হরিদাশ সিদ্ধান্ত বাগীশ অনুবাদকৃত মহাভারতে বলা আছে,
" নারায়ন নামে যিনি সনাতন এবং দেবগনেরও দেবতা ছিলেন, তিনিই মর্ত্ত্যলোকে আসিয়া প্রতাপশালী কৃষ্ণরূপে জন্মগ্রহন করিয়াছিলেন।।
(মহাভারতঃ আদিপর্ব, দ্বিষষ্টিতমোহধ্যায় (৬২ অধ্যায়), শ্লোক ১৫২)
এরপর দেখা যাক শ্রীকৃষ্ণ কাকে বিবাহ করেছিলেন?
মহাভারত এর অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১৪, শ্লোক ৭ এবং আদিপর্ব, অধ্যায় ৬২, শ্লোক ১৫৬ এখানে বলা আছে, শ্রীকৃষ্ণের ১৬০০০ স্ত্রী ছিলো। কিন্তু বাস্তবে এই শ্লোক গুলো প্রক্ষিপ্ত। কেননা মহাভারতের আগে মোট শ্লোক ছিলো ৮৪,৮৩৬। এখন বর্তমানে শ্লোক ১,০৭,৩৯০। যা বর্তমানে সময়ের সাথে সাথে অনেক গুলো শ্লোক প্রক্ষিপ্ত হয়েছে।
পুরান এর কাহিনি অনুসারে আমরা পাই, নরকাসুর থেকে শ্রীকৃষ্ণ এই ১৬০০০ মেয়েকে বন্ধি থেকে উদ্ধার করে বিবাহ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে অনেকে বলে সেই সময়ে সমাজে এইসব মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার সম্ভব ছিলো না বিধায় তাই তাদেরকে শ্রীকৃষ্ণ বিবাহ করে নেই। কিন্তু বাস্তবে এইসব ঘটেও নি সেটার প্রমান আমরা নরকাসুরের জন্মের বৃত্তান্ত থেকেই জানতে পারবো।
বিষ্ণু যখন বরাহ অবতার রূপ ধারন করে জলমগ্ন পৃথিবীকে উদ্ধার করেছিলেন, তখন পৃথিবী ও বরাহের সংস্পর্শে নরকাসুরের জন্ম, এই সূত্রে পৃথিবী মানে Earth হলো নরকের মা। এখন বলেন, বাস্তবে এটা কি সম্ভব? পৃথিবী কি মানুষ, যে সে সরাসরি কোনো মানব সন্তানের জন্ম দেবে?
নরকাসুরের জন্মের এই অবাস্তব কাহিনীই বলে দেয় যে, নরকাসুরের ঘটনা সম্পূর্ণ বানানো।
যদি কৃষ্ণ এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতো, তাহলে যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞের সময়, সেখানে উপস্থিত শিশুপাল, যে ছিলো কৃষ্ণের প্রধান শত্রু ও সমালোচক, সে কৃষ্ণ নিন্দার সময় এই ষোলহাজার একশ আটজন মেয়ের ঘটনার কথা অবশ্যই উল্লেখ করতো, কিন্তু শিশুপালও তা উল্লেখ করেনি, যেমন শিশুপাল উল্লেখ করেনি রাধার কথা। কারন, কৃষ্ণের জীবনে রাধা বলে যেমন কেউ ছিলো না, তেমনি তার জীবনে ১৬,১০৮ মেয়েকে উদ্ধার ও বিয়ে করার ঘটনাও ঘটেনি। যেহেতু শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী একমাত্র রুক্মিণী ছিলেন, তাই সেই সময় শিশুপাল একমাত্র রুক্মিণী দেবীর কথা উল্লেখ করেছিলেন, শুধুমাত্র রুক্মিণী ই হলেন শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী।
যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞের সময় শিশুপাল এর শ্রীকৃষ্ণের নিন্দার সময়, শ্রীকৃষ্ণ বিদর্ভরাজ ভীষ্মক এর কন্যা রুক্মিণী কে তার সম্মতিতে হরন পূর্বক বিবাহ করেন। কারন রুক্মিণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে শিশুপালের সহিত বিবাহ দেওয়া হচ্ছিলো। মহাভারতের সভাপর্বে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে শ্রীকৃষ্ণ বলেন,
"এই মুমূর্ষু মূর্খটার রুক্মিণীকে লাভ করিবার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শুদ্র যেমন বেদবাক্য শুনিতে পারে না, এ মূর্খটারও তেমন রুক্মিণীকে লাভ করিতে পারে নাই। কিন্তু প্রতাপশালী শিশুপাল কৃষ্ণের সেই কথাগুলি শুনিয়া অট্ট হাস্য করিলেন এবং এই কথা বলিলেন।" (মহাভারতঃ সভাপর্ব, অধ্যায় ৪৪, শ্লোক ১৫-১৬)
এরপর শিশুপাল কৃষ্ণকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
"কৃষ্ণ! সভার মধ্যে বিশেষতঃ বাজাদের সমক্ষে রুক্মিণী পূর্বে আমার পরিগৃহীত ছিলেন এইরূপ বলিতে তোমার লজ্জা হইল না কেন? (মহাভারতঃ সভাপর্ব, অধ্যায় ৪৪, শ্লোক ১৮)
" কৃষ্ণ! তুমি ভিন্ন অন্য কোন পুরুষ সভার মধ্যে নিজের স্ত্রীকে অন্যপূর্ব্বা জানিয়া তাহা কীর্ত্তন করিয়া থাকে। (মহাভারতঃ সভাপর্ব, অধ্যায় ৪৪, শ্লোক ১৯)
এখানে আমরা দেখতেই পাচ্ছি, একমাত্র দেবী রুক্মিণী যে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী, তা শিশুপাল ও শ্রীকৃষ্ণের এই দুইজনের কথনে, শিশুপাল তা নিজেই স্বীকার করেছেন।
এছাড়াও মহাভারতের আরেকটা শ্লোক এ বলা আছে,
"শ্রীকৃষ্ণ নিজের পত্মি রুক্মিণীর সাথে হিমালয়ে ১২ বছরের মহান ঘোর ব্রহ্মচর্য ব্রত ধারন করে তপস্যা করেছিলেন। দুইজনে সনত্ কুমারের ন্যায় তেজস্বী পুত্র প্রদ্যুম্ন নামক পুত্র উৎপন্ন করেছিলেন।" (মহাভারতঃ সৌপ্তিক পর্ব, অধ্যায় ১২, শ্লোক ৩০-৩১)
এই শ্লোক থেকে আমরা দেখতেই পাচ্ছি, শ্রীকৃষ্ণের একমাত্র স্ত্রী ছিলেন রুক্মিণীদেবী, যিনি ছিলেন পরম ধার্মিক, বিদুষী ও পতিব্রতা। সন্তান জন্মদানের পূর্বে তাঁরা উভয়েই বদরিকাশ্রমে যান ও দীর্ঘ বারবছর কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করেন। এরপর রুক্মিণীদেবী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন যার নাম রাখা হয় প্রদ্যুম্ন।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমানিত যে, শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী বলতে ছিলেন একমাত্র স্বয়ং রুক্মিণীদেবী। ১৬,১০৮ টি মেয়ে ও রাধা নিয়ে যা গল্প রয়েছে, তা আজাগুরি অবাস্তব গল্প মাত্র। সেই হেতু রাধা কোন শ্রীকৃষ্ণের মামী নয়, এমনকি প্রেমলীলা তা কোনোদিন ঘটেও নি।
ॐ শ্রী পরমাত্মানে নমঃ
:সংগৃহীত
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

Bikash sarker

সনাতনীরা দুর্বল নয়

#সততা_যদি_দূর্বলতা_হয়, তবে মনে রেখো অামরা দূর্বল।


✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল,
 কারন সনাতনীরা চাচী মামিকে মা মনে করে, যৌনদাসী না।

✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল কারন সনাতনীরা মনে করে একের অধিক বউ রাখা মানে নারীদের স্বামীর ভালবাসা ভাগ করা ।

✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল কারন, সনাতনীরা বৌমাকে মেয়ের মতই মনে করে, যৌনদাসী না।

✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল কারন,
সনাতনীরা কাকাতো, জেঠাতো বোনদের বিয়ে করতে জানে না। ইহা বৈদিক শাস্ত্রে নিষেধ।

✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল,
কারন সনাতনী ছেলেরা বৌদি/ভাবীকে দ্বিতীয় মা মনে করে, যৌনদাসী না।

✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল কারন, সনাতনী ছেলেরা মেয়েকে ধর্ষণ করতে জানে না।

✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল কারন,
সনাতনীদের শাস্ত্রে অাছে ইন্দ্রিয়গুলোকে দমন করতে পারলে যোগী হওয়া যায় অার সেই যোগই অাত্মাকে দিতে পারে মোক্ষের সন্ধান।

✅হ্যাঁ সনাতনী ছেলেরা দূর্বল,
কারন তারা কামকে সবসময় মনে ধারন করে না।
তাইতো কোনদিনও শুনলাম না কোন সনাতনী গরু, ছাগল, পশুকে ধর্ষণ করছে।

এদের সম্বন্ধে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ গীতায় যথার্থই বলেছেন,

🎇প্রবৃত্তিং চ নিবৃত্তিং চ জনা ন বিদুরাসুরাঃ৷
ন শৌচং নাপি চাচারো ন সত্যং তেষু বিদ্যতে৷।

অর্থ: অসুর স্বভাব ব্যক্তিরা ধর্ম বিষয় প্রবৃত্ত হতে জানে না এবং অধর্ম বিষয় থেকেও নিবৃত্ত হতে জানে না। তাদের শৌচ নেই, সদাচার নেই এবং সত্যও নেই(১৬/৭)

🎇অসত্যমপ্রতিষ্ঠং তে জগদাহুরনীশ্বরম্৷
অপরস্পরসম্ভূতং কিমন্যত্কামহৈতুকম্৷।

অর্থ: অসুর স্বভাব বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলে এই জগৎ মিথ্যা, অবলম্বনহীন এবং অবিনশ্বর। কামবশত স্ত্রীপুরুষের সংযোগেই এই জগত্ উৎপন্ন হয়েছে এবং কাম ছাড়া অন্য কোন কারণ নেই(১৬/৮)

🎇এতাং দৃষ্টিমবষ্টভ্য নষ্টাত্মানোল্পবুদ্ধয়ঃ৷
প্রভবন্ত্যুগ্রকর্মাণঃ ক্ষয়ায় জগতোহিতাঃ

অর্থ: এই প্রকার সিদ্ধান্ত অবলম্বন করে আত্মতত্তহীন অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন উগ্রকর্মা অসুরস্বভাব বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জগত্ ধ্বংসকারী কার্যে নিয়োজিত থাকে(গীতা ১৬/৯)
sk roy

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০

জাকির নায়েক ও রবিশঙ্করের তথাকথিত বিতর্কের মূল রহস্যটা আসলে কী ?

জাকির নায়েকের চাপাতি টিভি, চাপাতি টিভি এজন্যই বললাম যে, জাকিরের টিভির নাম তো পিস টিভি, আর পিস মানে শান্তি, কিন্তু মুসলমানরা শান্তি বলতেই তো বোঝে তরোয়াল-চাপাতির মাধ্যমে অর্জিত শান্তি, এজন্যই বললাম চাপাতি টিভি।

এখানে একটা প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলাম মানে যদি শান্তি হয়, তাহলে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললে, মুসলমানরা ক্ষেপে যায় কেনো বা চাপাতি দিয়ে কোপাতে চায় কেনো ? কেনো ওরা শান্তি পূর্ণ পদ্ধতিতে আলোচনায় বসে না ? মুসলমানদের রাগ আর সন্ত্রাস কি এটা প্রমান করে যে, ওদের ধর্মের নাম বা ধর্মের বিষয় শান্তি ?

যা হোক, ফিরে যাই মুল আলোচনায়। জাকিরের পিস টিভিতে, রবিশঙ্কর এবং জাকির নায়েকের একটি একটা অনুষ্ঠান খুব ঘটা করে প্রচার করা হতো, যাতে রবিশঙ্কর পরাজিত নয়, বিব্রত হয়। আর এটা নিয়ে মুসলমানরা এটা প্রচার করে বা প্রমান করার চেষ্টা করে যে, যেহেতু রবিশঙ্কর জাকির নায়েকের কাছে পরাজিত হয়েছে, সেহেতু হিন্দুধর্মের চেয়ে ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং হিন্দুদের উচিত, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলা।

যেসব হিন্দু বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখে নি, তারাও এই সংশয়ে থাকে যে, সত্যিই মনে হয়, ইসলাম, হিন্দুধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, না হলে রবিশঙ্কর জাকির নায়েকের কাছে পরাজিত হলো কেনো ?

প্রত্যেকটি মুসলমানের আজীবনের একটি লালিত স্বপ্ন হলো- কোনো একজন অমুসলিমকে মুসলমান বানানো, তাহলে তারা নাকি বিনা বিচারে বেহেশতে যেতে পারবে। আর বেহেশতে গিয়ে তাদের একমাত্র কাজ হলো ৭২ হুর নিয়ে যৌনলীলায় মেতে থাকা, যদিও মেয়েদের জন্য এরকম কোনো ব্যবস্থা নেই এবং এই একটি কারণেই মুসলমানরা প্রাণপাত করে ইসলাম পালন করে, বোঝেন ইসলাম কত মহান ধর্ম!

যা হোক, জাকিরের এই পিস টিভি খোলার পেছনে উদ্দেশ্যও ছিলো এই এক, ইসলাম প্রচারের আড়ালে ধর্মান্তর করা; এখন যেহেতু ঘাড়ে তলোয়ার ধরে বলার যুগ নাই যে ইসলাম গ্রহণ কর, না হলে মৃত্যু; তাই মুসলমানরা বেছে নিয়েছে ব্রেইন ওয়াশ থিয়োরি, এতে বছরে যদি একজন করেও অমুসলিম ধোকায় প’ড়ে বিভ্রান্ত হ’য়ে, ইসলাম গ্রহন করে, তবুও তো ইসলামের লাভ।

জাকিরের কাজ যেহেতু ভারতীয় উপমহাদেশে এবং এখানকার বেশিরভাগ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তাই জাকিরের টার্গেট হলো হিন্দুরা এবং হিন্দুদের ব্রেইন ওয়াশের জন্য তার থিয়োরি হলো- কল্কি অবতারই মুহম্মদ, বেদ পুরানে আল্লা মুহম্মদের নাম আছে, রবিশঙ্করের ডিবেট, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

“কল্কি অবতার ই মুহম্মদ” এবং “বেদ পুরানে আল্লা মুহম্মদ” বিষয়ে আমার আলাদা দুটি পোস্ট আছে, তাই আজকে শুধু রবিশঙ্করের ডিবেট নিয়েই কথা বলবো।

ভারত এবং ভারতের বাইরে শত শত মানুষ জাকিরকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছে, তাদের সাথে তর্ক বির্তকে বসার জন্য, জাকির তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে নি। কিন্তু কেনো ? তার ভয় কিসের ?
আমি যদি সত্য হই, পৃথিবীর সকল জায়গাতেই আমি নিজেকে সত্য বলে প্রমান করতে পারবো; তাহলে সকলের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে আমার অসুবিধা কোথায় ? আমি তো আমার অনেক পোস্টে খোলা খুলি এই চ্যালেঞ্জ দিই যে, আমার পোস্টের জবাব কেউ যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে দিতে পারে আমি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাবো, কেউ তো আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে না। আমি এই চ্যালেঞ্জ দিতে পারি, কারণ, আমি জানি সত্যটা কী এবং তা কোথায় ? তাহলে জাকির, সকলের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে না কেনো ?

অনেকে আমাকে জাকিরের সাথে ডিবেটে যেতে বলে, কিন্তু মুসলমানরা যেহেতু হিংস্র জাতি এবং যেহেতু তারা ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি বোঝে না বা তা মেনে নিতে পারে না বা শুনতেই চায় না, তাই মুসলমানদের সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব; যদিও বা আপনি কাউকে তর্কে পরাজিত করেন, সে সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে, নবীর নামে কটূক্তি করেছে ব’লে আপনার উপর চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে বা দল বল নিয়ে এসে আপনার বাড়িতে হামলা করবে বা বাড়ি জ্বালিয়ে দেবে বা গ্রাম জ্বালিয়ে দেবে। ফলে শেষ পর্যন্ত জয় হবে মুসলমানদেরই। তাই মুসলমানদের সাথে ফেস টু ফেস বিতর্কে যাওয়া অসম্ভব; কারণ, আপনি যত বড়ই জ্ঞানী বা শক্তিশালী হোন না কেনো, আপনাকে এটা মাথায় রাখতে হবে যে, একজন মূর্খ মুসলমানের একটি চাপাতির কাছে আপনি অসহায়, যেটা আমি সব সময় মাথায় রাখি।

উপরের এই পদ্ধতির জন্য, ইন্টারনেট আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত মুসলমানদের প্রচার ছিলো একতরফা; কারণ, তারা যা বলেছে, তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার কোনো উপায় ছিলো না। শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেট এবং ফেসবুক, সেই দুঃসহ অবস্থা থেকে পৃথিবীর মানুষকে মুক্তি দিয়েছে। মুসলমানরা মাঝে মাঝেই ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলে, যদি ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র থেকেই থাকে, তা হলো এই ইন্টারনেট এবং ফেসবুক আবিষ্কার এবং আমার হিসেবে এটাই হলো ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের সবচেয়ে বড় যড়যন্ত্র; যার মজা এখন মুসলমানরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

আমি এত ইসলামের বিরুদ্ধে লিখি এবং মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ দিই সেগুলোর জবাব দিয়ে আমাকে মুসলমান বানানোর জন্য, কিন্তু এখন পর্যন্ত এক হারামজাদাও আমাকে মুসলমান বানানোর জন্য জবাব দিতে এগিয়ে এলো না, যোগ্য জবাবের পরিবর্তে তারা যা দেয় তা হলো ইনবক্সে বা কমেন্টে গালি গালাজ; যেগুলোকে আমি রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরের ঘেউ ঘেউ বলেই মনে করি এবং যেগুলোকে আমি আমার বাল দিয়েও গুরুত্ব দিই না।

যা হোক, ইউটিউবে একটি ভিডিও পাওয়া যায়, ৫ মিনিটে ২৫ মিথ্যা নামে, এতে জাকির নায়েকের একটি ৫ মিনিটের বক্তব্যে, সে যে ২৫ টি মিথ্যে তত্ত্ব দিয়েছে, সেই পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। এরা জাকির নায়েককে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলো, তাদের সাথে বিতর্ক করার জন্য, কিন্তু জাকির তা গ্রহণ না করায়, তারা ওর ঐ বক্তব্যের পোস্টমর্টেম করে ইউটিউবে ছাড়ে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জাকিরের এত চ্যালেঞ্জকারী থাকতে সবাইকে বাদ দিয়ে জাকির তার টিভিতে রবিশঙ্করক নিয়ে এলো কেনো ? রবিশঙ্কর যে জাকিরকে কোনো দিন চ্যালেঞ্জ করেছিলো, এমন কি কেউ কোনোদিন শুনেছেন ? শুনেন নি। তাহলে পিসটিভিতে রবিশঙ্কর কেনো ?

বাংলাদেশে অনেক ব্যক্তিমালিকানাধীন টিভি চ্যানেল আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত মালিক হচ্ছে, এটিএন বাংলার মালিক মাহফুজুর রহমান। অন্য চ্যানেলগুলোর মালিক কে বা কারা এটা দেশের ৯৫% মানুষ না জানলেও, দেশের ৯৫% মানুষ, যারা নিয়মিত টিভি দেখে, তারা জানে যে, এটিএন বাংলার মালিক মাহফুজুর রহমান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই মাহফুজুর রহমান, তার চ্যানেলে কি এমন কোনো অনুষ্ঠান দেখাবে, যাতে তার ইমেজ খারাপ হয় ? আপনাদের কমনসেন্স কী বলে, দেখাবে ? দেখাবে না ? তাহলে জাকির নায়েক, তার নিজস্ব টিভি চ্যানেলে এমন কোনো প্রোগ্রাম কেনো দেখাবে, যাতে সে কারো কাছ পরাজিত হয় ?

তাছাড়া পিস টিভিতে বিতর্কমূলক কোনো অনুষ্ঠান কিন্তু লাইভ দেখানো হয় না; তার মানে, এডিট করে, কেটে ছেঁটে সে সব অনুষ্ঠানই দেখানো হয়, যাতে জাকির নায়েকের মান বজায় থাকে এবং সে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ই দেখানো হয়, যাতে জাকিরের জবাব যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়। পিস টিভিতে রবিশঙ্করের অনুষ্ঠান দেখানো হয়েছে এজন্যই যে, সেই অনুষ্ঠানে রবিশঙ্কর আপাতদৃষ্টিতে পরাজিত হয়েছে, যদি জাকির নায়েক পরাজিত হতো, তাহলে সেটা কি তারা দেখিয়ে ইসলামের বারোটা বাজাতো ? এই ব্যাপারটি পরিষ্কারভাবে বোঝে না বলেই অনেক হিন্দু রবিশঙ্করের ব্যাপারটি নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে এবং তাদের মনে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, হিন্দুদের মনে যে সন্দেহটি সৃষ্টি করা শুধু জাকির নায়েক কেনো, সব মুসলমানদের মরণপণ জিহাদী উদ্দেশ্য।
তাছাড়া, কে এই রবিশঙ্কর ? সে কি হিন্দুদের মনোনীত কোনো ব্যক্তি, যাকে হিন্দুরা জাকিরের সাথে ডিবেট করতে পাঠিয়েছে ? দেখে নিন উইকিপিডিয়াতে তার সম্পর্কে কী বলা হয়েছে ?

“রবি শঙ্কর, যিনি সাধারণত শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর নামে পরিচিত, হলেন ভারতের একজন আধ্যাত্মিক নেতা যিনি ১৩ মে ১৯৫৬ সালে তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে শ্রী শ্রী উপাধিতে বা গুরুদেব বা গুরুজি নামেও ডাকা হয়। ১৯৮১ সালে তিনি আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল লক্ষ্য হল মানুষের ব্যক্তিগত মনোদৈহিক চাপ, সামাজিক সমস্যা এবং সহিংসতা দূর করা।“

এছাড়াও Art of living পৃথিবীর বৃহত্তম একটি "হিউমেনিটারিয়ান & এডুকেশনাল এনজিও" এর প্রতিষ্ঠাতা রবিশঙ্কর একজন যোগ বিশেষজ্ঞ এবং পতঞ্জলি যোগসূত্র দ্বারা উদ্বুদ্ধ একজন দার্শনিক নেতা। বজ্রাসন ও সুখাসন এর মাধ্যমে কৃত সূদর্শন ক্রিয়া এর একজন অনন্য পরিচালক তিনি যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীতে বিদ্যমান হানাহানি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় এর অবসান ঘটাতে চান। তিনি কখনোই একজন হিন্দুধর্ম বিশারদ নন এবং একজন বেদজ্ঞানী তো নন বটেই!

যার উদ্দেশ্যই হলো পৃথিবীর হানাহানি বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, সে যাবে জাকিরের সাথে তর্ক বিতর্ক করতে! যেখানে তর্ক বিতর্কই হলো সকল অশান্তির মূল ? এছাড়াও এই তথ্যগুলো থেকে কি এটা প্রমান হচ্ছে যে, তিনি হিন্দুদের কোনো ধর্মগুরু ? তাহলে তার জয় বা পরাজয় নিয়ে হিন্দুদের এত মনোব্যথার কী আছে ?

এবার দেখুন, কোন প্রেক্ষাপটে জাকিরের পিস টিভি সেই ভিডিওটি তৈরি করেছিলো ?
রবিশঙ্কর যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলো, সেটা ছিলো "Concept of GOD in Hinduism & Islam" শীর্ষক একটি আলোচনা সভা, এটা মোটেই পূর্ব ঘোষিত কোনো বিতর্ক সভা নয়। রবিশঙ্কর সেখানে গিয়েছিলেন নিজে থেকেই কোনো হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বা হিন্দুদের পক্ষ থেকে নয়। কিন্তু ধূর্ত জাকির পুর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী সেখানে কাদিয়ানী লেখক মাওলানা আব্দুল্লা হক বিদ্যার্থীর বই থেকে হুবহু তোতা পাখির মতো কিছু মুখস্ত উদ্ধৃতি দেয় যে পবিত্র বেদ এ মোহাম্মদ এর কথা বলা আছে এবং ভবিষ্য পুরানেও মোহাম্মদ এর কথা বলা আছে। একজন ব্যক্তি যিনি কোনো বিতর্কের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান নি বা তার সেই বিষয় নিয়ে বিতর্ক করার ইচ্ছা আছে কিনা সেটাও সন্দেহ, তাকে হঠাৎ করে বেদের খুঁটি নাটি বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে বিব্রত হবে না তো কী হবে ?

ধান্ধাবাজ জাকিরের এই ভিডিও নিয়ে মুসলমানরা জোর গলায় বলে,

“জাকির নায়েক তো হিন্দুদের গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এর সাথে বিতর্ক করেছে এবং জয়লাভ করেছে। রবিশঙ্কর তো আপনাদের চেয়ে বেশী জানেন। উনি যখন জাকির নায়েকের ভূল দেখাতে পারেনি তো আপনারা কে ?”

জাকির নায়েক, রবিশঙ্করের সাথে কী ধরণের তর্ক বিতর্ক করেছে এবং কোন সিচুয়েশনে করেছে, আশা করছি, উপরের বর্ণণায় তা বুঝতে পেরেছেন, তাই এটা নিয়ে আর বলার কিছু নেই।

এরপর মুসলমানদের তথ্য হলো-

“রবিশঙ্কর তো আপনাদের চেয়ে বেশি জানেন।”

রবিশঙ্কর কতটা জানে, সেটা আপনারা সার্টিফিকেট দিচ্ছেন কেনো ? আপনাদের কী মনে হয়, আমি ইসলাম ও হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কম জানি ? আপনারা আমার কথার জবাব গালিগালাজ ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় দেন না কেনো ? ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে কলম ধরেন।

মুসলমানদের আরো প্রশ্ন হলো, রবিশঙ্কর যখন জাকির নায়েকের ভূল দেখাতে পারেনি তো আপনারা কে ?”

রবিশঙ্কর কি জাকির নায়েকের ভুল ধরে তার সা্থে ঝাগড়া করতে গিয়েছিলো যে রবিশঙ্কর জাকির নায়েকের ভুল ধরবে ?

এছাড়াও মুসলমানদের প্রশ্ন হলো- “জাকির যদি ভুলই হয় তবে হিন্দুধর্মীয় নেতারা তাকে ধরিয়ে দিচ্ছে না কেন ?”

পিস টিভি যখন রবিশঙ্করের এই ভিডিও প্রচার করে, তখন সবাই বুঝতে পারে যে, শান্তিবাদী রবিশঙ্করকে জাকির ফাঁসিয়েছে। এরপর বেদ নিয়ে প্রকৃত বিতর্কের জন্য বিখ্যাত বৈদিক সংগঠন আর্যসমাজ এর পক্ষ থেকে পর পর তিন বার অফিসিয়ালি ইমেইল এর মাধ্যমে IRF এর জাকির নায়েককে বিতর্কের জন্য আহবান জানানো হয়। কিন্তু ভীত ও ধূর্ত নায়েক জানেন যে বিখ্যাত বেদ গবেষনা সংগঠন আর্যসমাজের পন্ডিতগন, যাদের বেদ এর প্রতিটি অক্ষর পর্যন্ত মুখস্থ, তাঁদের সামনে বেদ নিয়ে অপপ্রচার চালানো সম্ভব হবে না, তাই সে কোনো সারা দেয় নি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থবার বিতর্কের চ্যলেঞ্জ জানানোর পর IRF এর পক্ষ থেকে মাওলানা আব্দুল্লাহ তারিক কে পাঠানো হয় বিতর্কে অংশগ্রহনের জন্য। তখন আর্য সমাজের পন্ডিত মাহেন্দ্র পাল আর্য, যিনি নিজেও ৩০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হন, আব্দুল্লাহ তারিককে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। কিন্তু এই বিতর্কটি কি জাকির তার পিস টিভিতে দেখিয়েছ ?
এছাড়াও কথা হল IRF এর অনুষ্ঠানসমূহে জাকির যখন হিন্দুধর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন দাবী করেন তখন সেখানে কোন হিন্দুশাস্ত্রবিশারদদের আমন্ত্রন জানানো হয়না কেন ? ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে মুসলমানরা তো সব সময় ফাঁকা মাঠেই গোল দিতে অভ্যস্থ, জাকির সেখান থেকে বের হবে কিভাবে ? জাকিরের যদি সেই সৎসাহস থাকতো বা তার ইসলাম নিয়ে এত আত্মবিশ্বাস থাকতো, তাহলে তার, সকলের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করার মতো সৎ সাহস থাকতো।

জাকিরের আরেকটি ভন্ডামীর কথা জেনে রাখেন, তার অনুষ্ঠানে, যে সব লোক ধর্মান্তরিত হতো, সেগুলো সবই ছিলো সাজানো নাটক। জাকিরের পিস টিভি বন্ধ হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত ড্রাইভারের কাছ থেকে জানা গেছে এই তথ্য।

শেষের দিকে এসে আরেকটি তথ্য আলোচনা না করেই পারছি না- জাকির, রবিশঙ্করকে যে অনুষ্ঠানে হাজির করেছিলো, তার নাম দিয়েছিলো, "Concept of GOD in Hinduism & Islam"। এখানে খেয়াল করবেন, হিন্দুধর্ম বোঝাতে Hinduism শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। যে সব হিন্দুর “ism” শব্দের মানে জানা নেই, তারা হয়তো বলবেন যে, কেনো এখানে সমস্যাটা কী ? কিন্তু এর মানে বোঝার পর জানতে পারবেন যে, আসলে এর পেছনের গভীর ষড়যন্ত্রটা কী এবং কোথায় ?

‘ইজম’ মানে হলো ব্যক্তিগত মতবাদ, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো মতবাদ দেয়, সেই মতবাদ বোঝাতে তার নামের শেষে ইজম ব্যবহার করা হয়, যেমন কার্ল মার্ক্স এর মতবাদের নাম মার্ক্সিজম= মার্ক্স+ইজম। কিন্তু হিন্দু ধর্ম কি কোনো একজনের ব্যক্তিগত মতবাদ, যে জাকির হিন্দু শব্দের সাথে ইজম লাগিয়েছে ? আর হিন্দু কি কোনো একজন ব্যক্তির নাম যে, এর সাথে ইজম যুক্ত হবে ? এই হিন্দুইজম শব্দটি শুধু প্রয়োগের দিক থেকেই ভুল নয়, গঠনের দিক থেকেও ভুল। কিন্তু এখানে জাকিরের উদ্দেশ্য ছিলো হিন্দু ধর্মের বিশালত্বকে ইজম শব্দের মাধ্যমে একটি ক্ষুদ্র গণ্ডীর মধ্যে নিয়ে আসা, ষড়যন্ত্রটা এখানেই। হিন্দুধর্ম বোঝাতে হিন্দু শব্দের সাথে কখনো ইজম শব্দ যুক্ত হবে না; কারণ, হিন্দুধর্ম কোনো একজন ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার ফল নয়, যেমন একজন ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার ফল হলো- ইসলাম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ সকল ব্যক্তিগত ধর্ম, যদিও এগুলোকে এখন ধর্ম বলে চালানো হচ্ছে, আসলে এগুলো ধর্ম নয়, এগুলো এক একটি ব্যক্তিগত মতবাদ।

প্রকৃতির সৃষ্টি যে কোনো কিছুর ধর্ম থাকে, যেমন- ধর্ম আছে আগুন, জল বা লোহার। মানুষ এগুলোর ধর্ম বানাতেও পারে না আবার তার পরিবর্তনও করতে পারে না। ধর্ম বানানো তাই প্রকৃতি নামক ঈশ্বরের কাজ, কোনো মানুষের কাজ নয়। এই সূত্রে প্রকৃতির বিধিবদ্ধ নিয়মের নির্যাস হিসেবে পৃথিবীর মানুষের জন্য একমাত্র ধর্ম হলো সনাতন মানবধর্ম, আর বাকিগুলো কোনো ধর্ম নয়, ওগুলো ব্যক্তিগত মতবাদ।

যা হোক, জাকির ও রবিশঙ্কর প্রসঙ্গে শেষ কথা হলো- জাকিরের সাথে রবিশঙ্করের বিতর্ক বলে যা প্রচার করা হয়, সেটা যে আসলে বিতর্ক নয়, ধান্ধাবাজ জাকির কোম্পানির কৌশলে তোলা আলোচনা চক্রের একটি ভিডিও মাত্র, যাতে অপ্রস্তুত অবস্থায় রবিশঙ্করকে বেদ থেকে কিছু প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়েছে এবং রবিশঙ্কর হিন্দুদের যে কোনো ধর্মগুরুও নয়, বাবা রামদেব এর মতো একজন যোগসাধক মাত্র, তাই জাকিরের সাথে রবিশঙ্করের তথাকথিত পরাজিত হওয়া, আসলে যা পরাজিত হওয়া নয়- আশা করছি সেই সম্পর্কে আমার বন্ধুদের কাছে প্রকৃত সত্যটা উদঘাটন করতে পেরেছি।

জয় হিন্দ।
জয় হোক সনাতনের।।
 from Jorder Boney

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

বেদে মন্ত্র

ঋচো অক্ষরে পরমে ব্যোমন্ যস্মিন্দেবা অধিবিশ্বে নিষেদুঃ।
যস্তন্ন বেদ কিমৃচা করিষ্যতি য ইত্তদ্বিদুস্ত ইমে সমাসতে।।
ঋগ্বেদ-- ( ১/১৬৪/৩৯)
বঙ্গানুবাদঃ-- যে বেদ প্রতিপাদিত, নাশ রহিত, সর্বোৎকৃষ্ট, সর্ব ব্যাপক ব্রহ্মে পৃথিবী সূর্যাদি লোক লোকান্তর আধেয় রূপে স্থিত রহিয়াছে সেই পরব্রহ্মকে যিনি জানেন না তিনি চারিবেদ দ্বারা কি করিবেন?
যিনি সেই পরব্রহ্মকে জানেন তিনি ব্রহ্মে স্থিতি লাভ করেন।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

মুসলিমের চুলকানির জবাব

❌জাকের নায়েকের মিথ্যা যুক্তি,,,
বেদে কি মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ?
জাকের নায়েক রেফারেন্স দিল,,👇👇
হিন্দু ধর্মে মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ। রেফারেন্স সহ প্রমান দিলামঃ
====================================
❌১. না তাস্তে প্রাতীমা আস্থি ( রীগ বেদ ৩২ অধ্যায় ৩ নং অনুচ্ছেদ )
অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন প্রতি মূর্তি নেই,ছবি নেই,গ্রাফিকস নেই,ভাস্কর্য নেই,বিগ্রহ নেই
✅জবাব: প্রতিমা এটি সঙ্কাকৃত ভাষা
সংস্কৃতে প্রতিমা শব্দের" প্ৰতিম" 
আ প্রত্যই যোগে নিষ্পন্ন,। প্রতিম শব্দের অর্থ অতুলনীয়,,
প্রতিম শব্দ থেকেই প্রতিমা শব্দটি এসেছে,,
ন তস্য প্রতিমা অস্তি
অর্থ: তার কোনো তুলনা নেই
আরো ভেঙে বললে হয় তার তুল্য কেউ নেই,,,
জাকের নায়েক ওখানে ভুল অর্থ দেখিয়েছে,,
বাংলা বা হিন্দি গ্রামার দেখেন সেখানে পাবেন প্রতিমা সংস্কৃত ভাষা ,,যার বাংলা আভিধানিক অর্থ বুঝায় মূর্তি বা বিগ্রহ,
এখানে বাংলা গ্রামার কি দেখালো সেটা না দেখে সংস্কৃত ভাষায় প্রতিমা কি অর্থে ব্যবহূত হয়েছে সেটাই আমাদের নিতে হবে,,,
যেমন কোটি এটা সংস্কৃত ভাষা ,,এর অর্থ প্রকার
কিন্তু বাংলায় কোটি একটা সংখ্যা জাতীয়
বাংলা আর সংস্কৃত এক নই এখানে,,
✅দেব দেবীদের মূর্তি বলে সম্বোধন করা মূর্খের পরিচয়,,
যুক্তি: 1_ বেদ বলে জিব দেহ আগুন,জল,বাতাস, মাটি দ্বারা তৈরী,
কুরআন ও তাই বলে,,,
বিজ্ঞান দ্বারা ও এখন এটা প্রমাণিত,,
তাহলে মানব দেহ জল,মাটি,বাতাস অগ্নি দ্বারা তৈরি,
তাহলে দেব দেবীর বিগ্রহ কে যদি মূর্তি বলে ডাকা হয়,,
তাহলে মানুষকেও মূর্তি বলে ডাকবেন,,বিজ্ঞান বলছে জিব মাটি দ্বারা তৈরী
মানুষকে জল বলে ডাকবেন,,বিজ্ঞান বলছে জিব জল দ্বারা তৈরি
মানুষকে বাতাস বলে ডাকুন,,,বিজ্ঞান বলছে জিব বাতাস দ্বারা তৈরী,,
✅এখন এখানে যেমন মানুষকে মাটি,জল ,বাতাস নামে সম্বোধন করা বোকামি
ঠিক তেমনি দেব দেবীর মূর্তি কে শুধু মূর্তি বলে সম্বোধন বলে ঢাকা বোকামি,,
শুধু মূর্তি বলতে অনেক কিছুই বুঝায়,,
কিন্তু এখানে যদি দেব দেবীর মূর্তি বলে ঢাকেন ,
তাহলে এখানে আমরা স্পষ্ট যে দেব দেবিকেই সম্বোধন করা হয়েছে,,,,
যুক্তি :2_ How are you?
এখানে how এর 3টা অর্থ,,
কেমন ,কত ,কিভাবে
কিন্তু এখন যদি কোন মূর্খ অর্থাৎ ইংরেজি গ্রামার ই জানে না
তার পক্ষে বলা টা স্বাভাবিক,
How are you= তুমি কত আছ?😦 
ইতিহাস টা এখন বুঝে নিন,,😎
❌২. যারা নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তাঁরাই মূর্তি পূজা করে ( ভগবৎ গীতা অধ্যায় ৭, অনুচ্ছেদ ২০ নম্বর ) ।
রেফারেন্স সহ দিলাম ।
জবাব : মূর্তি কি আর দেব দেবীর মূর্তি কি সেটা তো বললাম ই,,,👈
✅রেফারেন্স দেখি কি বলে
কামৈস্তৈস্তৈর্হৃতজ্ঞানাঃ প্রপদ্যন্তেন্যদেবতাঃ৷
তং তং নিয়মমাস্থায় প্রকৃত্যা নিয়তাঃ স্বয়া৷৷২০
অর্থ: যাদের মন জড়-কামনা বাসনা দ্বারা বিকৃত তারা দেব-দেবীর শরণাগত হয়ে এবং তাদের স্বীয় স্বভাব অনুসারে নিয়ম পালন করে দেবতাদের উপাসনা করে।
গীতা:7/20
মুসলিমদের রেফারেন্স টা দেখেন এখন,,কিভাবে মিথ্যা বলে সাধারণ মানুষদের ব্রেন ওয়াশ করাচ্ছে,,
জোড়,বাসনা,কামনা দ্বারা কি বুঝি আমরা?
আমার মন চায় ব্যবসায় অনেক লাভবান হওয়া,,
তাই আমি গণেশ দেবতার পূজা করবো,,এটাই আমার কামনা ,বাসনা
জ্ঞান ,বিদ্যায় আমি আরো এগিয়ে যেতে চাই,,তাই আমি স্বরস্বতি দেবীর পূজা করবো এটাই আমার জোর,বাসনা কামনা,,✅
তো মুসলিমদের রেফারেন্স টা দেখেন,,আর আমার টা দেখেন কোথায় বলা আছে বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে কথাটা🤔
✅ আমি জড় এবং চেতন জগতের সবকিছুর উৎস। সবকিছু আমার থেকে প্রবর্তিত হয়। সেই তত্ত্ব অবগত হয়ে যারা শুদ্ধ ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন তারাই যথার্থ তত্ত্ব জ্ঞানী।
গীতা:::10/8
❌৩. হিন্দুরা অনেক দেব দেবির পুজা করলেও হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে হিন্দুদের কেবল মাত্র এক জন ইশ্বরের উপাসনা করতে বলা হয়েছে॥
বেদের ‘ব্রহ্ম সুত্র’ তে আছে “একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চন” অর্থাৎ ইশ্বর এক তার মত কেউ নেই কেউ নেই সামান্যও নেই । আরও আছে “সে একজন তারই উপাসনা কর” (ঋকবেদ ২;৪৫;১৬)।
“একম এবম অদ্বৈত্তম” অর্থাৎ সে একজন তাঁর মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১;২;৩) ।
“এক জনেই বিশ্বের প্রভু” (ঋকবেদ ১০;১২১;৩) ।
জবাব: যথার্থ বলেছেন,,আমরা এক ঈশ্বর কেই উপাসনা করি,,
আমরা একেশ্বরবাদী,,,বহু ঈশ্বরবাদী না🙂
নিরাকার রূপে তিনি ঈশ্বর 
সাকার রূপে তিনি দেব দেবী✌️
❌৪. হিন্দু ধর্মে মুর্তি পুজা করতে নিষেধ করা হয়েছে॥
ভগবত গীতা – অধ্যায় ৭ – স্তব ২০ - [ যাদের বোধশক্তি পার্থিব আকাঙক্ষার মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধু তারাই উপদেবতার নিকটে উপাসনা করে। ]
জবাব:: এক রেফারেন্স আর কতবার ,ভিন্ন বাংলা অর্থ দিয়ে বুঝাবেন,,
উপরে যেয়ে দেখুন,,🤟7/20
❌৫. ভগবত গীতা – অধ্যায় ১০ – স্তব ৩ -
[ তারা হচ্ছে বস্তুবাদি লোক ,তারা উপদেবতার উপাসনা করে ,তাই তারা সত্যিকার স্রস্টার উপাসনা করে না।]
জবাব:: উক্ত রেফারেন্স এ গেছি,,কিন্তু যাইয়া দেখি অন্য কিছু,,,,,
যো মামজমনাদিং চবেত্তি লোকমহেশ্বরম্৷ 
অসম্মূঢ়ঃ স মর্ত্যেষু সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে৷৷৩
অর্থ: যিনি আমাকে আদিহীন জন্মরহিত ও সর্বলোকের মহেশ্বর বলে জানেন, মানুষের মধ্যে তিনিই মোহশুন্য হন এবং সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন।
গীতা:10/3
৬. যজুর্বেদ – অধ্যায় ৪০- অনুচ্ছেদ ৯ –
[ অন্ধতম প্রভিশান্তি ইয়ে অশম্ভুতি মুপাস্তে – যারা অশম্ভুতির পুজা করে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তারা অধিকতর অন্ধকারে পতিত হয় শাম মুর্তির পুজা করে । অশম্ভুতি হল – প্রাকৃতিক বস্তু যেমন- বাতাস,পানি,আগুন । শাম মুর্তি হল – মানুষের তৈরী বস্তু যেমন - চেয়ার ,টেবিল ,মূর্তি ইত্যাদি।
জবাব:: হিন্দুরা বাতাস ,,আগুন,পানি কে পূজা করে না,
তবে এখানে আগুন আর পানি পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহূত হয়,,
আগুন,আর পানি কে পূজা করা হয় না,,✌️
আর মানুষের তৈরী চেয়ার ,টেবিল খাট,মূর্তি ,
কিছু বলার আছে🤟??
তো প্রমাণিত: বেদ বলে নাই যে দেব দেবীর পূজা নিষিদ্ধ,,
জাকের নায়েক এর বেশির ভাগ লেকচারের উপরের রেফারেন্স গুলি থাকতো,,তার উদ্দেশ্য অমুসলিমদের 
কোরআনের দিকে ধাবিত করা,,
from:Arya Msd