এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

বৃহদারণ্যক উপনিষদের ৬।৪।১৮ নিয়ে এ শঙ্কা

বৃহদারণ্যক উপনিষদের ৬।৪।১৮ কন্ডিকা নিয়ে একটা শঙ্কা আমাদের সামনে প্রায়শই উঠে। শঙ্কটা এরূপ যে, বিদ্বান পূত্র লাভের জন্য স্বামী স্ত্রী উভয়ে বৃষের মাংস দ্বারা পাককৃত অন্ন আহার করবে। প্রায় সব অনুবাদক এমনটাই অনুবাদ করেছে। অর্থাৎ ইহা দ্বারা সনাতন ধর্মে গোমাংস খাওয়ার বিধান সিদ্ধ এমনটা দাবী করে অপপ্রচারকারীরা।  মূলত আমাদের ধর্মের মূল স্রোত হলো বেদ। বেদের জ্ঞান দ্বারাই পরবর্তিতে অনেক শাস্ত্র রচিত হয়েছে। সেই বেদে আমরা গোহত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ পাই। গো হত্যা সমন্ধ্যে বেদ বলছে যে, "মা গাম অনাগাম অদিতিম বধিষ্ট" (ঋগবেদ ৮।১০১।১৫) অর্থাৎনিরপরাধ গাভী এবং ভূমিতূল্য গাভীকে কখনো বধ করো না। শুধু তাই নয় গোহত্যাকারীকে দন্ডের বিধান দিয়ে বেদ বলছে যে -যদি আমাদের গাভীকে হিংসা কর যদি অশ্বকে যদি মনুষ্যকে হিংসা কর তবে তোমাকে সীসক দ্বারা বিদ্ধ করিব। (অথর্ববেদ ১।১৬।৪)। বিস্তারিত এখানে পড়ুন - http://back2thevedas.blogspot.in/2016/11/blog-post.html?m=1
উপনিষদ বেদের অংশ হওয়ার হেতু উপনিষদে গোমাংস আহারের নির্দেশ কদাপি থাকতে পারে না। আমাদের স্থুল বিচার বিবেচনার জন্যই মূলত এরূপ শঙ্কার উদ্ভব হয়েছে। আসুন বিষয়টি নিয়ে একটু বিস্তারিত বিশ্লেষন করা যাক -


অথ য ইচ্ছেৎ পুত্রো মে পন্ডিতো বিজিগীতঃ সমিতিঙ্গমঃ শুশ্রুষিতাং বাচ্য ভাষিতা জায়েত সর্বাণ বেদাননুববীত সর্বমায়ুরিয়াদিতি মাষৌদনং পাচয়িত্বা সর্পিষ্মন্তমশ্নীয়াতামীশ্বরৌ জনয়িতবা ঔক্ষেণ বার্ষভেণ বা।।
(বৃহঃ উপঃ ৬।৪।১৮)
.
শব্দার্থঃ (অথ যঃ ইচ্ছেত্ পুত্রঃ মে) এবং যে এই ইচ্ছা করে যে আমার পুত্র (পন্ডিতঃ) বিদ্বান (বিজিগীথঃ) প্রসিদ্ধ (সমিতিয় গমঃ) সভায় গমন যোগ্য (শুশ্রুষিতাম বাচম্ ভাষিতা) আদরের সহিত শ্রবণ যোগ্য ভাষনকারী (জায়েত) হবে (সর্বাণ বেদাননুববীত সর্বম্ আয়ু ইয়াত্ ইতি) সমস্ত বেদের জ্ঞাতা পূর্নায়ুর উপভোক্তা হবে তো (মাষৌদনম্) [পাঠভেদ - মাংসৌদম্] মাষের [কলাই বিশেষ] সাথে চাউল (পাচয়িত্বা সর্পিষ্মন্তম্ অশ্নীয়াতাম্ ইশ্বরী জনয়িতবৈঃ) পাক করে ঘৃতের সাথে উভয়ে [স্বামী স্ত্রী] আহার করে তো (অপেক্ষেত পুত্র) পুত্র উৎপন্ন করতে সমর্থ হবে (ঔক্ষেণ বা আর্ষভেণ) ঔক্ষ [বিধি] দ্বারা অথবা ঋষভ [বিধি] দ্বারা। 
.
সরলার্থঃ এবং যে এই ইচ্ছা করে যে আমার পুত্র বিদ্বান প্রসিদ্ধ সভায় গমন যোগ্য আদরের সহিত শ্রবণ যোগ্য ভাষনকারী হবে, সমস্ত বেদের জ্ঞাতা পূর্নায়ুর উপভোক্তা হবে তো মাষের [কলাই বিশেষ] সাথে চাউল পাক করে ঘৃতের সাথে উভয়ে [স্বামী স্ত্রী] আহার করে তো পুত্র উৎপন্ন করতে সমর্থ হবে ঔক্ষ [বিধি] দ্বারা অথবা ঋষভ [বিধি] দ্বারা

তাৎপর্যঃ এই কন্ডিকার মধ্যে বর্ণিত পুত্র প্রাপ্তির জন্য বলা হয়েছে যে, মাষের সাথে পাককৃত চাউল বিধির সাথে আহার করা উচিৎ। এই পুত্র এবং পুত্রি উৎপন্ন করার জন্য অপেক্ষিত সাধনের কাজে নেবার শিক্ষাকে সমাপ্ত করে ইহা বলা হয়েছে যে, সব প্রকারে পুত্র কে উৎপন্ন করা আদির কৃত্য ঔক্ষ এবং আর্ষভ বিধি দ্বারা করা উচিৎ।
.
ঔক্ষ বিধিঃ ঔক্ষ শব্দ উক্ষ (সেচনে) ধাতু হতে এসেছে। উক্ষ দ্বারা উক্ষণ এবং উক্ষণের বিশেষন ঔক্ষ। ঔক্ষ বিধি বর্ণনাকারী শাস্ত্রকে ঔক্ষ শাস্ত্র বলে। কোন মিশ্রিত ঔষধি পাক আদি তৈরীতে কোন কোন ঔষধি কি কি মাত্রায় পড়া উচিৎ তাহা বর্ণনাকারী শাস্ত্রের নাম ঔক্ষ শাস্ত্র। অভিপ্রায় এই যে, উপরিউক্ত মাষের অথবা তিলৌদন আদির প্রস্তুতে এই (ঔক্ষ শাস্ত্র) র মর্যাদা কে লক্ষ্য রেখে কাজ করা উচিৎ।
.
আর্ষভ বিধিঃ আর্ষভ - ঋষভ শব্দের বিশেষন। ঋষভ এবং ঋষি শব্দ পর্যায়বাচক। আর্ষভের অর্থ ঋষিকৃত অথবা ঋষিদের বানানো কিছু। ঔক্ষ শাস্ত্রের সাথে এই আর্ষভ শব্দের ভাব এই যে, ঋষিদের বানানো বিধি (পদ্ধতি) র নামই ঔক্ষ শাস্ত্র। অর্থাৎ কোন অনভিজ্ঞর বানানো বিধিকে ঔক্ষ শাস্ত্র বলা হয় না। ঋষিকৃত পদ্ধতিই ঔক্ষ শাস্ত্র।
.
মাষৌদনঃ যা বলা হয়েছিলো মাষৌদনে পাঠ ভেদ রয়েছে, অনেক গ্রন্থে মাংসৌদন। সিবায় মাংস শব্দের এরূপ অর্থ করেছে যে, (মনঃ সীদত্যস্মিন স মাংসঃ) যাহাতে মন প্রসন্ন হয় তাহাই মাংস। নিরুক্তেও মাংস শব্দের অর্থের মনন, সাধক, বুদ্ধিবর্ধক মন কে রুচি দানকারী বস্তুকে বলা হয়েছে। যা ফলের রসালো অংশ, ঘী, মাখন, ক্ষীর আদি পদার্থ (মাংস মাননং বা মানসং বা মনোস্মিনৎসীদতীতি ; নিরুক্ত ৪।৩)। এবং এই দৃষ্টি দ্বারা মাষৌদন কে মাংসৌদন বলা যায়। এই জন্য কোন প্রকরণে গো মাংস অর্থে মাংসের প্রয়োগ যা এই প্রকরনে নেই। এইজন্য যে দশ ঔষধিকে দ্বারা মাষ এবং ঔদন বর্ননার বিধান রয়েছে তাহার নাম স্বয়ং উপনিষদই উল্লেখ করেছে -
(i) ধান্য (ii) যব (iii) তিল (iv) মাষ (v) বাজরা (vi) প্রিয়জু (vii) গোধূম (viii) মসুর (ix) খল্ব (x) থলকুল।
(বৃহঃ উপঃ ৬।৩।১৩)
এখানে একটা বিষয়ে গভীর ভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ যে, এই ঔষধির গণনা করে দেখা যাচ্ছে তিলের পরেই মাষের উল্লেখ রয়েছে। এইজন্য সতেরো কন্ডিকায় তিলৌদন এবং তাহার পরে আঠারো কন্ডিকায় মাষৌদনের উল্লেখ। অন্যথা মাংসের তো এখানে যেমন বলা হলো তার কোন প্রকরনই নেই।

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক
Raj Bhowmick  akash

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

মুসলিমদের ১২টি প্রশ্নের দাত ভাঙ্গা জবাব



কিছু ভন্ড মুসলিম দের কমন ১২ টি প্রশ্ন:-
----------------------------------------
হিন্দু ভাইয়েরা মন খারাপ করবেন না.! :
আমি just জানতে চাই
:
যদি পারেন উত্তর দিবেন.
:
1st- শিব ৬০,০০০ বিবাহ করেছিল সে মারা
যাবার পর তার
লিঙ্গকে পূজা করা হয় কেন?
:
একজন শিষ্টাচার হিন্দু কোন যুক্তিকতায় তার।
:
স্ত্রী_দুধ দিয়ে শিবের গোপন_অঙ্গ ধৌত
করে কেন?
:
এটা কি কোন সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.? : এমন কুরুচি পূর্ন আদেশ সৃষ্টিকর্তা দিতে পারেন.?
-
2nd- শিব তার নিজের ছেলে গনেশকে চিনতে পারেনি
কেন?
চিনতে না পারার জন্য ছেলের গর্দান_কেটে
ফেলেছিলেন.!
:
তাহলে তিনি তার সৃষ্টিকে কি করে চিনবেন.?
:
ভুলে যাওয়া কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.?
_
3rd- দেবদাসীর ও যোগিনীর মত পতিতা
চরিত্রের সাথে
ভগবান ও ব্রাহ্মনগন কি অশ্লীলকর্মে লিপ্ত
হন.?
:
যদি তারা প্রকৃতার্থে ভগবান হয়ে থাকেন?
_
4th- অশ্লীল ভঙ্গিমায় উলঙ্গ_নারী ,,, মুখে
দাতেঁ রক্ত ও
হাতে রক্তাক্ত তলোয়ার.!
কি করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে.? উদাহরন-
দূর্গা।
_
5th- কৃষ্ণা যদি সৃষ্টিকর্তা হয়। তবে সে কেন তার মামীর সাথে অবৈধ_সম্পর্ক
রাখলো...?
:
তবে কি সৃষ্টিকর্তা মানুষের সাথে এমন
অবৈধ কর্মে লিপ্ত
হয় যা তারা নিজেরাই আইনের বর্হিভূত?
_
6th- কিভাবে রাম সৃষ্টিকর্তা হতে পারে.?
কারন,,,
সে প্রয়োজনে খাবার খেয়েছে, ঘুম গেছে,
অনেক বিয়ে করেছে, দৈহিক তারনায়, রাম
নিজের
স্ত্রীকে সন্দেহ করেছে.! এসবকি সৃষ্টিকতার কর্ম?
_
7th- যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন তবে কেন তিনি হনুমানের সাহায্য চাইবেন.?
:
তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি আছে?
:
_
8th- রাম হনুমানের দু’ভাইকে কেন অকারনে
খুন করলেন.?
:
যেখানে রামের সাথে তাদের কোন শত্রুতা ছিল না?
:
সৃষ্টিকর্তা হয়ে অপরাধ করা কি সম্ভব? _
9th- রাবন যদি শয়তান হয়ে একদিনে লঙ্কায়
পৌছাঁতে পারে
তবে রাম সৃষ্টিকর্তা
হয়ে কেন ১২ বছর লাগলো.?
:
তাও আবার হনুমানের সাহায্যে? : শয়তানের শক্তি সৃষ্টির্কতা হতে কি করে
বেশি হওয়া সম্ভব?
_
10th- কৃষ্ণা একজন সৃষ্টিকর্তা হয়ে কি ভাবে নারীদের স্নানরত_দৃশ্য উপভোগ করেন.?
:
ও তাদের পোষাক_ লুকিয়ে রেখে দেন? _
11th- গরু হিন্দুদের মা, গরুর পেট থেকে তো
গরুর_বাচ্চা হয়.!
কিন্তু
মানুষের_বাচ্চা তো হয় না.?
:
তাহলে গরু কি করে মানুষের মা হয়? - 12th- আপনি যাকে বানিয়েছেন সে বড়?
নাকি আপনাকে
যে বানিয়েছে সে বড়? উদাহরনঃ মুর্তি
:
একটু বিবেক দিয়ে চিন্তা করুন কে বড়! যদি
জানা থাকে
জানাবেন কিন্ত... আমি কিন্তু ধর্ম নিয়ে
বাড়াবাড়ি
।

।
।
।
।
।
এই ১২ টি প্রশ্নের দাঁত ভাঙ্গা জবাব,,,,,
।
।
★প্রশ্ন১।শিব ৬০,০০০বিবাহ করেছিল সে মারা যাবার পর তার লিঙ্গকে পূজা করা হয় একজন শিষ্টাচার হিন্দু কোন যুক্তিকতায় তার স্ত্রীকে দিয়ে দুধ দিয়ে শিবের গোপন অঙ্গ ধৌত করে? এটা কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য? এমন কুরুচিপূর্ন আদেশ সৃষ্টিকর্তা দিতে পারেন? উত্তরঃ শিব ৬০০০০ বিয়ে করেছিল এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। এরকম কথা কোথাও পাওয়া যায়নি। এটা ভিত্তিহীন।পারলে প্রমান দেখান।আমরা চিরকাল জেনে এসেছি শিব এর স্ত্রী দুর্গা বা পার্বতী। আর শিবলিংঙ্গ মানে যৌনাঙ্গ যে এই কথাটি লিখেছেন সে সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেন না। শিব সংস্কৃতে शिव, siva যার বাংলা অর্থ শুভ বা মঙ্গল আর লিংঙ্গ অর্থ প্রতিক বা চিন্হ যার সম্পুর্ন অর্থ হচ্ছে সর্বমঙ্গলময় বিশ্ববিধাতার প্রতীক। আবার ব্যাকারনে যেটা পুরুষ বোঝায় তাকে পুঃলিংঙ্গ, যেটা দ্বারা নারী বোঝায় তাকে স্ত্রীলিংঙ্গ,যেটা দ্বারা নারী পুরুষ উভয়ই হতে পারে তাকে উভয় লিংঙ্গ ও যেটা দ্বারা জর বস্তু বোঝায় তাকে ক্লীবলিংঙ্গ বলে, কোন ভাবেই এটা যৌন অঙ্গ’কে বোঝায় না, উধারনস্বরুপ চেয়ার দেখলে বুঝি এটা একটা জর বস্তু তাই এটিকে ক্লীবলিংঙ্গ বলা হয়, তেমনি ভাবে যে কালোপাথরটি (শিবলিংঙ্গ) দ্বারা আমরা শিবকে বুঝি, তাই ওটাকে আমরা শিবলিংঙ্গ বলি, ওটা শিবের প্রতিক, বাংলাদেশের প্রতিকি যেমন বাংলাদেশের পতাকা বহন করে, তেমনি শিবলিংঙ্গ শিবের প্রতিকি বহন করে,পতাকাকে স্যালুট করলে যেমন দেশকে সন্মান করা হয় তেমনি শিব লিংঙ্গের পুজা করলে শিবের পুজা করা হয়, আর একটা ভুল ধারনা আছে যে মেয়েরাই শুধু শিবলিংঙ্গের পুজা করে, এটা ঠিক নয়, ছেলেরাও করে! 
।
★ প্রশ্ন:২/­ : শিব তার নিজের ছেলে গনেশকে চিনতে পারেনি কেন? চিনতে না পারার জন্য ছেলের গর্দান_কেটে ফেলেছিলেন.! তাহলে তিনি তার সৃষ্টিকে কি করে চিনবেন.? ভুলে যাওয়া কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.? উত্তর : সৃষ্টিকর্তা এমন না যে তার সৃষ্টিতে ঘটে যাওয়া বা ঘটবে এরুপ সম্পর্কে তিনি জানেন না। শিব তার ছেলেকে চিনবেন না এরুপ একটা কথা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুইনা। *** চিনতে না পারার জন্য ছেলের গর্দান_কেটে ফেলেছিলেন কেন? এর উওর তো অবশ্যই পাবেন। ------------------------------­--- তবে এর উত্তর জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে শিব ও গজাসুর সম্পর্কটা কি? #প্রথমত: পৌরাণিক কালে হাতির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এক অসুরের অস্তিত্ব ছিল। তার নাম ছিল গজাসুর। সে একবার প্রচণ্ড তপস্যা করেছিল। শিব তার তপস্যার তুষ্ট হয়ে তাকে মনোমত বর দিতে ইচ্ছা করেন। অসুর চাইল, তার শরীর থেকে যেন সব সময় আগুন বেরিয়ে আসতে থাকে, যাতে কেউ তার কাছে ঘেঁষতে সাহস না পায়। শিব তাকে সেই বর দেন। কিন্তু গজাসুর তার তপস্যা চালিয়ে গেল। শিব আরেকবার তার সামনে এসে তাকে বর দিতে চাইলেন। অসুর বলল, “আমি চাই আপনি আমার পাকস্থলীতে বাস করুন।” অল্পে তুষ্ট ! শিব গজাসুরকে মনোমত বর দিয়ে দেন। কিন্তু এই বর অন্য সমস্যার সৃষ্টি করে। পার্বতী তাঁকে ( শিব) খুঁজতে বের হন। শেষে তিনি নিজের আরাধ্য বিষ্ণুর সাহায্যে শিবকে খুঁজে পান। বিষ্ণু তখন শিবের বাহন নন্দীকে এক নৃত্যকারী ষাঁড় বানিয়ে নিজে বাঁশিওয়ালার ছদ্মবেশ নেন। এরপর উভয় আসেন গজাসুরের কাছে বাঁশি বাজাতে। বিষ্ণুর বাঁশি শুনে গজাসুর খুশি হয়ে তাঁকে কিছু দিতে চাইল। বিষ্ণু বললেন, তাঁর গজাসুরের পাকস্থলীতে বন্দী শিবের মুক্তি চাই। সে বিষ্ণুকে চিনতে পেরে তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ল শিব মুক্তি পেলেন। তখন গজাসুর তপস্যার শেষ বরটি চাইল। সে বলল, “আমি চাই, আমি মরে যাবার পরও যেন লোকে আমার মাথাটিকে পূজা করে।” #দ্বিতীয়ত : গণপতির জন্ম হয়ে ছিল দেবী পার্বতীর গায়ে মাখা হলুদ অর্থাৎ ময়লা থেকে। যার কারণে গণেশ ছিলেন জেদি ও অহংকারী। এক দিন দেবী পার্বতী কৈলাসে স্নান করছিলেন। স্নানাগারের বাইরে তিনি নন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, যাতে তাঁর স্নানের সময় কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে। এই সময় শিব এসে ভিতরে প্রবেশ করতে চান। নন্দী শিবের বাহন। তাই প্রভুকে তিনি বাধা দিতে পারলেন না। পার্বতী রেগে গেলেন। তিনি ভাবলেন, নন্দী যেমন শিবের অনুগত, তেমনই তাঁর অনুগত কোনো নেই। তাই তিনি তাঁর প্রসাধনের হলুদমাখা( বলতে পারেন ময়লা) কিছুটা নিয়ে গণেশকে সৃষ্টি করলেন এবং গণেশকে নিজের অনুগত পুত্র রূপে ঘোষণা করলেন। এরপর থেকে পার্বতী স্নানাগারের বাইরে গণেশকে দাঁড় করাতেন। একবার শিব এলেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলেন। কিন্তু গণেশ তাঁকে বাধা দিলেন। শিব রেগে গিয়ে তাঁর ভক্তদের আদেশ দিলেন গণেশকে দাড় থেকে সরার জন্য । কিন্তু গণেশ শিব ভক্তদের উপর অনাক্রমণ করে তাদের পরাজিত করেন। তাই তিনি গণেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এলেন। শিব গণেশের মুণ্ডটি কেটে তাকে হত্যা করলেন। একথা জানতে পেরে পার্বতীও রেগে সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংস করে ফেলতে উদ্যোগী হলেন। তখন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করলেন। তখন পার্বতী দুটি শর্ত দিলেন। প্রথমত, গণেশের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সকল দেবতার পূজার আগে তাঁর পূজার বিধি প্রবর্তন করতে হবে। সর্বোপরি দেবী পার্বতী শর্ত , গজাসুকে দেওয়া কথার মান ও গণেশের অহংবোধ থেকে মুক্তি এবং সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার জন্য গনেশের শিরোচ্ছেদ করা হয়েছিল । আরে শিব তো তার ছেলের গর্দান কেটেছিল সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য । তাই তাকে নিয়ে অনেক, অনেক কিছু বল,তাই না। তোদের নবী ইব্রাহিম(আ) কি করে ছিল? সে কথা সবাই জানে, বড় ছেলে ইসমাঈল(আ)কে কুরবানীর নাম করে ইসহাক(আ)কে কুরবানী করে ছিল। তিনি ও পুত্র হত্যা করেছিলেন। কিন্তু সৃিষ্টির কল্যানের জন্য কি ? না। সিংহাসন লাভের জন্য। হায়রে নবীর বৈশিষ্ট্য slightgrin emoticon থাক ও সব কথা তোদের বেজন্মাদের ধর্ম যে কেমন আমাদের ভলো জানা আছে। আশা করি সকল হিন্দু ভাইয়েরা বুঝলেও ঐ সকল বেজম্মারা বুঝবে কি না সন্দেহ আছে। ধন্যবাদ heart emoticon জয় সনাতন 
।
★প্রশ্ন৩।দেবদাসীর ও যোগিনীর মত পতিতা চরিত্রের সাথে ভগবান ওব্রাহ্মনগন কি করে অশ্লীলকর্মে লিপ্ত হন? যদি তারা প্রকৃতার্থে ভগবান হয়ে থাকেন। উত্তরঃ এই কথাটার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ চাই। গীতা,বেদ,ভাগবত বা উপনিষদ কোথা থেকে পেয়েছেন?? 
।
★প্রশ্ন৪।অশ্লীল ভঙ্গিমায় উলঙ্গ নারী, মুখে ও দাতেঁ রক্ত ও হাতে রক্তাক্ত তলোয়ার কি করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে? উদাহরন- দূর্গা। উত্তরঃ দূর্গা কখন অশ্লীল হলেন সেটাই খুজে পেলাম না । আমরা জানি কোন শক্তিকেই কোন কিছু দ্বারা আবদ্ধ করে রাখা যায় না। আর দুর্গা হচ্ছেন এমনই এক শক্তি। অসুরদের দমন করার জন্য সে ১০ বাহুর রুপ ধারন করেছিলেন। 
।
★ প্রশ্ন ৫।কৃষ্ণা যদি সৃষ্টিকর্তা হয় তবে সে কেন তার মামীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখলো? তবে কি সৃষ্টিকর্তা মানুষের সাথে এমন অবৈধ কর্মে লিপ্ত হয় যা তার নিজেরাই আইনের বর্হিভূত? উত্তরঃ কৃষ্ণ কখনই তার মামীর সাথে অবৈধ্য সম্পর্ক রাখে নি। আপনি মহাভারত থেকে এমন এক শ্লোক দেখান যেখানে রাধার সাথে অবৈধ্য সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
★প্রশ্ন৬।কিভাবে রাম সৃষ্টিকর্তা হতে পারে কারন সে প্রয়োজনে খাবার খেয়েছে, ঘুম গেছে, অনেক বিয়ে করেছে দৈহিকতারনায়, রাম নিজের স্ত্রীকে সন্দেহ করেছে এসবকি সৃষ্টিকতার কর্ম? উত্তরঃ রাম হচ্ছে ঈশ্বরের ৭ম অবতার।তিনি মানুষ রুপে পৃথিবীতে জন্মগ্রহন করেছিলেন। সুতরাং মানুষের মত কাজকর্ম রাম করেছিলেন কারন তিনি মানুষ কিন্তু ঈশ্বরের অবতার। শ্রীমদভগবত গীতার ৯:১১ তে ভগবান বলেছেনঃ আমি যখন মানুষ রুপে অবতীর্ন হই,মুর্খেরা আমাকে অবজ্ঞা করে তারা আমার পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত হন না, এবং তারা আমাকে সর্বভূতের মহেশ্বর বলে জানে না।। অর্থাৎ ভগবান মানুষরুপে পৃথিবীতে অবতীর্ন হতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ তা করতে পারেন না। আর রাম বহুবিবাহ করেননি।
।
।
।
★ প্রশ্ন৭।যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন কেন তিনি হনুমানের সাহায্য চাইবেন? তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি আছে? উত্তরঃরাম মানবরুপে জন্মগ্রহন করেছেন তাই অন্যের সাহায্য চাওয়া একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আর আল্লাহও কিন্তু জিবরাইলের সাহায্যে নবীর কাছে আয়াত পাঠিয়েছেন। তিনি নিজে এসে আয়াত পাঠাতে পারেন নি অথচ তিনি বলেছেন আমি সর্বশক্তিমান এটা হাস্যকর ছারা কিছুই না। 
।
★৮।প্রশ্নঃরাম হনুমানের দু’ভাইকে কেন অকারনে খুন করলেন যেখানে রামের সাথে তাদের কোন শত্রুতা ছিলনা? সৃষ্টিকর্তা হয়ে অপরাধ করা কি সম্ভব? উত্তরঃ রাম হনুমানের ভাইকে হত্যা করেননি। হত্যা করেছেন সুগ্রীবের ভাই বালিকে।কারণ বালি সুগ্রীরের স্ত্রীকে বন্ধি রেখেছিলো। 
।
★প্রশ্ন৯।রাবন যদি শয়তান হয়ে একদিনে লঙ্কায় পৌছাঁতে পারে তবে রামের সৃষ্টিকর্তা হয়ে কেন ১২ বছর লাগলো তাও আবার হনুমানের সাহায্যে? শয়তানের শক্তি সৃষ্টির্কতা হতে কি করে বেশি হওয়া সম্ভব? উত্তরঃরামকে লঙ্কা যেতে ১২ বছর লাগেনি।রাম ১৪ বছরের জন্য বসবাসে গিয়েছিলেন। শেষবর্ষে সীতা মাতার অপহরণ হয় ও শ্রী রাম সীতা’কে উদ্ধার করেন। দূর্গাপূজার ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে বিজয়াতে রাম জয় লাভ করেন। ★ প্রশ্ন আল্লাহর বিশ্ব সৃষ্টি করতে ৬ দিন লাগে,, তাহলে মোহাম্মদের ওপর কোরান নাজিল করতে কেন ২৩ বছর সময় লাগলো? 
.
★প্রশ্ন১০। কৃষ্ণ একজন সৃষ্টিকর্তা হয়ে কিভাবে নারীদের স্নানরত দৃশ্য উপভোগ করেন ও তাদের পোষাক লুকিয়ে রেখে দেন? উত্তরঃআপনার কথার উৎস কি ?মহাভারত নাকি ভাগবত ?? দুই কবির,শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন আর মেঘনাদ বধ কাব্য(যেগুলোতে অনেক কাহিনী বিকৃত করে দেয়া)!! তা আপনি হাজার বছর আগের আসল বই মহাভারত,ভাগবত না পড়ে আপনি কয়েকটা বিকৃত বই পড়ে এই মন্তব্য করাটা কতটা যৌক্তিক?? শ্রীকৃষ্ণ তখন ১০বছরের কম বয়সের ।তখনকার সময় কিছু লোক সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নান করত!যেটা পাপ। তাই শ্রীকৃষ্ণ তখন ওই মেয়েদের কাপড় চুরি করেন। পরবর্তীতে ওই মেয়েদের প্রতিজ্ঞা করান,যে তারা যেন আর সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নান না করে,এটা পাপ। তাছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নগ্ন হয়ে স্নান করায় দুই গাছরূপী (নন্দরাজের বাড়িতে)পাপী পুরুষকে তাদের শাস্তি ভোগার পর মুক্তি দেন।এ নিয়ে কাহিনী হলঃদুই পুরুষ একবার সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নান করে তখন ওই দিক দিয়ে দেবর্ষি নারদ যান।তখন দেবর্ষি নারদ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে স্নানের কারণে ওই পুরুষদেরকে গাছ হওয়ার অভিশাপ দেন।পরবর্তীতে ওই দুই পুরুষ গাছ হয়ে নন্দরাজের বাড়ির উঠানে জন্মেছিল এবং বহুকাল শাস্তি ভোগার পর শ্রীকৃষ্ণ তাদের মুক্তি দেন। এছাড়াও মহাভারতে দূর্যোধনকে মায়ের সামনে নগ্ন হয়ে যেতে নিষেধ করেন। 
।
★প্রশ্ন১১।গরু হিন্দুদের মা,গরুর পেট থেকে তো গরুর বাচ্চা হয় মানুষের বাচ্চা তো হয়না তাহলে গরুকি করে মানুষের মা হয়? উত্তরঃ গরু হিন্দুদের মা নয়। আমরা গরুকে মায়ের চোখে দেখি। আর গরু হিন্দুদের মা এটা কোন গ্রন্থে বলা আছে? প্রমাণ দিন।"" 
।
★প্রশ্ন:১২/- আপনি যাকে বানিয়েছেন সে বড়? নাকি আপনাকে যে বানিয়েছে সে বড়? উদাহরনঃ মুর্তি।। উওর: সৃষ্টিকর্তা বড়,,, আমাকে যে বানিয়েছে,,,,, আমরা ঈশ্বরকে বানাতে পারিনা,, তবে তার বিভিন্ন সকার রূপ এর প্রতিমা তৈরী করে,, ঈশ্বরের প্রতি মননিবেশ করে ঈশ্বকে ডাকি,, হিন্দুরা প্রতিমা পূজা করেনা,, প্রতিমার মাধ্যমে ঈশ্বরের ওপর মননিবেশ করে।
।
।
।
।
পাল্টা প্রশ্ন।---
।
প্রশ্ন : ১/ গনিমতের মাল কি? প্রশ্ন :
।
২/ ৭২ হূর এর কি,,, এটা কেন শুধু পুরুষরাই পাবে? ( সুনানে ইবনে মাজহা // হাদিস নং ৪৩৩৭) 
।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪২৪২) প্রশ্ন :৩/ উটের মুত খাওয়ার উপকারিতা কি? 
।
প্রশ্ন:৪ / কাবা শরিফে,, কালো পাথরকে কিস করার উপকারিতা কি এটা কিস করলে নাকি সকল পাপ নাশ হয়,,? 
।
প্রশ্ন :৫/ শয়তানের ঘরে পাথর মারার উপকারিতা কি? 
।
প্রশ্ন :৬/ আল্লাহর পৃথিবী সৃষ্টি করতে ৬ দিল লাগে আর কোরান নাজিল করতে ২৩ বছর লাগে,, এটা কি হাস্যকর নয়? 
।
প্রশ্ন:৭/ নিজের পুএ বধূকে বিবাহের বৈধতা কতটুকু?( সা:)
।
প্রশ্ন :৮/ ২৫ বছর বয়সে মোহাম্মদ তার মার বয়সি ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করে ,, এর ব্যাখ্যা কি?
।
প্রশ্ন:৯/ ৬ বছরে আয়শাকে বিবাহ করে তাকে ধর্ষন এর,, মনবতা কি? 
।
প্রশ্ন:১০/ নারীর সন্মান কি? (কোরান ২/২২৩ এ বলা আছে নারী শষ্যখেত) 
।
প্রশ্ন:১১/ হিল্লা বিয়ে কি এর উপকারিতা কি? 
।
প্রশ্ন:১২ / ইসলামে,, পুরুষ এবং মহিলাদের অধিকার কেন সমান নয়? মহিলারা কেন মসজিদে নামাজ পড়তে পাড়বেনা,, একেমন ধর্ম,,যেখানে নারী পুরুষকে আলাদা ভাবা হয়?
।
প্রশ্ন:১৩/ আল্লাহ কেন আপনাদের জন্ম থেকে মুসলিম বানায়না তার কি এই ক্ষমতা নেই? তাহলল কেন আগা কাটা লাগে (খাৎতা)?
//
/
ক্ষমতা থাকলে আমার এই ১৩টা প্রশ্নের উওর দিন,,,, তার পর আরো প্রশ্ন করবো।
।
সত্যমেব জয়তে।
।
নমস্কার





" জীব সেবাই পরম ধর্ম''

সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৯

পুজা নিয়ে মুমিনদের চুলকানির জবাব

কিছুদিন ধরে ফেসবুকে হিন্দুদের পুজা নিয়ে মুমিনরা বেশি চুলকায়।তা নিয়ে বলব তার আগের বলতে চাই ইসলামে ত মদ হারাম কিন্তু বেহেশতে কেন মদের নদী আছে তাছাড়া আরবের সবাই বলে মদ্যপায়ী।।

https://www.be.bangla.report/post/37952-bJLGLRm0b

এমন কিছু তথ্য নেট এ পাওয়া যাবে।

তাছাড়া আপনাপরা যে হজ করেন তাতে কত
কোটি টাকা অপচয় হয় যাতে আরবের ইনকাম সোর্স বাহ তাছাড়া আপনারা যে এত এত টাকা খরচ করে গরু মহিষ কোরবানী
দেন তাতে কি টাকার অপচয় হয় না।
এখন বলবেন বলির কথা হে এটা কিছু হিন্দুরা দেয় তবে এতে যত খরচ তারচেয়ে বেশি



তাছাড়া আপনারা ইবলিশকে পাথর ছুড়ে 
মারেন।কেন ইবলিশকে ত বোম মারলেই
ত কেল্লাফতে।।
তাছাড়া পাথরকে চুমু খাওয়া ছ্যে এসব
আপনারা করলেই দোষ নাই আর আমরা
 পুজা করলেই দোষ বাহ বাহ তাছাড়া
পাথরকে চুমু খেলে গুনা মাফ বাহ বাহ।
এ হচ্ছে এসলাম 😁 






বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

মুমিনদের চুলকানি / হিন্দুধর্মে মলম

কাউন্টার পোষ্ট
হিন্দু ধর্মে পূজা নিষিদ্ধ। রেফারেন্স সহ প্রমান দিলামঃ
১. না তাস্তে প্রাতীমা আস্থি ( রীগ বেদ ৩২ অধ্যায় ৩ নং অনুচ্ছেদ )
অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন প্রতি মূর্তি নেই ।
২. যারা নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তাঁরাই মূর্তি পূজা করে ( ভগবৎ গীতা অধ্যায় ৭, অনুচ্ছেদ ২০ নম্বর ) ।
রেফারেন্স সহ দিলাম ।
৩. হিন্দুরা অনেক দেব দেবির পুজা করলেও হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে হিন্দুদের কেবল মাত্র এক জন ইশ্বরের উপাসনা করতে বলা হয়েছে॥
বেদের ‘ব্রহ্ম সুত্র’ তে আছে “একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চন” অর্থাৎ ইশ্বর এক তার মত কেউ নেই কেউ নেই সামান্যও নেই । আরও আছে “সে একজন তারই উপাসনা কর” (ঋকবেদ ২;৪৫;১৬)।
“একম এবম অদ্বৈত্তম” অর্থাৎ সে একজন তাঁর মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১;২;৩) ।
“এক জনেই বিশ্বের প্রভু” (ঋকবেদ ১০;১২১;৩) ।
৪. হিন্দু ধর্মে মুর্তি পুজা করতে নিষেধ করা হয়েছে॥
ভগবত গীতা – অধ্যায় ৭ – স্তব ২০ - [ যাদের বোধশক্তি পার্থিব আকাঙক্ষার মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধু তারাই উপদেবতার নিকটে উপাসনা করে। ]
৫. ভগবত গীতা – অধ্যায় ১০ – স্তব ৩ -
[ তারা হচ্ছে বস্তুবাদি লোক ,তারা উপদেবতার উপাসনা করে ,তাই তারা সত্যিকার স্রস্টার উপাসনা করে না।]
৬. যজুর্বেদ – অধ্যায় ৪০- অনুচ্ছেদ ৯ –
[ অন্ধতম প্রভিশান্তি ইয়ে অশম্ভুতি মুপাস্তে – যারা অশম্ভুতির পুজা করে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তারা অধিকতর অন্ধকারে পতিত হয় শাম মুর্তির পুজা করে । অশম্ভুতি হল – প্রাকৃতিক বস্তু যেমন- বাতাস,পানি,আগুন । শাম মুর্তি হল – মানুষের তৈরী বস্তু যেমন - চেয়ার ,টেবিল ,মূর্তি ইত্যাদি।]
.
⏩ জানি , হিন্দুরা মূর্তি দিয়ে পূজা নিষিদ্ধের এইসব কথা বা রেফারেন্স কখনো মানতে চাইবে না , একটা কথা , যে জেগে জেগে ঘুমায় , তাকে ঘুম থেকে জাগানো খুব কঠিন। ⏪
.
মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ আমাদেরকে সবকিছু যুক্তির সাথে বুঝার তৌফিক দান করুক যাতে আমরা শিরক না করি ।(আমীন)
.
Noted : এখানে আমি কোন প্রকারের hate speech প্রদান করি নাই । কোন ধর্মকেই কটাক্ষ করি নাই । হিন্দু ধর্ম গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়েছে মাত্র।
কারন হিন্দু ধর্মে মূর্তি পূজা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
.
আমার প্রশ্ন হল এই , যেটা নিষেধ করা হয়েছে , সেটা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে , পরিবেশ দূষন করে কেন এই কাজ করিবে ?
জবাব চাই , হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছে ।
লিখে পোষ্ট করেছেন এক মুমিন।
জবাবঃ যে সম্পুর্নভাবে ক লিখতে অ লিখে তার
পোষ্ট দেখলে হাসি পায়।
যে ঋকবেদ রীগবেদ বলে
আর বেদ থেকে তিনি রেফারেন্স টানতে গিয়ে শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৭/২০ এনেছেন যা সম্পুর্ন বানানো সেখানে মুর্তি বলে কিছু নেই। আর তিনি কি অাদৌ
গীতা  পড়েছেন তাহলেে ৭/২১ বা ৭/২২ রেফা টানতে পারতেন। গুপন ফাস হইব বলে টানেন নি। তিনি কি আদৌ জানেন গীতায় পুজার স্বীকৃত তৃতীয় অধ্যায় ১২ নং শ্লোক
ইষ্টান্ ভোগান্ হি বো দেবা দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ ।
তৈর্দত্তানপ্রদায়ৈভ্যো যো ভুঙক্তে স্তেন এব সঃ ॥
অর্থাত যে দেবতাদিগের পুজা
করে না সে চোর বলিয়া কথিত হন।
এরপর বলব তিনি যা কপি পেস্ট করছেন তিনি গাজা সেবন করি উহা
পোষ্ট করছেন।
ইসলাম শ্রেষ্ঠ কারন বেহেশতে গিয়া ৭২ ডা হুর পৃথিবীতে ৪ টা বিয়া আর কি চাই

শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বেদে শঙ্কা

যজুর্বেদের 23/20 তম মন্ত্রটি নিয়ে শঙ্কা এই যেঃ সেই মন্ত্রে রাজমহিষীকে অশ্বের সাথে সঙ্গম করতে বলেছে। আচার্য মহীধর এই মন্ত্রে অশ্বমেধ যজ্ঞার্থ করেছেন বিধায় উক্ত অশ্লীলতার উদ্ভব।

সবার আগে আমরা প্রকৃত মন্ত্রের পদার্থ দেখে নিই।


তা উভাে চতুরঃ পদঃ সম্পসারয়াব স্বর্গ লােকে প্রোর্ণুবাথাং বৃষা বাজী রেতােধা রেতাে দধাতু।
(যজুর্বেদ ২৩২০)।
পদার্থঃ (তৌ উভৌ) রাজা এবং প্রজা উভয়ে মিলে (চতুর পদ) ধর্ম অর্থ। কাম মােক্ষ এই চার পুরুষার্থ কে (সম্প্রসারয়াব) উত্তম প্রকারে বিস্তৃত করবে (স্বর্গ লােকে) সুখময় লােকে (প্র ণুবাথাম) একে অপর কে রক্ষা করবে (বৃষা) দুষ্টকে বাধার সামর্থযুক্ত (বাজী) ঐশ্বর্যযুক্ত রাজা (ইন্দ্রো বৈ বাজী; ঐ০ ৩১৮] (রেতােধা) বীর্য- পরাক্রম ধারন করে (রেত) রাষ্ট্রকে পরাক্রম (দধাতু) দান করেন।
সরলার্থঃ রাজা এবং প্রজা উভয়ে মিলে ধর্ম অর্থ কাম মােক্ষ এই চার পুরুষার্থ কে উত্তম প্রকারে বিস্তৃত করবে সুখময় লােকে একে অপর কে রক্ষা করবে। দুষ্টকে বাধার সামর্থযুক্ত ঐশ্বর্যযুক্ত রাজা বীর্য- পরাক্রম ধারন করে রাষ্ট্রকে পরাক্রম দান করেন।
মহর্ষি দয়ানন্দ জী কৃত ভাষ্য অনুযায়ী উক্ত মন্ত্রে অশ্বের উল্লেখ নেই। অশ্বের উল্লেখ না থাকায় যজ্ঞার্থ করার প্রশ্ন ই আসে না।
কিন্তু আচার্য মহীধরের মতে বাজী শব্দটির অর্থ অশ্ব। এখানে রাজ মহিষী কে মৃত অশ্ব চতুর্পদ সম্প্রসারণ করে রেতঃদান করে স্বর্গে পাঠায়। ভাষ্য নিয়ে মতবিরোধ হবার দরুণ আমরা দেখি ব্রাহ্মণ ও নিরুক্ত কাকে সমর্থন করে। 

  
ঋগ্বেদীয় ঐতরেয় ব্রাহ্মণ 3/18 মতে, 
“বাজিনং” এই পদে ইন্দ্রই বাজী (বাজযুক্ত অর্থাৎ অন্নযুক্ত)। এইরূপে এই মন্ত্রে চারিটি পদ [ যথাক্রমে ] বৃষ্টিপ্রদ, মরুৎসম্বন্ধী, বিষ্ণুসম্বন্ধী ও. ইন্দ্রসম্বন্ধী।

এছাড়া যজুর্বেদের মাধ্যান্দিন শাখার অন্তর্গত শতপথ ব্রাহ্মণে ও বাজিন শব্দের অর্থ নিম্নরূপঃ
এছাড়া যজুর্বেদের মাধ্যান্দিন শাখার অন্তর্গত শতপথ ব্রাহ্মণে ও বাজিন শব্দের অর্থ নিম্নরূপঃ 




শতপথ-ব্রাহ্মণ
[৪ প্র.১ ব্রা]

, বাজিন ভক্ষণের জন্য হন্তে গ্রহণ করিয়া পরস্পর সকলকেই হোতুপ্রভৃতি পদে সম্বোধনপূর্বক (এই বাজিম ক্ষণের জন্য) অনুজ্ঞা প্রদান করুন (উপহয়)।' এইরূপে অনুজ্ঞা প্রার্থনা করিয়া ও অনুজ্ঞাত (উপঃ ") হইয়া ঐ বাজিন ভক্ষণ করেন। তাহা ভক্ষণ করিবার কয়েকটি বৈকল্পিক মন্ত্র সূত্রগ্রন্থে দৃষ্ট হয়, যথা—“তুমি বাজী (অন্নবান) ঋতুগণের বাজিন,“আমি তােমাকে ভক্ষণ করি! অথবা ‘আমি বাজী (বলবিশেষশালী, বা অন্নবান), আমি অনুজ্ঞাত হইয়া অনুজ্ঞাত বাজিনকে ভক্ষণ করি।' অথবা 'আমি অন্নের দ্বারা অন্নবান হইব (কিংবা বলবিষয়ে বলবান্ হইব )!' মন্ত্ৰকয়টির মূল এইঝতুনাৎ ত্বা বাজিনা বাজিন "ভক্ষয়ামি।'ৰাজহং বাজিনস্যোপহুতস্যোগহুতো ভক্ষয়ানি ! ‘বাজে বাজী ভূয়াসম!" সােমবাগে হুতাবিশিষ্ট সোমভক্ষণ এইরূপেই করিতে হয় ( কা, শ্রো. ৩,৫,২১)। এই জন্য উক্ত হইয়াছে যে, তাদৃশ বাজিনপান সােমসদৃশ। কা. শ্রৌ ১০. ১৯-২৭।
 
এখানে ও স্পষ্ট যে বাজ শব্দের অর্থ অন্নযুক্ত।

 বৈদিক শব্দার্থকোষে বাজিনের অর্থপ্রকরণ এরূপ


বাজিন্ = বিজ্ (ভয় এবং চলার অর্থে) + ণিনি ( তাচ্ছীল্য অর্থে) = বাজিন।

অন্নবান।
গতিমান।
বহু অন্ন ভক্ষণকারী অশ্ব।(আধুনিককালে অশ্ব অর্থে প্রযুক্ত।যেহেতু বেদ আধুনিক না, তাই বাজিন শব্দ অশ্ব অর্থে প্রযুক্ত হওয়া একপ্রকার অসম্ভব)
বাজ্ + ইন্ = বাজন্। বলবানিরুক্তে

 ও ইন্দ্র শব্দটির উৎপত্তি বোঝাতে গিয়ে বলা হয়েছেঃ

Indra is (so called because) he divides food (irā+ dr), or he gives food (ira+da), or he bestows food (irā+alā), or he sends food (ira + däraya), or he holds food (iva + dhāruya)



ইন্দ্র বলার কারণ তিনি খাদ্য কে ভাগ করেন(ইর+দ্র) অথবা তিনি খাদ্য দেন (ইর+দ্) অথবা তিনি খাদ্য ধারণ করেন (ইর+ধ্) অথবা তিনি খাদ্য পাঠান (ইর+দারয়) অথবা তিনি খাদ্য ধরে রাখেন (ইর+ ধারয়)


সুতরাং নিরুক্ত থেকে ও এটা পাওয়া যাচ্ছে ইন্দ্র ই পরোক্ষে বাজিন। তাই যজুর্বেদের উক্ত মন্ত্রে অশ্বের কোনও উল্লেখ ই নেই। সুতরাং  অশ্বের রেতধারণের প্রশ্ন ই আসে না।







বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

❏ সনাতনধর্মে নারীর স্থান

সনাতনধর্ম হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র ধর্ম যার প্রধাণ ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ঋষি। 
যেমন, 
১) ঘোষা(ঋগ্বেদ দশম মন্ডলের ৩৯-৪১ নং সুক্তের দ্রষ্টা,ঋষি কক্ষিবান এর কন্যা)
২) লোপামুদ্রা
৩) মৈত্রেয়ী
৪) গার্গী
৫) পৌলমি
৬) রোমশা
৬) অপালা
৭) বাক (ঋগ্বেদের বিখ্যাত দেবীসূক্তের দ্রষ্টা),
৮) অপত
৯) কত্রু
১০) বিশ্ববর
১১) জুহু
১২) ভগম্ভ্রীনি (মহর্ষি অম্ভ্রন এর কন্যা, ঋগ্বেদের অষ্টম মন্ডলের ১২৫ নং সুক্তের দ্রষ্টা)
১৩) যরিতা
১৪) শ্রদ্ধা
১৫) উর্বশী
১৬) স্বর্ণগা
১৭) ইন্দ্রানী
১৮) সাবিত্রী
১৯) দেবায়নী
২০) নোধা
২১) আকৃষ্ভাষা
২২) শীকাতনবাবরি
২৩) গণ্পায়নী
২৪) মন্ধত্রী
২৫) গোধ
২৬) কক্ষিবতী
২৭) দক্ষিণা
২৮) অদিতি
২৯) রাত্রি(মহর্ষি ভরদ্বাজের কন্যা)
৩০) শ্রীলক্ষ্য
♦ পৃথিবীর অার কোন ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থে নারীদের এমন ভূমিকা দেখা যায় না। একমাত্র পবিত্র বেদেই পাওয়া যায় নারীদের এমন অসাধারণ অবদান। অার পৃথিবীর অন্যান্য সব ধর্মগ্রন্থে পুরুষদের ভূমিকাই পাওয়া যায় কেবল।

সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বেদ।
এবারে দেখুন পবিত্র বেদের নারী স্তুতি,
যেগুলোতে পুত্রের পাশাপাশি কন্যাকেও প্রার্থনা করা হয়েছে-
.
• আমার পূত্র শত্রুর নাশকারী এবং নিশ্চয়রূপে আমার কন্যা বিশিষ্টরূপে তেজস্বিনী।
- ঋগবেদ (১০।১৫৯।৩)
.
• যেমন যশ এই কন্যার মধ্যে এবং যেমন যশ সম্যকভৃত রথের মধ্যে, ঐরূপ যশ আমার প্রাপ্ত হোক।
- ঋগবেদ (৯।৬৭।১০)
.
• একসঙ্গে মিলিয়া যজ্ঞ করিলে পতি পত্নী, পুত্র এবং কন্যা কুমারী লাভ করেন। তাহারা পূর্ণ আয়ু ভোগ করেন। এবং উভয়ে নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের স্বর্ণভূষণে দীপ্যমান হন।
- ঋগবেদ (৮।৩১।৮)
.
অথর্ববেদের ১ম কান্ডের ১৪তম সুক্তে একজন পিতার কন্যা দানের উল্লেখ পাওয়া যায়-
• হে নিয়মকারী বর রাজন! এই কামনাযোগ্য কন্যা তোমার বধু। সে তোমার মাতা পিতা এবং ভ্রাতার সাথে ঘরে নিয়মপূর্বক অবস্থান করবে।
- অথর্ববেদ (১।১৪।২)

.হে বর রাজন! এই কন্যা তোমার কুলের রক্ষাকারী, তাহাকে তোমার জন্য আমি আদরের সহিত দান করিতেছি। সে বহু কাল পর্যন্ত তোমার মাতা পিতা আদির মধ্যে নিবাস করবে।
- অথর্ববেদ (১।১৪।৩)
.
বিবাহিতা নারীকে ‘কল্যাণময়ী, মঙ্গলময়ী’ আখ্যায়িত করে বেশ কিছু স্তুতির উল্লেখ পাওয়া যায় বেদে-
.
• হে বধূ! শ্বশুরের প্রতি, পতির প্রতি, গৃহের প্রতি এবং এই সব প্রজাদের প্রতি সুখদায়িনী হও, ইহাদের পুষ্টির জন্য মঙ্গল দায়িনী হও।
- অথর্ববেদ (১৪।২।২৬)
.
হে বধু! কল্যাণময়ী, গৃহের শোভাবর্দ্ধনকারী, পতি সেবা পরায়ণা, শ্বশুরের শক্তিদায়িনী, শাশুড়ি আনন্দ দায়িনী, গৃহকার্যে নিপুণা হও।
- অথর্ববেদ (১৪।২।২৭)
.
• হে বধূ! যেমন বলবান সমুদ্র নদী সমূহের উপর সাম্রাজ্য স্থাপন করিয়াছে, তুমিও তেমন পতিগৃহে গিয়া সম্রাজ্ঞী হইয়া থাকো।
- অথর্ববেদ (১৪।১।৪০)
.
• শ্বশুরদের মধ্যে এবং দেবরদের মধ্যে, ননদ ও শাশুড়ির সঙ্গে মিলিয়া সম্রাজ্ঞী হইয়া থাকো।
- অথর্ববেদ (১৪।১।৪৪).
.
• এই বধূ মঙ্গলময়ী, সকলে মিলিয়া ইহাকে দেখো, ইহাকে সৌভাগ্য দান করিয়া দুর্ভাগ্য বিদূরিত করো।
- অথর্ববেদ (১৪।২।২৮)
.
• হে স্ত্রী! শ্বশুরের নিকট সম্রাজ্ঞী হও, শাশুড়ির নিকট সম্রাজ্ঞী হও, ননদের নিকট সম্রাজ্ঞী হও এবং দেবরদের নিকট সম্রাজ্ঞীর অধিকার প্রাপ্ত হও।
- অথর্ববেদ (১০।৮৫।৪৬)
.
হে স্ত্রী! অমৃতরসে পরিপূর্ণ এই কুম্ভকে আরো পূর্ণ করিয়া আনো, অমৃতপূর্ণ ঘৃতধারাকে আনো, পিপাসুকে অমৃতরসে তৃপ্ত করো। ইষ্ট কামনার পূর্তি গৃহকে রক্ষা করিবে।
- অথর্ববেদ (৩।১২।৮)
.
যজুর্বেদ ২২।২২ মন্ত্রে পরমেশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে যে, আমাদের রাজ্যে যেন বিদ্বান ব্রাহ্মণ, নির্ভয় ক্ষত্রিয়, দুগ্ধপূর্ণ গাভী, ভারবাহী ষাড়, ঔষধি, সুন্দর ব্যবহারকারী স্ত্রী এবং শত্রু বিজয়কারী পুরুষ উৎপন্ন হয়। মন্ত্রটিতে স্পষ্টভাবে পুরুষের সাথে সাথে নারীকেও উৎপন্ন হবার জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে।
.
• ন জাময়ে তান্বো রিক্থমারৈক্চকার গর্ভং সনিতুর্নিধানম্।
যদী মাতরো জনযন্ত বহ্ণিমত্যঃ কর্তা সূকৃতোরন্য ঋন্ধন্।।
- ঋগ্বেদ (৩.৩১.২)
অনুবাদ- পুত্র কন্যাকে (ভাই তার বোনকে) পিতৃসম্পত্তি থেকে আলাদা করে দেয়না, তা সমানই থাকে বরং সে তার বোনকে শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলে এবং স্বামীর হাতে তুলে দেয়। পিতামাতা ছেলেমেয়ের জন্ম দেন, প্রথমজনকে পারিবারিক দায়িত্ব অর্পণের জন্য আর দ্বিতীয়জন আসে তাদের জন্য পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে।

.ব্যাখ্যা- এই মন্ত্রে ছেলে ও মেয়ে সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। একটি পিতামাতার যদি শুধু মেয়ে সন্তান থাকে তবে পিতৃসম্পত্তির সম্পূর্ণ ভাগটাই সে পাবে, আর যদি তার ভাই থাকে তাহলে দুজনের মধ্যে তা সমানভাবে ভাগ হবে, কোনভাবেই তা এককভাবে শুধু পুত্রসন্তান পাবেনা। আর পিতা-ভ্রাতাদের কর্তব্য হল কন্যাকে বিয়ের আগেই শিক্ষা-কৃষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলা। একজন পুত্রের কাজ সংসারের দায়িত্বভার নেয়া আর একজন কন্যাসন্তানকে পিতামাতার জন্য পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
‘মহাবীর তন্ত্র’ এর দশম অধ্যায়ে বলা হয়েছে-
“নারীরা সকল ধরনের শ্রাদ্ধ করতে পারবে কেবলমাত্র বৃদ্ধি শ্রাদ্ধ ব্যতীত।”
বৃদ্ধি শ্রাদ্ধ নারীরা করতে পারবেন না কেননা একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বামী অনাগত সন্তানের মঙ্গল কামনায় যে শ্রাদ্ধ করেন তাই হল বৃদ্ধি শ্রাদ্ধ। সুতরাং নারীর এই শ্রাদ্ধ করতে পারার কোন কারণ নেই!
বিখ্যাত তামিল ঐতিহাসিক গ্রন্থ পুরুনানুরুতে আমরা দেখতে পাই লেখক ভেল্লেরুক্কিলাইয়ার বর্ণনা দিচ্ছেন রাজা ভেলেব্বির মৃত্যুতে রানীর পিণ্ডদানের কথা।
শাস্ত্রমতে একজন ব্যক্তির যেসকল আত্মীয়রা শ্রাদ্ধ করতে পারেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ছেলে, মেয়ে, ছেলের ছেলে, মেয়ের ছেলে, স্ত্রী, বাবা, মা, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, গুরু, শিষ্য।
অর্থাৎ যেহেতু ওই ব্যক্তির মেয়ের পিণ্ডদানের অধিকার আছে তাই দায়ভাগ শাখায় মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তি লাভের সুযোগ রয়েছে।
Partha Paul

বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

✅সনাতন বেদ বনাম ইসলাম কোরআন কোনটি ঈশ্বর প্রদত্ত - পর্বঃ---১ ⤵

আল্লাহর নামের সহিত আরম্ভ; তিনি ক্ষমাকারী এবং দয়ালু। "মঞ্জিল ১। সিপারা ১। সুরত ১।↕
সমীক্ষক --- মুসলমানেরা বলেন যে, কোরআন খুদার বানী। কিন্তু এই বচন হইতে জানা যাইতেছে যে ইহার উপর রচিয়তা আছে। কারন ইহা পরমেশ্বর রচিত হইলে "আল্লাহের নামের সহিত আরম্ভ " বলা হইত না। "মনুষ্যদের প্রতি উপদেশের জন্য আরম্ভ" বলা হইত। যদি মনে করা হয় আল্লাহ মনুষ্যদিগকে উপদেশ দিতেছেন, তুমি এইরূপ বল " তাহা হইলেও সঙ্গত হয় না: কারন তাহাতে পাপের আরম্ভও খুদার নামে হইবে এবং তাঁহার নাম কলঙ্কিত হইবে।
যদি তিনি ক্ষমাকারী এবং দয়ালু হন,
তাহা হইলে তিনি তাঁহার সৃষ্টিতে মনুষ্যদের সূখের জন্য অন্য প্রাণীদিগকে দারুন কষ্ট দিয়া হত্যা করিয়া মাংসভোজনের আদেশ দিলেন কেন? ঐ সকল প্রাণী কি নিরাপদ নহে? তাহারা কি ঈশ্বর সৃষ্ট নহে?
পরমেশ্বরের নামে উত্তম কর্মের আরম্ভ" কুকর্মের নহে, এইরূপ বলাই উচিত ছিলস। পূর্বোক্ত বাক্যে অসঙ্গতি কেননা চৌর্য্য, লাম্পট্য এবং মিথ্যাভাষণ প্রভৃতি পাপকর্মের আরম্ভও কি পরমেশ্বরের নামের সহিত করিতে হইবে?
বোধ হয় এই কারনেই মুসলমাস কসাইরা কন্ঠচ্ছেদ করিবার সময়ও 'বিস্মিল্লাহ" ইত্যাদি পাঠ করিয়া থাকে। উক্ত বচনের ইহাই অর্থ মনে করিয়া মুসলমানেরা কুকর্মের আরম্ভও আল্লাহর নাম লইয়া থাকে। মুসলমানদের খুদা দয়ালুও হইবেন না। কারন পূর্বোক্ত প্রাণীদের প্রতি তাঁহার দয়া রইলো কোথায়? উক্ত বাক্যের অর্থ যদি মুসলমানরা না জানেন, তাহা হইলে এ বাক্যের প্রকাকাশ ও বৃথা ; যদি অন্য কোন অর্থ করেন, তবে সেই প্রকিত অর্থ কি?..।
আরো অনেক যুক্তিগত ভাবেই কোরআন ঈশ্বর প্রদত্ত হইতে পারেনা তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখেনা।
যাই হোক এতোক্ষণ সাধারন যুক্তি দিয়েই কোরআন এর বাণী কোন ঈশ্বর প্রদত্ত না তা প্রমান হলো এবং সেই সাতে সনাতন বেদ ঈশ্বর প্রদত্ত তাহাঁর প্রমান আমি তুলে ধরবো, খুব অল্পতেই লিখে।
লিখলে লিখে শেষ করা যায়না তেমনি তর্কেও জয় পাওয়া যায়না যদি না তুমি বুঝতে সক্ষম হও।
এবার আসি সনাতন বেদ?
===================
ইহা বিচারণীয় যে, মানব জ্ঞানের আদিস্রোত কি ঈশ্বর? যদি হয় তবে ঈশ্বরীয় জ্ঞান কেবল বেদ ই, অন্য গ্রন্থ নয়? এই প্রশ্ন সমাধানের জন্য আমাদের ঈশ্বর, জ্ঞান এবং বেদ এই তিন শব্দের অর্থ অনুধাবন করা প্রয়োজন । ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তা, সর্বাধার, সর্বব্যাপক, সচ্চিদানন্দ, অজর, অমর, নিত্য পবিত্র আদি গুণ দ্বারা পূঁর্ণ সত্তা। জ্ঞান সত্য, শাশ্বত নিয়ম, সৃষ্টি নিয়মাকুল , সর্বহিতকারী মানবমাত্রের জন্য এক সমান ব্যবহার্য্য, প্রমাণ এবং তর্ক দ্বারা সিদ্ধ পক্ষপাত রহিত বিদ্যা। বেদ যা সমস্ত বিদ্যার ভান্ডার এবং আদিমূল। বৈদিক ধর্মের সমস্ত মত এবং সম্প্রদায়ের আদিস্রোত বেদই।
মানবের সৃষ্টিকাল থেকে আজ পর্যন্তের ইতিহাস স্পস্ট করেছে যে, মনুষ্য মূলভূত জ্ঞান অর্জন করতে পারতো না। কারন জ্ঞান দুই প্রকার - এক নৈমিত্তিক বা মূলভূত জ্ঞান এবং দ্বিতীয় নৈসর্গিক বা স্বাভাবিক জ্ঞান। নৈমিত্তিক জ্ঞান একদম মূল যাহা বিনা জ্ঞান বিকশিত হতে পারে না। যেমন গণিতের সংখ্যা এক দুই আদি বিনা গণিত বা ভৌতিক বিজ্ঞানের কোন ক্ষেত্র বা বিকাশ সম্ভব নয়। সমস্ত ভৌতিক বিজ্ঞানের আত্মা গণিত এবং ইহা বিশ্ববিখ্যাত এবং সর্বমান্য যে গণিত বিজ্ঞানের মূল আধারভূত সংখ্যা বেদ এবং বৈদিক গণিত বিজ্ঞান থেকে উদ্ভুত হয়েছে। স্বাবাবিক জ্ঞান মনুষ্যের মধ্যে জন্ম থেকেই হয়। ইহা জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং কর্মেন্দ্রিয়ের ব্যবহারের সাথে সমন্ধিত। মানুষ প্রশিক্ষন দ্বারা নৈমেত্তিক জ্ঞান প্রাপ্ত হবার পর স্বাধ্যায়, চিন্তন, মনন, অভ্যাস দ্বারা বিদ্যার উন্নতি করতে পারে।
আস্তিক জগতে কিছু লোক যারা জ্ঞানের আদিস্রোত ঈশ্বর কে মানে না। এরূপ লোককে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ১। সত্ অসত্ বিবেকবাদী ২। প্রকৃতিবাদী ৩। সামাজিক বিকাসবাদী।
প্রথম বর্গের লোকের মত এই যে পরমেশ্বর আমাদের সত্য - অসত্য, ধর্ম - অধর্মের নির্ণয় করার জন্য চেতনা বা চেতনাত্মা দিয়েছে যা দ্বারা আমরা নিজ কর্তব্য অকর্তব্যের স্বয়ং নির্ধারন করতে পারি । এই তর্ক নৈমিত্তিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে সঠিক নয়। ইহা উচিৎ যে, ব্যক্তি বাহ্য বাতাবরণ কে দেখে স্বাভাবিক জ্ঞান ও নিজ মান্যতার উপর কিছু নির্ণয় নিতে পারে। এবং এই নির্ণয় সেই ব্যক্তির সামাজিক বাতাবরণ ও মানত্যতা দ্বারা প্রভাবিত। তাহার আধারে এক সমান, মানবতাবাদী, সর্বমান্য, আচারসংহিতা হতে পার না। এইজন্য জার্মান দার্শনিক কাণ্ট নিজ "মেটাফিজিক্স অফ মোরল্স" পুস্তকে লিখেছিলেন -
" Feeling which naturally differ in degree can not furnish uniform standard of good and evil, nor has any one a right to form judgements for others by his own feelings"
" ব্যক্তির ভাবনা বিভিন্ন হতে পারে যা ভালো - খারাপ এর মধ্যে এক সমান মাপদন্ড তৈরী করতে পারে না। আর না অন্যের সমন্ধ্যে নিজ বিচারানুকুল নির্ণয় নেবার অধিকার হয় "
ইহার বিপরীত ঈশ্বর, জীব, প্রকৃতি আদির স্বরূপ তাহার পারস্পারিক সমন্ধ্য, সৃষ্টি রচনা,ভৌতিক জ্ঞান বিজ্ঞান, মোক্ষ সাধানাদির মূল জ্ঞান তো শুধু মাত্র চেতনা দ্বারা হতে পারে না। তো এই ধারণা অমান্য।
প্রকৃতিবাদির মত যে প্রকৃতিকে দেখো সব জ্ঞান প্রাপ্ত করা যায়। ইহা সর্বদা মান্য নয়। যদি তাহাই হতো তো প্রকৃতির ক্রোড়ে পালনরত বনবাসি জনজাতিও সুসভ্য, সুশিক্ষিত এবং সুসংস্কৃত হতো। কোনও বনবাসি জাতি অসভ্য এবং অবিকসিত থাকতো না। কারন তাহার সামনে তো প্রকৃতির বিশাল পুস্তক রয়েছে। কোন শিক্ষা দেবার জন্য বিদ্যালয় খোল অধ্যয়ন অধ্যাপন করার আবশ্যকই নেই।
তৃতীয় বিকাসবাদীর অনূসারে ধার্মিক নৈতিকতা এবং সমাজিক জ্ঞান আদির ক্রমিক বিকাশ হয়ে থাকে। অতঃ সব প্রকারের জ্ঞান বিকাসবাদের পরিণাম। ইহা মানা একদম উচিৎ নয় কারণ বিকাশ তাহারই হয়ে থাকে যা পূর্ব থেকে সুক্ষরূপে বিদ্যমান। আর ইহা সর্বসম্মত তথ্য যে বেদে বিশ্বের প্রাচীনতম পুস্তক। অতঃ বিশ্বের মূল জ্ঞান বেদেই এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের যে প্রগতি আমরা দেখতে পাই তা সেই বেদ জ্ঞানেরই বিকশিত রুপ।
বেদকে শুধু ভারতীয়রা অপৌরষেয় মানে না বরং বিভিন্ন দার্শনিকরাও ইহা মান্য করে যে সত্য সনাতনের আদি স্রোত ঈশ্বরই।
অন্য কেহ নয়।
(i) দার্শনিক কাণ্ট লিখেছে - we maw well conede that if the Gospel had no previously taught the universal moral law in their fully purity, reason would not yet have attained so perfect an insight of them
আমি উত্তমপ্রকারে মানি যে, যদি ঈশ্বরীয় জ্ঞান আমাদের প্রারম্ভে সত্য শাশ্বত নিয়ম কে না বলতো তো কেবল বুদ্ধি এমন নির্ভ্রান্ত এবং পূর্ণরূপে প্রাপ্ত করতে পারতো না।
(ii) বিদ্বান আর ফিলংট লিখেছে যে, The light of nature and the works of creation and providence are not sufficient to give that knowledge of God and of his will which is necessary unto salvation. The deepest discoveries and highest achivements of the unaided intellect need to be supplemented by truths which can only come to us through special revelation (theism, p 300)
অর্থাৎ প্রকৃতির প্রকাশ এবং সৃস্টির কার্য ঈশ্বর কে বোঝা এবং মোক্ষ প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট নয়। গহনতম শোধ এবং উচ্চতম উপলব্ধির জন্যও সহায়তাহীন বুদ্ধির জ্ঞানের দ্বারা পুর্তির আবশ্যকতা যা আমরা ঈশ্বরীয় জ্ঞান দ্বারাই প্রাপ্ত হয়ে থাকে।
(iii) এই বিষয়ে গ্রীক দার্শনিক প্লেটো লিখেছে - we will waite for one, be He a God or an inspire man to instrut us in religious duties and to take away the darkness from our eyes, we must sieze upon the best human views in navigating the dangerous sea of life, if there is no safer or less perious way, no stouter vesel, no Divine Reavelation, for making this voyage (phaedo)
অর্থাৎ ধার্মিক কর্তব্যের শিক্ষা দেবার জন্য আমরা পরমেশ্বর বা তার দ্বারা প্রেরিত কোন পুরুষের প্রতীক্ষা করা পড়ে যে আমাদের চোখের সামনের অন্ধকার দূর দেয়। এই মানব জীবনরূপী ভয়ংকর সমুদ্র কে উত্তমরূপে পার করার জন্য যদি আমাদের ঈশ্বরীয় জ্ঞান দ্বারা কোন প্রবল সাধন মিলা সর্বদা অসম্ভব হয় তো উত্তম থেকে উত্তম মানবীয় বিচারের উপর আমাদের নির্ভর প্রয়োজন পড়ে।
(iv) দার্শনিক সুকরাত ঈশ্বরীয় জ্ঞানের ব্যাপারে বলেছেন - You may resign yourself or sleep and give yourself upto despire, unless God in this goodness, shall reach safe to send you instruction.
অর্থাৎ তুমি যদি নিদ্রার প্রতি নিজেকে সমর্পন করে থাকো যা নিরাশের প্রবাহে বহমান থাকে যতক্ষণ পরমেশ্বর নিজ কৃপা দ্বারা তোমাকে শিক্ষা না দেয়।
উপরোক্ত পাশ্চাত্য প্রমান দ্বারা সিদ্ধ হয় যে জ্ঞানের আদি স্রোত ঈশ্বর। ভারতীয় দর্শন এবং বৈদিক বাঙ্ময় তো প্রারম্ভ থেকেই মান্য করে যে, মনুষ্য মাত্রের নৈমিত্তিক জ্ঞানের জন্য ঈশ্বরীয় জ্ঞানের আবশ্যকতা।
কপিল ঋষি বলেছেন -
ন পৌরষেয়ত্বং তত কর্তুঃ পুরুষস্যাভাবাত্।
নিজ শক্ত্যভিব্যক্তেঃ স্বতঃ প্রামাণ্যাত্।।
(সাংখ্যদর্শন ৫।৫১)
অর্থাৎ বেদের কর্তা কোন পুরুষ নয়। এইজন্য বেদ অপৌরষেয়। বেদ নিজ শক্তি দ্বারা স্বতঃ প্রমাণ।
মহর্ষি ব্যাসদেব বলেছেন -
অতএব চ নিত্যত্বম্
(বেদান্তদর্শন ১।২৯)
বেদের নিত্যতা সিদ্ধ। অতএব বেদ ঈশ্বরীয় জ্ঞান।
ইহার অতিরিক্ত বেদে অনেক মন্ত্র রয়েছে যাহা দ্বারা সিদ্ধ হয় যে সৃষ্টির আরম্ভে ঈশ্বরীয় জ্ঞানের আবশ্যকতা হয়েছে এবং এজন্য পরম ব্রহ্ম পরমেশ্বর সৃষ্টির আদিতে বেদজ্ঞান দিয়েছে যাতে সমস্ত মানব নিজ উন্নতি এবং মরণান্তে মোক্ষ কে প্রাপ্ত হতে পারে।
যেমনঃ
অপূর্বেণেষিতা বাচস্তা বদন্তি যথাযথম্।
বদন্তীর্যত্র গচ্ছন্তি তদাহুর্ব্রাহ্মণং মহত্।।
(অথর্ববেদ ১০।৮।৩৩)
অর্থাৎ সেই কারণ রহিত পরমাত্মা অপার কৃপা করে সৃষ্টির আদিতে মনুষের জ্ঞানের জন্য ব্রহ্মম - জ্ঞানেন উপদেশ দিয়েছেন যাহা দ্বারা আমরা যথার্থ জ্ঞান প্রাপ্ত হতে পারি।
উপরোক্ত প্রমাণ এবং শাস্ত্রীয় বচন দ্বারা সিদ্ধ হয় যে, মনুষ্যের সৃস্টির আদিতে নৈমিত্তিক জ্ঞানের আবশ্যকতা হয়। সেই ঈশ্বর ব্যতিত অন্য কেউ নেই যে এই জ্ঞান দান করতে পারে। যেমন পিতা নিজ পূত্রের কল্যাণার্থে সব প্রকার শিক্ষা দীক্ষা দিয়ে তাহার কল্যাণ চান। এই প্রকার ঈশ্বর নিজ সৃষ্টির কল্যাণার্থে সৃষ্টির সাথে ঋষির মাধ্যমে সত্য সনাতন পবিত্র বেদ জ্ঞান দান করেছেন যাতে মানুষ তাদের নিজ কর্তব্য অকর্তব্যের নির্ধারণ করতে পারে। ওঁ শান্তি।
Rudro Dev Arya